Tag: হজ ২০২৬

  • হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    এবিএনএ: চলতি বছরের হজকে সামনে রেখে মিনায় অস্থায়ী তাঁবুর শহর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজির আবাসন নিশ্চিত করতে বিশাল এই অস্থায়ী নগরী গড়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    পুরো মিনা এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু স্থাপন, চলাচলের পথ উন্নয়ন এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি হাজিদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

    হাজিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প, জরুরি সহায়তা কেন্দ্র এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে অসুস্থ বা বয়স্ক হাজিরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

    বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজিদের কথা মাথায় রেখে পরিবহন ব্যবস্থা ও বিশ্রামস্থল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এতে তাদের চলাচল সহজ হবে এবং ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া প্রতিটি তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মান যাচাই করা হচ্ছে কঠোরভাবে। হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

  • ২০২৬ হজের প্রস্তুতিতে বড় ঘোষণা, রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে ভিসা ইস্যু

    ২০২৬ হজের প্রস্তুতিতে বড় ঘোষণা, রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে ভিসা ইস্যু

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। ১৪৪৭ হিজরি সনের হজের জন্য আগামী রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    মন্ত্রণালয় জানায়, হাজিদের আগমনের বহু আগেই সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভিসা ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করা।

    ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় বিশ্বব্যাপী হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রাথমিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁবু, আবাসন ও পবিত্র স্থানসংক্রান্ত তথ্য আগেভাগেই সরবরাহ করা হয়েছে।

    ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসন ও প্রয়োজনীয় সেবা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যক্রম শুরু হয় রবিউল আউয়াল মাস থেকে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হাজি নিবন্ধন ও পরিচালনাগত তথ্য চূড়ান্ত করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনার আবাসন, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবার চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হলেও মার্চে তা চূড়ান্ত করা হবে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক হাজিরা দেশটিতে প্রবেশ করতে শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়েই হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ হাজি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় আর্থিক লেনদেন ও বুকিং প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হচ্ছে।

  • সময় ফুরোচ্ছে, প্রস্তুতি নেই! সৌদিতে বাড়ি ভাড়া জটিলতায় হজযাত্রা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    সময় ফুরোচ্ছে, প্রস্তুতি নেই! সৌদিতে বাড়ি ভাড়া জটিলতায় হজযাত্রা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: হজের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও সৌদি আরবে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়ার কাজ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এতে শেষ পর্যন্ত অনেক হজযাত্রীর হজে যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট লিড হজ এজেন্সিগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ৩০টি লিড এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী হজ এজেন্সির কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাবেন।

    সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বারবার তাগিদ সত্ত্বেও নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ২৬ জানুয়ারির অগ্রগতি প্রতিবেদনে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, মক্কায় মাত্র ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মদিনায় ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মাত্র একটি করে এজেন্সি মক্কা ও মদিনায় শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে পেরেছে। একটি এজেন্সি এখনো কার্যক্রম শুরুই করেনি, বাকিগুলো আংশিক অগ্রগতি দেখিয়েছে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো সমন্বয়কারী এজেন্সি লিড এজেন্সিকে সহযোগিতা না করলে তা লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা না করায় ‘কালকিনী হজ ট্রাভেলস’ নামের একটি এজেন্সির কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে মন্ত্রণালয়। এজেন্সিটির অধীনে ৩৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধিত থাকলেও বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। মন্ত্রণালয়ের মতে, এজেন্সির দেওয়া ব্যাখ্যা হজ ব্যবস্থাপনা আইনের লঙ্ঘনের শামিল। এ কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

  • হজযাত্রীদের জন্য ৫ অক্টোবরের মধ্যে লিড এজেন্সি গঠনের নির্দেশ

    হজযাত্রীদের জন্য ৫ অক্টোবরের মধ্যে লিড এজেন্সি গঠনের নির্দেশ

    এবিএনএ: আগামী বছরের হজ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জানানো হয়েছে, কোনো এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা দুই হাজারের কম হলে তারা সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে লিড এজেন্সির অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবরের মধ্যে লিড এজেন্সি গঠন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী ১২ অক্টোবর শেষ হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করে প্রতিটি এজেন্সিকে ন্যূনতম দুই হাজার হজযাত্রী পূর্ণ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬’।

    উল্লেখিত গাইডলাইনের ১৩ (২) ও (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লিড এজেন্সি ও সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে একই ধরনের প্যাকেজে হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। ফলে হজ কার্যক্রমে একক নীতিমালা বজায় থাকবে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সব যোগ্য এজেন্সিকে লিড এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। সরকার অনুমোদিত ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ বা ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬’-এর ভিত্তিতে অতিরিক্ত দুটি প্যাকেজও ঘোষণা করা যাবে।

    গত ২৮ সেপ্টেম্বর ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

    • প্যাকেজ–১: ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা

    • প্যাকেজ–২: ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা

    • প্যাকেজ–৩: ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা

    এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অনুমোদিত সাধারণ হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৮৫ টাকা। এই প্যাকেজের পাশাপাশি এজেন্সিগুলো আরও দুটি ভিন্ন প্যাকেজ ঘোষণার সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়।