আকবর হোসাইন আটলান্টিক সিটি থেকে: গত দশ সেপ্টেম্বর থেকে চৌদ্দ সেপ্টেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত আটলান্টিক সিটিতে পাঁচদিন ব্যাপী ‘গনেশ চতুর্থী উৎসবের মধ্যে দিয়ে পথচলা শুরু করল রেজিস্টার্ড নন-প্রপিট অর্গানাইজেশান এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটি।যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি রাজ্যের লে. গভর্নর শীলা অলিভার পাঁচদিনব্যাপী ‘গনেশ চতুর্থী উৎসব’ এর উদ্ভোধন করেন।গনেশ চতুর্থী উৎসবকে ঘিরে সাউথজার্সীতে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়সহ বাংলাদেশী এবং ইন্ডিয়ানদের মধ্য তৈরী হয়েছিল সাজ সাজ রব। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মধ্যে ছিল গনেশ পুজা, ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান, সম্মাননা স্মারক প্রদান, সংগীত রজনী, প্রসাদ বিতরণ, গর্বা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে লে. গভর্নর শিলা অলিভার বলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির গভর্নর বিভিন্ন সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারন বিভিন্ন দেশ, জাতি এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে সমৃদ্ধ হয়েছে নিউজার্সী অঙ্গরাজ্য। তিনি মার্কিন সমাজ বিনির্মানে দক্ষিন এশিয়ান কমিউনিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাঁচ দিনব্যাপী ‘গনেশ চতুর্থী উৎসব’ এর তৃতীয় দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি রাজ্যের কংগ্রেসম্যান জেফ ভ্যান ড্রিউ। কংগ্রেসম্যান ড্রিউ গনেশ উৎসবের পূজা মন্ডপ প্রাঙ্গণে ভক্ত এবং সুধী সমাবেশে বলেন, মানুষ, মানবতা, মানবিকতার প্রতি আস্থাই হচ্ছে পরম ধর্ম। মানবতার কল্যাণ সাধন করাই সব মানুষের ব্রত হওয়া উচিত এবং একই দিন উপস্থিত ভক্ত এবং সুধীবৃন্দের সাথে চলমান নানা ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন। উৎসবের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত ছিলেন স্টেট সিনেটর ভিন গোপাল, এ্যাসেম্বলিম্যান ভিন্স ম্যাজিও, এ্যাসেম্বলিম্যান জন আরমাতো, আটলান্টিক সিটির কাউন্সিলরবৃন্দ, আটলান্টিক সিটি স্কুল সুপারিনটেনডেন্ট ব্যারি কেলওয়েল, আটলান্টিক কাউন্টির ডেমোক্র্যাট কমিটির চেয়ারম্যান মাইক সুলেমান সহ মূলধারার রাজনীতিক ও বিভিন্ন কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ।
সঠিক নেতৃত্বের অভাবে যেখানে সাউথজার্সীর সামাজিক সংগঠনগুলো এক দিনের অনুষ্ঠিত করতে হিমশিম খাচ্ছিল সেখানে আটলান্টিক সিটির পপ লয়েড ষ্টেডিয়ামে এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির নেতৃবৃন্দের ৫ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন গত দুই দশকের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনে ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে । এই অসম্ভব কাজটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির সভাপতি এবং আটলান্টিক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্ট অফিসার পদে কর্মরত সূমন মজুমদার,বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব আটলান্টিক সিটির সভাপতি এবং এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির বোর্ড অব ডাইরেক্টর আকবর হোসাইন,বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব আটলান্টিক সিটির সাধারন সম্পাদক এবং এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির ট্রেজারার মোঃ শাহীন, এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির সাধারন সম্পাদক এবং সিটির পঞ্চম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনজুম জিয়া,ইন্ডিয়ান কমিউনিটি এক্টিভিস্ট এবং এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক বিনোদ ভেলো,আটলান্টিক সিটির স্কুল বোর্ড সদস্য এবং বিশিষ্ঠ সাংবাদিক সুব্রত চৌধুরী এবং কমিউনিটি নেতা প্রভীন ভিগসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।।
সূমন মজুমদার বলেন ৫দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত উৎসবের মাধ্যমে আমরা এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির পথচলা শুরু করলেও বাংলাদেশ,পাকিস্তান এবং ভারতের বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছাড়াও সাউথ এশিয়ানদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই হবে আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন আমরা কোন সংগঠনের প্রতিদ্বন্দী নয়। বিভিন্ন দেশের সংগঠনের সাথে সহযোগী হিসাবে কাজ করাই হবে আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন গত কয়েক বছর ধরে সাউথজার্সীতে বসবাসরত সাউথ এশিয়ানদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড সম্পাদনের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে আমরা কয়েকজন মিলে একটা ভাল প্লাটফর্ম খুজতেছিলাম কিন্তু সামাজিক স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারনে সম্ভব হয়ে উঠেনি অন্যান্য সংগঠনের সাথে কাজ করার। তারপরও ২০১৮ সাল থেকে আমরা অর্ধ শতাধিক উদ্যমী সমাজ কর্মীদেরকে নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে আর্থিক সংকটে ভুগছেন এধরনের ব্যক্তিবর্গদেরকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, চাকুরী পাওয়ার জন্য সহযোগিতা প্রদান, খেলাধূলার আয়োজন,গত দুই বছরে করোনাকালীন সময়ে পিপিপি লোন,আনএমপ্লয়মেন্ট পাওয়ার জন্য পেপার প্রসেসিংয়ের কাজে সহায়তা প্রদান,ফুড স্ট্যাম্প, এবং হেলথ বেনিফিট পাওয়ার জন্য সহযোগিতার পাশাপাশি নানাবিধ বিষয়ে কাজ করে আসছিলাম।
দীর্ঘ সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে সাথে নিয়ে এ বছর আমরা এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটি নামে একটি রেজিস্টার্ড নন-প্রপিট অর্গানাইজেশান গঠন করি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যক্রম শুরু করি। ইতিমধ্যে সংগঠনের রেজিস্ট্রেশান সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যাবলী সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান আগামীতে সংগঠনের ব্যাপ্তি বাড়ানোসহ এবং সামাজিক কাজে নিয়োজিত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা ঘোষনা করবেন বলে তিনি জানান।সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলম্যান আনজুম জিয়া জানান আমি ইতিমধ্যে সিটিতে বসবাসরত সাউথ এশিয়ানদের জীবন মান উন্নয়নে জন্য কাজ করে আসছিলাম। আগামীতে এশিয়ান এমেরিকান সোসাইটি অব আটলান্টিক সিটির মাধ্যমে কাজ করা আমার জন্য আরও সহজ হবে।

Leave a Reply