Tag: সেনাপ্রধান

  • সেনাপ্রধান ভোট শেষে বললেন: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সুষ্ঠু নির্বাচন উদযাপন

    সেনাপ্রধান ভোট শেষে বললেন: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সুষ্ঠু নির্বাচন উদযাপন

    এবিএনএ: সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৃহস্পতিবার রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দেড় বছর ধরে এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।

    তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সকল কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোট অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। জনগণ এখন পুরো পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন।” সেনাপ্রধানের এই বার্তা ভোটারদের নিরাপদে ভোট দিতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য বহন করছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়। ভোর থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ চলবে।

    এবারের নির্বাচনে মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ বসানো হয়েছে। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১,৭৫৫ জন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ৮৩ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১,২৩২ জন।

    শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট বাতিল হওয়ায় দেশের বাকি ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ একযোগে হচ্ছে।

  • নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর জন্য কড়া বার্তা: নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

    নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর জন্য কড়া বার্তা: নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণকালে এসব দিকনির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআরের তথ্যমতে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন সেনাবাহিনী প্রধান। পরিদর্শনকালে তিনি মাঠপর্যায়ের সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    সফরের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষেও অনুরূপ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মতবিনিময় সভাগুলোতে নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই সেনাবাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেটিই জনগণের আস্থার মূল ভিত্তি।

  • দেশ সংকটে পড়লে এগিয়ে আসে বিএনসিসি—ক্যাডেটদের ভূমিকায় সেনাপ্রধানের প্রশংসা

    দেশ সংকটে পড়লে এগিয়ে আসে বিএনসিসি—ক্যাডেটদের ভূমিকায় সেনাপ্রধানের প্রশংসা

    এবিএনএ: দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ক্যাডেটদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিএনসিসি ক্যাডেটরা প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাভারের বাইপাইল এলাকায় অবস্থিত বিএনসিসি অধিদপ্তরের ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত ‘বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং ক্যাডেটদের সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি বিএনসিসিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, বিএনসিসি কর্মকর্তা ও ক্যাডেটদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

    সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় ও সামাজিক পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও শৃঙ্খলাবোধে গড়ে ওঠা এই ক্যাডেটরা ভবিষ্যতে দেশের জন্য শক্তিশালী মানবসম্পদ হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আঙ্কারার আকাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ব্যক্তিগত জেট বিধ্বস্ত হয়ে নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান

    আঙ্কারার আকাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ব্যক্তিগত জেট বিধ্বস্ত হয়ে নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান

    এবিএনএ: তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর বহনকারী ব্যক্তিগত জেটটি বিধ্বস্ত হয়।

    দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন লিবিয়ার চারজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা ও তিনজন ক্রু সদস্য।

    আলজাজিরাকে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁদের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

    দুর্ঘটনায় নিহত অন্য সামরিক কর্মকর্তারা হলেন—লিবিয়ার স্থলবাহিনীর প্রধান জেনারেল আল-ফিতৌরি ঘারিবিব, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল-কাতাউই, চিফ অব স্টাফের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাবি ডায়াব এবং কার্যালয়ের সামরিক আলোকচিত্রী মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

    লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবিবাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আল-হাদ্দাদ ও তাঁর প্রতিনিধি দল সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    প্রধানমন্ত্রী দবিবাহ বলেন, এই দুর্ঘটনা লিবিয়ার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশ এমন কিছু নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিকে হারাল, যাঁরা সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা করে গেছেন।

    উল্লেখ্য, পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হিসেবে আল-হাদ্দাদ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিভক্ত লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো।

  • ‘নারী ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব’— জয়পুরহাটে ক্যাডেট পুনর্মিলনীতে সেনাপ্রধানের জোরালো বার্তা

    ‘নারী ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব’— জয়পুরহাটে ক্যাডেট পুনর্মিলনীতে সেনাপ্রধানের জোরালো বার্তা

    এবিএনএ:  সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই নারীদের বাইরে রেখে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা কখনোই বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, নারীদের যোগ্যতা, নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশ করতে পারলেই তারা জাতির অগ্রযাত্রায় আরও শক্তিশালী অবদান রাখতে পারবে।

    শুক্রবার সকাল ১১টায় জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের এটি ছিল দ্বিতীয় দিন। সেনাপ্রধান কলেজের পুনর্মিলনী প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন এবং অংশগ্রহণকারী সাবেক ও বর্তমান ক্যাডেটদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

    তিনি আরও বলেন, “অনেকে উচ্চতর শিক্ষায় এগিয়ে যান, ভালো ফলাফল করেন, পিএইচডিও অর্জন করেন। কিন্তু নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে তারা দেশের জন্য প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারেন না। তাই শুধু ভালো ছাত্র নয়, ভালো মানুষ হওয়াও জরুরি।”

    অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফুল হক এবং প্রাক্তন ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌসুমী শিখাও বক্তব্য রাখেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়া এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহাম্মেদ, সেনাপ্রধানের স্ত্রী কমলিকা জামান, জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব এবং কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

  • চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

    চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

    এবিএনএ:  সরকারি সফর শেষে বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নয়দিনের এ সফরে তিনি চীনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন।

    ২২ আগস্ট পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদর দপ্তরে পৌঁছালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি পিএলএর স্থল বাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার জেনারেল চেন হুইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামরিক শিল্প উন্নয়নে চীনের সহায়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    ২৩ আগস্ট সেনাপ্রধান চীনের নোরিনকো গ্রুপের প্রেসিডেন্ট চেন ডেফাংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের আধুনিকায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আলাপ হয়।

    চীন সফরের অংশ হিসেবে তিনি বেইজিংয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মির একাডেমি অব আর্মড ফোর্সেস ক্যাম্পাস ও সামরিক গবেষণাগার ঘুরে দেখেন। এ একাডেমিতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তারা কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

    গত ২০ আগস্ট সেনাপ্রধান এ সরকারি সফরে চীন যাত্রা করেন। তার এ সফরকে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ভালো মানুষ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়: মিলিটারি সম্মেলনে সেনাপ্রধানের শক্ত বার্তা

    ভালো মানুষ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়: মিলিটারি সম্মেলনে সেনাপ্রধানের শক্ত বার্তা

    এবিএনএ: দেশ ও জাতির টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, প্রয়োজন নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির—এমন বার্তাই দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    শনিবার (১৯ জুলাই) মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “ভালো মানুষ না হলে জাতি উপকৃত হয় না। আমরা শুধু ভালো প্রকৌশলী, ডাক্তার বা প্রশাসক তৈরি করলেই হবে না—তাদের হতে হবে সৎ, শৃঙ্খলাবান এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন। তাহলেই দেশের প্রকৃত উপকার হবে।”

    সেনাপ্রধান আরও বলেন, “এই সম্মেলন কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে। তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আমি বলব—সীমারেখা ভাঙো, উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে চলো। এমন সম্মেলন জীবনের একটি সোপান হতে পারে।”

    এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, মিশরসহ ১৪টির বেশি দেশের গবেষক ও পেশাজীবীরা। তারা যন্ত্রকৌশল, অ্যারোনটিক্যাল ও নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, নবায়নযোগ্য শক্তি, তাপপ্রকৌশল, ডিজাইন ও উৎপাদন, মেকাট্রনিক্সসহ বিভিন্ন শাখায় সাম্প্রতিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    এ সম্মেলন প্রযুক্তি, গবেষণা ও নৈতিক নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমধর্মী মঞ্চ হিসেবে প্রশংসা অর্জন করে। সেনাপ্রধান সকল অংশগ্রহণকারী ও অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন সম্মেলনের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

  • ঈদ শুভেচ্ছায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    ঈদ শুভেচ্ছায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    এবিএনএ:

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
    শনিবার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    দুই বাহিনীর প্রধানই তাদের সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, এই সৌজন্য সাক্ষাতে পারস্পরিক শুভকামনা ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তাঁরা।
    এ সময় দেশের সামগ্রিক কল্যাণ, শান্তি ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ঈদ মানেই সৌহার্দ্য, সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বন্ধন আরও দৃঢ় করার সময়। এই সাক্ষাৎ সে বার্তাই বহন করে।”

  • নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান সেনাপ্রধানের

    নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান সেনাপ্রধানের

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

    ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দেশে একটি অরাজক অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা দেশের জন্য চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

    সেনাপ্রধান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে, কেবল সেনাবাহিনী এখনো দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু এই দীর্ঘস্থায়ী মোতায়েন সেনাবাহিনীর মূল কাজ ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    তিনি বলেন, মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এখতিয়ারে পড়ে না। কেবলমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারই এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “There will be no corridor”।

    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর মতামত না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও বর্তমান সরকার তা করতে দেয়নি। ফলে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

    সেনাপ্রধান অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশের সংকটকে আরও গভীর করতে চায়, যাতে তারা নিজেদের সুবিধা আদায় করতে পারে।

    তিনি সরাসরি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অভিভাবকহীনভাবে দায়িত্ব পালন করা সেনাবাহিনীর জন্য একটি নির্বাচিত সরকার এখন প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যারাকে ফিরে যেতে পারবে।

    সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য পালন করে। জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকতে হবে এবং কোনো মহল যেন সেনাবাহিনী বা দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    শেষে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী কখনও এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না বা কাউকে নিতেও দেবে না, যাতে দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়। সবকিছু বিবেচনায়, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক সরকারকে দায়িত্ব দেওয়ার এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা করার।