Tag: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    এবিএনএ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে সচিবালয়ে নিয়োজিত এবং বিভিন্ন অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা পেশাগত অদক্ষতার অভিযোগে চিহ্নিত সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    বদলির আওতায় থাকা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সচিবালয়ের বিভিন্ন গেটের নিরাপত্তাকর্মী, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন

    শুধু জনবল পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের উদ্যোগ। সচিবালয়ের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় বসানো হবে এআই-ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তি।

    নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অস্ত্র ও মাদক শনাক্তকরণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    নতুন পদায়নে গুরুত্ব পাচ্ছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স

    সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা যাচাই বা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও গোপন নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    বদলি ঘিরে চলছে তদবির

    বদলির তালিকা প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। কেউ কেউ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে আগের দায়িত্বে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

    বিশেষজ্ঞদের মত কী?

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর রোটেশন বা বদলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নিরাপত্তা চর্চা।

    তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র সময় বিবেচনায় গণহারে বদলি না করে প্রতিটি সদস্যের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় দক্ষ ও নিরপেক্ষ সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    দর্শনার্থী পাসেও আসছে নতুন নিয়ম

    সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে দর্শনার্থী পাস ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য পাস ইস্যু করা হবে এবং প্রয়োজন শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সচিবালয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

  • দেশের নতুন আইজিপি হিসেবে আলী হোসেন ফকিরের নিয়োগ

    দেশের নতুন আইজিপি হিসেবে আলী হোসেন ফকিরের নিয়োগ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। বাগেরহাটের কৃতি সন্তান মো. আলী হোসেন ফকিরকে দেশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এতদিন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন–এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–এর পুলিশ-১ শাখা। প্রজ্ঞাপনে উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদের স্বাক্ষর রয়েছে।

    পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা আলী হোসেন ফকির কর্মজীবনে নানা চড়াই-উতরাই পার করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি প্রথমে চাকরিচ্যুত হন এবং পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

    তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি পুনর্বহাল হন। প্রথমে এসপি পদমর্যাদায় দায়িত্ব ফিরে পান এবং পরে সুপার নিউমারারি হিসেবে ডিআইজি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

    দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে দেশের পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তার নিয়োগকে বাগেরহাটবাসী গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।

  • মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    এবিএনএ: নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে ‘মব কালচার’ আর চলতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায়ের নামে সহিংস ভিড় বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়ালে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

    মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ বা স্মারকলিপি দেওয়ার অধিকার থাকবে—কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি আর গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক ধারায় থেকেই দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমাতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন রুটিন দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে নতুন মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

  • জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা মোতায়েনের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

    এর আগে বিজিবি জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৫১টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বাহিনীটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী সময় মিলিয়ে মোট সাত দিন সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকবে। পরিপত্র অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হয়ে চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এই নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন বাহিনীর ৮ লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশে ৪ হাজার এএসআই নিয়োগের ঘোষণা

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশে ৪ হাজার এএসআই নিয়োগের ঘোষণা

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার নতুন করে ৪ হাজার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই–নিরস্ত্র) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখার উপসচিব আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটের বিপরীতে ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) গ্রেড–১৪ পদ রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজনের সরকারি অনুমোদন প্রদান করা হলো।”

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অনুমোদিত পদগুলো সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি পদ সংরক্ষণ ও স্থায়ীকরণ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

    অর্থ বিভাগের জিও (GO) পৃষ্ঠাঙ্কনের তারিখ থেকে এই পদগুলো কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৩ সালের Police Resolution of Bengal অনুযায়ী পদ পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগের আরোপিত শর্তসমূহ সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।

  • ঢাকা সেনানিবাসের ভবনকে সাময়িক কারাগার ঘোষণা, সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার পরবর্তী পদক্ষেপ

    ঢাকা সেনানিবাসের ভবনকে সাময়িক কারাগার ঘোষণা, সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার পরবর্তী পদক্ষেপ

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (১২ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪১(১) ও দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট ১৮৯৪-এর ধারা ৩(বি) অনুযায়ী, সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এমইএস’ বিল্ডিং নং–৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

    সরকারের এই ঘোষণা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভবনটি কোন উদ্দেশ্যে সাময়িক কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ অক্টোবর সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, পরোয়ানাভুক্ত ১৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন সেনা হেফাজতে এসেছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে ‘ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট’ বা পলাতক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেনানিবাসের ভবনটিকে সাময়িক কারাগার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার প্রেক্ষিতেই গৃহীত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তবে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল। এরপর শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে। কিন্তু দুপুর ২টা থেকে আবারও কারফিউ পুনরায় চালু হবে এবং তা থাকবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত।

    এর আগে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং আংশিকভাবে কিছু সময়ের জন্য শিথিলতার কথা জানানো হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    এদিকে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত না হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার।

  • পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল: অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিসহ বদলি ১৬ কর্মকর্তা

    পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল: অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিসহ বদলি ১৬ কর্মকর্তা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধ্বতন পর্যায়ের ১৬ জন কর্মকর্তার দায়িত্বে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

    এই বদলির তালিকায় রয়েছেন ৫ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ১০ জন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়,

    • পুলিশ সদরদপ্তরের রেবেকা সুলতানাকে পাঠানো হয়েছে সিআইডিতে,

    • রাজশাহীর সারদার ফয়সল মাহমুদকে সিলেট রেঞ্জে,

    • এটিইউয়ের মো. আশরাফুল ইসলাম হবেন পুলিশ সদর দপ্তরে,

    • ফারুক আহমেদকে এপিবিএন সদরদপ্তরে,

    • এবং এসবির মো. মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে ঢাকার টিডিএস ইউনিটে

    পুলিশ সুপারদের মধ্যে যাঁরা বদলি হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন—

    • ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়া (হাইওয়ে পুলিশ) হবেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে,

    • সাখাওয়াত হোসেন (বরিশাল ইনসার্ভিস ট্রেনিং) যাবেন রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমে,

    • মো. খাইরুল ইসলাম (হাইওয়ে পুলিশ) যাবেন ট্যুরিস্ট পুলিশে,

    • খন্দকার নুর রেজওয়ানা পারভীন (পিবিআই) হবেন পুলিশ সদরদপ্তরে,

    • মীর আবু তৌহিদ (নোয়াখালী পিটিসি) যাবেন সিআইডিতে,

    • মো. মিজানুর রহমান (ট্যুরিস্ট পুলিশ) যাবেন এপিবিএনে,

    • আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (খুলনা) হবেন সিআইডিতে,

    • সৈকত শাহীন (কুষ্টিয়া ইনসার্ভিস ট্রেনিং) যাবেন শিল্পাঞ্চল পুলিশে,

    • কাজী মো. আবদুর রহীম (এটিইউ) যাবেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে,

    • এবং মো. আব্দুল্লাহ আল ইয়াছিন (সিআইডি) হবেন বরিশাল ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে

    এছাড়া, সিলেটের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আমিনুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে এসবিতে

    এই আদেশের মাধ্যমে দেশের পুলিশ প্রশাসনে আবারও একবার গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হলো, যা প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • পেহেলগামের হামলার পর যুদ্ধ প্রস্তুতি! ভারতের কয়েকটি রাজ্যে জরুরি মহড়ার নির্দেশ

    পেহেলগামের হামলার পর যুদ্ধ প্রস্তুতি! ভারতের কয়েকটি রাজ্যে জরুরি মহড়ার নির্দেশ

    এবিএনএ:  পেহেলগামে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের দিকে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের কয়েকটি রাজ্যকে যুদ্ধাবস্থার সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে এবং ৭ মে (বুধবার) দিনব্যাপী মহড়া পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে।

    সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েকটি রাজ্যে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির মহড়া চালানোর নির্দেশ দেয়।

    মহড়ার আওতায় থাকছে—বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো, নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে সচেতনতা কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের করণীয় নির্ধারণ, ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতিতে আচরণবিধি ও জরুরি উদ্ধার প্রক্রিয়া অনুশীলন।

    রবিবার রাতেই পাঞ্জাবের ফিরোজপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এক ঘণ্টার ‘ব্ল্যাকআউট ড্রিল’ পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট সময়ে যেন তারা বাড়ির আলো না জ্বালান এবং বাইরে দৃশ্যমান কিছু ব্যবহার না করেন।

    সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যেই ২২ এপ্রিল থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। রাতের ড্রিলের পর সাধারণ মানুষও বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছেন।

    পেহেলগামে হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “যারা শুধু হামলা চালিয়েছে নয়, যারা সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করেছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে কঠিন ও দৃশ্যমান।”

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ দিল্লির একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বলেন, “ভারতের জনগণ প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে জানেন। আমরা কঠোর জবাব দেব, এটি আমার প্রতিশ্রুতি।” তিনি যোগ করেন, “একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব দেশের সীমান্ত রক্ষা করা এবং যারা আমাদের দেশে হামলার সাহস দেখায়, তাদের শক্ত জবাব দেওয়া।”

    এই পরিস্থিতিতে ভারতজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং নাগরিকদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।