Tag: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: এক সপ্তাহে ১৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে প্রতিদিন

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: এক সপ্তাহে ১৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে প্রতিদিন

    এবিএনএ: দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বছরজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩৫ জনে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রোগী।

    অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবারের মধ্যে বরিশাল বিভাগে সর্বাধিক ১২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৯৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা বিভাগে ৮৫ জন করে মোট ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮০ জন, রাজশাহীতে ৫৫ জন, খুলনায় ৩২ জন, ময়মনসিংহে ১৭ জন, রংপুরে ৩ জন এবং সিলেটে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৩৫ জন। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেই সর্বাধিক ৬৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, বরিশালে ১৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২ জন, রাজশাহীতে ৬ জন, খুলনায় ৫ জন এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি ৫২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১৮৪ জন।

    উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে দেশে সর্বাধিক ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং ওই বছরই রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ঘটে।

  • ডেঙ্গুতে নতুন করে দুই প্রাণহানি, তিন দিনে মৃত্যু ৫ জনের

    ডেঙ্গুতে নতুন করে দুই প্রাণহানি, তিন দিনে মৃত্যু ৫ জনের

    এবিএনএ:  ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বুধবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪৫ জন এবং মারা গেছেন দুই নারী রোগী। এ নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের তিন দিনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ জনে, আর আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৪৭০ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২৭ জন। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ ও ৫৭ জন নারী। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৯৪৬ জন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৬৮৮ জন পুরুষ ও ১৩ হাজার ২৫৮ জন নারী।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম (৯৮ জন) ও বরিশাল বিভাগে (৭৮ জন)। ঢাকার দক্ষিণে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন, উত্তরে ৫৯ জন, ঢাকার বাইরে বিভাগে ৬৯ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ২৪ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, রংপুরে ৬ জন এবং সিলেটে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত এক দিনে ৪১৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ২৩০ জন ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    মৃতদের মধ্যে একজন ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৫ বছরের নারী, যিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অপরজন বরিশালের, তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪১ জনের মৃত্যু হয় ডেঙ্গুতে। জুনে মারা যান ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন ও মে মাসে ৩ জন। মার্চ মাসে কোনো মৃত্যু হয়নি। আগস্টে মৃত্যু হয় ৩৯ জনের।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩১১ রোগী

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩১১ রোগী

    এবিএনএ:  ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে দেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং দু’জন রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই সময়ে নতুন করে ৩১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৮২ জন। তাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১১০ জন।

    বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি— ৯ হাজার ৩৭০ জন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৩৩ শতাংশ। তবে মৃত্যুর দিক থেকে এগিয়ে ঢাকা মহানগর, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি।

    বয়সভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা। এ বয়সে আক্রান্ত ১০ হাজারেরও বেশি রোগী, যা মোট সংক্রমণের ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি। মৃত্যুও সবচেয়ে বেশি হয়েছে এই বয়সে— ৩১ জন।

    গত একদিনে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকায় ১১২ জন, বরিশালে ৮২ জন, ঢাকা বিভাগের বাইরে ৪২ জন, চট্টগ্রামে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, খুলনায় ১৫ জন এবং ময়মনসিংহে ২ জন। তবে রংপুর ও সিলেটে কোনো নতুন রোগী ভর্তি হয়নি।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ৮৫৩ জন এবং রাজধানীতে ৪৪০ জন।

    মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১৬১ জন এবং মৃত্যু হয় ১০ জনের। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ৩৭৪ জন, মৃত্যু ৩ জন। মার্চে আক্রান্ত ৩৩৬ জন হলেও কোনো মৃত্যু হয়নি। এপ্রিলে আক্রান্ত ৭০১ জন ও মৃত্যু ৭ জন। মে মাসে আক্রান্ত ১ হাজার ৭৭৩ জন ও মৃত্যু ৩ জন। জুনে আক্রান্ত ৫ হাজার ৯৫১ জন এবং মৃত্যু ১৯ জন। জুলাই মাসে আক্রান্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৬৮৪ জন ও মৃত্যু ৪১ জন। চলতি আগস্টে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮০২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের।

    উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ২০২৩ সালে, যখন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালেও আক্রান্ত হন ১ লাখের বেশি মানুষ এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

  • ডেঙ্গুতে ফের দুই প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৯৫ জন

    ডেঙ্গুতে ফের দুই প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৯৫ জন

    এবিএনএ:  

    দেশজুড়ে ফের ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী।

    রোববার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে রয়েছেন ৫৮ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, ঢাকার বাইরের এলাকায় ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৪ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৫০ জন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জন, রাজশাহীতে ৪৮ জন, রংপুরে ৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নতুন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯৩ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৪ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ হাজার ৬৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।

    গত এক দিনে মৃত্যুবরণকারী দুইজনের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম বিভাগ ও অন্যজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়ালো ৮৬ জনে।

    ২০২৪ সালে পুরো বছরজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেন ৫৭৫ জন। আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল আরও ভয়াবহ—আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণই পারে মৃত্যুর হার কমাতে।

  • সারাদেশে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৩ জন

    সারাদেশে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৩ জন

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী। তবে এ সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রোববার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন বিভাগে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নিচের মতো:

    • বরিশাল বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ১১১ জন

    • চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৫১ জন

    • ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৫৪ জন

    • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ৬৪ জন

    • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৫৯ জন

    • ময়মনসিংহ বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৩ জন

    এছাড়া একই সময়ে ৩৩৭ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৬৭০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮.৮% পুরুষ এবং ৪১.২% নারী

    ডেঙ্গুতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন। আর ২০২৩ সালে ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র—তখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

  • আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, জুলাইয়ে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগী

    আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, জুলাইয়ে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগী

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন, অথচ শুধু জুলাই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪০৬ জন।

    সর্বশেষ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং মারা গেছেন দুজন পুরুষ। এ নিয়ে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। এর মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) সর্বোচ্চ ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার ভেতরে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলে ৬২ জন, রাজশাহীতে ৪৫ জন, খুলনায় ২৩ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে—৩৯ জন। জুনে মারা গেছেন ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন এবং মে মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

    বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়—৪৬ জন। বরিশালে মারা গেছেন ১৬ জন। দক্ষিণাঞ্চলের এ বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

    জুলাইয়ে রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগস্টের পরিস্থিতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, “২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু বাংলাদেশে শুরু হলেও আজও এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি। মশা নিধন কার্যক্রমে বাস্তবায়নহীনতা ও সমন্বয়ের অভাবই সংক্রমণ বাড়ার মূল কারণ।”

    তিনি আরও বলেন, “আগস্টে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। এখনই নতুন পরিকল্পনা ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি ৪০৯

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি ৪০৯

    এবিএনএ:  দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৯ জন। এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ও চট্টগ্রাম বিভাগে, যথাক্রমে ৭৪ ও ৭২ জন। ঢাকা বিভাগের বাইরের জেলাগুলোতে ৬৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩২ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন।

    এছাড়াও, খুলনায় ২৮, রাজশাহীতে ৫১, ময়মনসিংহে ১১, রংপুরে ১৬ এবং সিলেটে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    গত এক দিনে ৫৩০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২৯ জনে। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী রোগী ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।

    সর্বশেষ তিনজন মৃত্যুসহ এ বছরের মোট ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৬ জনে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

  • একদিনে ডেঙ্গু কেড়ে নিল ২ প্রাণ, করোনায় আরও এক মৃত্যু, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

    একদিনে ডেঙ্গু কেড়ে নিল ২ প্রাণ, করোনায় আরও এক মৃত্যু, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

    এবিএনএ: ডেঙ্গু ও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে ঢাকায় এক তরুণী এবং চট্টগ্রামে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি মারা যান। পাশাপাশি চট্টগ্রামেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।

    ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ বছর বয়সী তরুণী মারা যান, তিনি রাজধানীর কালশীর বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা নুরুল আলম (৬৫) শুক্রবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শনিবার রাতে মারা যান।

    করোনায় মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ওই দিন ২১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও নতুন করে করোনা আক্রান্তের কোনো তথ্য মেলেনি।

    চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন, যা বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড় করিয়েছে ৫৬-তে।

    রবিবার একদিনেই সারা দেশে ৪২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৮০ জনে। জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৪ জন।

    বিভাগভিত্তিক মৃত্যু

    ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি, ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর বরিশালে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। বাকি বিভাগগুলোতে মোট মৃত্যু ১২ জন।

    ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কবার্তা

    রোগতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শেষভাগ থেকে আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছি এবং আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করছি।”

    করোনা: শনাক্ত নেই, মৃত্যু আছে

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ২০ লাখ ৫২ হাজার ২২০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৯ হাজার ৫২৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জন আক্রান্ত ও ২৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

    দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়।

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে প্রাণ হারালেন ৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে প্রাণ হারালেন ৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২

    এবিএনএ: সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৯২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১৫৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।

    এ সময়ের মধ্যে ৪১১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৪০৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৭৬৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এই মুহূর্তে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ডেঙ্গুর দাপটে হাসপাতাল ভরছে, জুলাইয়ের প্রথম তিন দিনে ভর্তি ১১৬০ জন

    ডেঙ্গুর দাপটে হাসপাতাল ভরছে, জুলাইয়ের প্রথম তিন দিনে ভর্তি ১১৬০ জন

    এবিএনএ: সারা দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত তিন দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। শুধু আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার একদিনেই ভর্তি হয়েছিলেন ৪১৬ জন, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ একদিনে ভর্তি। ফলে জুলাই মাসের প্রথম তিন দিনেই রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬০ জনে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের।

    সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে—১৫০ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি ৭৮ জন এবং অন্যান্য বিভাগে যথাক্রমে ঢাকা বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রামে ৩২ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, খুলনায় ১৪ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং সিলেটে ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৯ জন।

    চীন দিল ১৯ হাজার ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট

    ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সহায়তার অংশ হিসেবে চীন সরকার বাংলাদেশকে ১৯ হাজার ‘কম্বো কিট’ দিয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে একসঙ্গে এনএস-১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষা করা যাবে। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কিট হস্তান্তর করা হয়।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি জানান, ডেঙ্গুর হটস্পট এলাকায় দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল, অ্যাম্বুলেন্স ও ডায়াগনস্টিক কিট পাঠানো হবে।

    তার দাবি, “পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে অনেকে জটিলতায় পড়ছেন।”

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা সহ চারটি ভাইরাস সক্রিয়। সাধারণ জ্বর ভেবে রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, যা চিকিৎসা জটিল করছে।

    অতীত রেকর্ড ভেঙে নতুন আশঙ্কা?

    ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৫৭৫ জন। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০২৩ সাল, যেখানে আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২২ সালেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজারের বেশি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এ বছরও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই জনসাধারণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছর ‘ভেক্টর কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ আরও জোরদার করা হবে এবং স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।