মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ঐশীর যাবজ্জীবন

এবিএনএ : নিজ পিতা-মাতাকে হত্যার দায়ে কন্যা ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তার মানসিক অসুস্থতা, মাদকাসক্ত, পারিবারিক ইতিহাস, সর্বোপরি বয়স বিবেচনা করে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ আজ সোমবার এ রায় দেয়।
গত ৭ মে হাইকোর্ট উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ করে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে। এরপরই মামলাটি রায়ের জন্য কার্যতালিকায় আনা হয়।
স্ত্রী, দুই সন্তান ও শিশু গৃহকর্মীকে নিয়ে মালিবাগের চামেলীবাগের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন পুলিশের বিশেষ শাখার (রাজনৈতিক) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট ওই বাসা থেকেই তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ রায় দেন। রায়ে পিতা-মাতাকে হত্যার দায়ে ঐশীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া তাকে আশ্রয় দেওয়ায় তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ঐশীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি কারাদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন ঐশী।
গত ১২ মার্চ এই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়। মোট ১৩ কার্যদিবস এই শুনানি চলে। শুনানির এক পর্যায়ে ঐশীকে হাইকোর্টে হাজির করে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন দুই বিচারক।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *