প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম ভোটার নিবন্ধিত

এবিএনএ : আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘দশ লাখ মুসলিম ভোটার’ নিবন্ধনের টার্গেট নিয়ে গত ডিসেম্বর থেকে প্রচারণা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটিগুলো। সমস্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আড়াই হাজারের অধিক মসজিদ, পাঁচশ’ স্কুল এবং বহু কমিউনিটি সেন্টারে বুথ স্থাপন করে এ কার্যক্রম চালানো হয়। যার ফলশ্রুতিতে এরই মধ্যে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইউএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশন (ইউএসসিএমও) ১০ লাখ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে । যার ফলে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম ভোটার নিবন্ধিত হল। খবর ভয়েস অব আমেরিকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি মুসলিম অভিবাসীদের ঢুকতে দেবেন না। এ মন্তব্যের কারণে সংখ্যালঘু এ সম্প্রদায়ের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন মুসলিম কমিউনিটিতে আরব ও দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীরা বেশি রয়েছেন। মুসলিম কমিউনিটিগুলো বলছে, ট্রাম্পের এসব ভীতিকর ও হিংসাত্মক বক্তব্যের জন্য মুসলিম কমিউনিটি ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর প্রচারণা শুরু করে। যার ফলে ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শ সংস্থা ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন’র (সিএআইআর) এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ নিবন্ধিত মুসলিম ভোটাররা এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।  এ জন্য ট্রাম্পকে রীতিমতো ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, “মুসলিম কমিউনিটির এ ধরনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য আমি তাদের নয়, বরং ট্রাম্পকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ তারা ট্রাম্পের হিংসাত্মক প্রপাগান্ডায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং মুসলিমরা ভোট দেয়ার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন।” ইউএসসিএমও’র সাধারণ সম্পাদক উসমান জামান বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এ নির্বাচনে ১০ লাখের সীমানা আমরা এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গেছি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এ বছর হাজার হাজার নতুন মুসলিম ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাসে এত বেশিসংখ্যক ভোটার নিবন্ধ করেননি।” জামাল আরও জানান, “যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি এবং মুসলিমবিরোধী ঘৃণাচর্চা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি নেতারা ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ফলে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে।” ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৩ লাখ মুসলমানের বাস, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ। এদের মধ্যে ১৫ লাখ মুসলিম ভোট দেয়ার যোগ্য। এসব মুসলিমদের নিবন্ধন নিশ্চিত করার জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আড়াই হাজারের বেশি মসজিদ, ৫০০ স্কুল এবং বহু কমিউনিটি সেন্টারে বুথ স্থাপন করে কার্যক্রম চালানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ঈদুল আজহার ছুটিতে বড় ধরনের সাড়া মেলে বলে জানায় সিএআইআর। সিএআইআর জানায়, ২০১২ সালের নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য আনুমানিক পাঁচ লাখ মুসলিম ভোটার নিবন্ধিত হয়েছিলেন। অক্টোবরে তাদের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ ভাগ মুসলিম ভোটার ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেবেন। অন্যদিকে ট্রাম্পকে ভোট দেবেন মাত্র ৪ ভাগ ভোটার।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *