ওসি মোয়াজ্জেমকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে : ওবায়দুল কাদের

এবিএনএ : মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও নুসরাতের কথোপকথনের অডিও ফাঁস করে দেওয়া ফেনীর সোনাগাজী থানার তৎকালীন সেই ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কোনো গাফিলতি, কোনো দুর্বলতা নেই। সরকার প্রধান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে এবং সে কারণে কারও এখানে শৈথিল্য দেখানোর অবকাশ নেই। তিনি (ওসি মোয়াজ্জেম) ধরা পড়েননি, হয়তো শিগগিরই শুনতে পারবেন যে ধরা পড়েছে।’

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। এদিকে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। এতে মোট ২১ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটের ১৬ জনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আদালত। এ মামলা থেকে আদালত বাকি ৫ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২০ জুন দিন ধার্য করেছেন।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে যেসব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমল নেওয়া হয়েছে তারা হলেন- মাদ্রাসা অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯),ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন-নূর হোসেন, আলা উদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল এবং আরিফুল ইসলাম।এদিকে, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ২ মাস পূর্ণ হলো আজ। এর আগে, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরিন আক্তার। মামলাটি তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে সিরাজ উদ দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *