Tag: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

  • হাম ভয়াবহ রূপে, দেড় মাসে প্রাণ গেল ৪৩২ শিশুর

    হাম ভয়াবহ রূপে, দেড় মাসে প্রাণ গেল ৪৩২ শিশুর

    এবিএনএ: সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৭ জন। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে।

    বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৩ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৯ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৫০ জনে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৫৩ হাজার ৫৬ জন।

    স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ রোধে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১২৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক হিসেবে আরও ১৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন এবং উপসর্গসহ সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগী ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী—উভয় সংখ্যাই বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে মৃত্যুর ঘটনাও বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়লেও বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, র‍্যাশ বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • হাম আতঙ্ক বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু—হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    হাম আতঙ্ক বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু—হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    এবিএনএ: দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকি আট শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১০৫ শিশু। একই সময়ে ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে সরাসরি আক্রান্ত হয়ে ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৬৪ জন। এতে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

    এ সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসা মোট রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২৩১ জন। তাদের মধ্যে ভর্তি হতে হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ জনকে। পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার ৮৯৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৩০৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জ্বর, র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ: রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছয় মাস বয়সী যমজ কন্যা—রিসা ও রুহি। কয়েকদিন আগেও তাদের হাসিতে মুখর ছিল পরিবার। কিন্তু হামে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় রিসা। একই রোগে আক্রান্ত তার যমজ বোন রুহি এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

    হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মা কনিকা বেগমের কোলে নিথর এক সন্তান, আর সামনে আইসিইউতে লড়ছে অন্যজন। অসহায় এই মুহূর্তে তিনি বাকরুদ্ধ। স্বজনদের চোখে জল না থাকলেও মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট শোকের গভীরতা।

    শিশুদের মামা তানভীর হোসেন জানান, জন্মের পর থেকেই দুই বোনই ছিল প্রাণবন্ত। তাদের বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব চেষ্টা করা হয়েছে। একজনকে হারানোর পর এখন অন্যজনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গাজীপুর থেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরের পর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রিসাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

    চিকিৎসকদের মতে, হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। একই উপসর্গ নিয়ে রুহিকেও আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১০ মাসের কম। চিকিৎসকদের ভাষায়, তাদের বেশিরভাগই সংকটাপন্ন।

    হাসপাতালের আইসিইউর সামনে উদ্বিগ্ন অপেক্ষায় ছিলেন আরেক শিশুর স্বজন নুরুল হক। তার ১০ মাস বয়সী নাতনি জোবায়দা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। সাত দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। নাতনির অবস্থা জানতে বারবার আইসিইউতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও অনুমতি না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তিনি।

    অন্যদিকে, মিরপুর-১০ এলাকা থেকে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মুন্নি বেগম। হাম ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকায় জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন তারা। সন্তানের জীবন বাঁচাতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৬১ শিশু বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। গতকাল দুপুরে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে আইসিইউতে। আজ সকাল পর্যন্ত মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। ৫ এপ্রিল যেখানে ৩৯২ শিশুর মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছিল, তা পরদিন বেড়ে হয় ৪৭০ জন। সর্বশেষ সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। একই সময়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের।

  • হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে: ২২ দিনে ১১৩ মৃত্যু, একদিনেই আক্রান্ত প্রায় হাজার!

    হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে: ২২ দিনে ১১৩ মৃত্যু, একদিনেই আক্রান্ত প্রায় হাজার!

    মনোয়ার হোসেন অপু ,এবিএনএ: দেশে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মিজেলস বা হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ দিনে সারাদেশে হাম সন্দেহে মোট ৭ হাজার ৬১০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৯২৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যদিও পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।

    শুধু গত ২৪ ঘণ্টার চিত্রও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এই সময়ে হাম সন্দেহে মারা গেছে ১০ জন এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৪ জন। একই সময়ে ৬৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে ৩ হাজার ২৫৯ জন শিশু হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬৮। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেও শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ঢাকা বিভাগের।

    মৃত্যুর দিক থেকেও কিছু অঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি গুরুতর। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে, এরপরেই রয়েছে ঢাকা বিভাগ। তবে ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে এই সময়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু: হামের উপসর্গে দেশজুড়ে আতঙ্ক, দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু: হামের উপসর্গে দেশজুড়ে আতঙ্ক, দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এখন পর্যন্ত ৯ জন শিশুর মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ হাজার ৭৯২ শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৭৭১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

    একই সময়ে ৭১১ শিশুর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিক নির্দেশ করে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৪৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ১৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

    বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগে ৮ জন, খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

    হামের লক্ষণ ও সতর্কতা:
    চিকিৎসকদের মতে, হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। শুরুতে সর্দি, কাশি, জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপ্লিক স্পট) দেখা দেয়।

    পরবর্তীতে ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা প্রথমে মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই র‍্যাশ সাধারণত কয়েকদিন স্থায়ী হয় এবং পরে মিলিয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু—হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৪৫৫, পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু—হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৪৫৫, পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক

    এবিএনএ: দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার আবারও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪৫৫ জন ডেঙ্গুরোগী।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডেঙ্গু রোগীর চাপ এখনও বিভিন্ন বিভাগে সমানভাবে বাড়ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন, চট্টগ্রামে ৫১ জন, ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরে ৫৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০৬ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন।

    এ ছাড়া খুলনায় ৪৪ জন, ময়মনসিংহে ৩২ জন, রাজশাহীতে ৪৮ জন, রংপুরে তিনজন এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    এদিকে একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৮৮ জন রোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯৬ হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা শেষে ঘরে ফিরেছেন।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ২৮৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক চার শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ছয় শতাংশ নারী।

    গত ২৪ ঘণ্টার দুইজনসহ চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৩৯৮ জন। এর তুলনায় ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান ৫৭৫ জন এবং আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজারেরও বেশি মানুষ। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছায় ১,৭০৫-এ, এবং হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখের বেশি রোগী।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা কমলেও মৃত্যুহার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে, তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের বিক্ষোভে অচল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবা বন্ধ দেশে

    দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের বিক্ষোভে অচল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবা বন্ধ দেশে

    এবিএনএ: বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ছয় দফা দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চত্বর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাজারো স্বাস্থ্য সহকারী প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো এলাকা জিও জিও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষুব্ধ সহকারীরা। তারা জানান, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে।

    এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে সারাদেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে টিকা নিতে আসা মায়েরা ও নবজাতকরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। শীতের সকালে টিকা না পেয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য দেখা গেছে অনেক টিকাকেন্দ্রে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্য সহকারীরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া বন্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু বহু বছর ধরে দাবি উপেক্ষার কারণে তারা অবস্থান কর্মসূচিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি বাস্তবায়নের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলেই তারা কাজে ফিরে যাবেন বলে জানান।

    সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৭ বছর ধরে বারবার দাবি যৌক্তিক স্বীকার করলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, দেশে এমন বৈষম্যের শিকার আর কোনো সরকারি বিভাগ নেই।

    এদিন সকাল থেকে দেশের ৬৪ জেলা থেকে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা মহাখালীতে এসে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গত ২৯ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি চলছে। এর আগে ২৩ নভেম্বর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—২৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে।

    স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
    • নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমান যোগ্যতা যুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান
    • ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমাধারীদের ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ
    • ধারাবাহিক পদোন্নতি নিশ্চিত করা
    • প্রশিক্ষণ ছাড়াই সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা
    • বেতন স্কেল পূর্ননির্ধারণে পূর্বপ্রাপ্ত টাইম স্কেল ধরে রাখা
    • ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমর্যাদা প্রদান

    গত অক্টোবরে একই দাবিতে আন্দোলন হলেও প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠন।

  • ডেঙ্গুতে আবারও প্রাণহানি বাড়ল: একদিনে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৬৭ জন

    ডেঙ্গুতে আবারও প্রাণহানি বাড়ল: একদিনে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৬৭ জন

    এবিএনএ: ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ভর্তি হয়েছেন ১২৫ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৮৬ জন। এছাড়া ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ভর্তি হয়েছেন ৯২ জন। চট্টগ্রামে ভর্তি হয়েছে ৮৬ জন, বরিশালে ৬৯ জন, খুলনায় ৪১ জন, ময়মনসিংহে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন, রংপুরে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    তবে আশার খবর হলো, গত একদিনে ৫৮৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯০ হাজার ২১৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭৭ জন রোগী।

    গত কয়েক বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওই বছর মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার প্রভাব, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত মশা নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতাহীনতা—সব মিলিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন।

  • নভেম্বরেই ডেঙ্গু মৃত্যু এবারের সর্বোচ্চ, হাসপাতালে ভর্তি ছাড়ালো ৯০ হাজার

    নভেম্বরেই ডেঙ্গু মৃত্যু এবারের সর্বোচ্চ, হাসপাতালে ভর্তি ছাড়ালো ৯০ হাজার

    এবিএনএ:  দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ জনে। এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।

    গত একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭০৫ জন। ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৯০ হাজার ৯৬৯ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৮ হাজার ২৫৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২ হাজার ৭১১ জন ডেঙ্গু রোগী।

    মৃত্যুর মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের নভেম্বরেই সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয়েছিল ৮০ জনের, আর সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৬ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০ জন ও ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয় ৩ জনের।

    মার্চ ছিল ডেঙ্গুমুক্ত। তবে এপ্রিল ও মে মাসে যথাক্রমে ৭ ও ৩ জনের মৃত্যু হলেও জুন থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। জুনে মৃত্যু হয় ১৯ জনের, জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে এবং আগস্টে মৃত্যু হয় ৩৯ জনের।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তন, পানি জমে থাকা এবং পর্যাপ্ত সতর্কতা না নেওয়ায় ডেঙ্গু সংক্রমণ সীমাহীনভাবে বাড়ছে। সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং মশা নিয়ন্ত্রণই ডেঙ্গু মোকাবিলার মূল উপায়।