Tag: সালাহউদ্দিন আহমেদ

  • সংবর্ধনায় চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: মঞ্চে থাকছেন একমাত্র তারেক রহমান

    সংবর্ধনায় চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: মঞ্চে থাকছেন একমাত্র তারেক রহমান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না—এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তি হয়—এমন কোনো কর্মসূচিতে তারেক রহমান কখনোই সমর্থন দেন না। সে কারণেই লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের উপস্থিত না হওয়ার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তারেক রহমানের নির্দেশ বাস্তবায়নে দেশে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান প্রথমেই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। এরপর তিনি তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। এসব বিবেচনায় রেখেই টানা তিন দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রাজধানীতে বড় কোনো সমাবেশ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা মানিকমিয়া অ্যাভিনিউতে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি।

    তার পরিবর্তে রাজধানীর এক পাশে অবস্থিত প্রশস্ত তিনশ ফুট মহাসড়কের সার্ভিস লেনের এক পাশে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া এবং দেশের সার্বিক কল্যাণের বার্তা দেবেন তারেক রহমান।

    সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানানো হয়, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া অন্য কোনো বক্তা থাকবেন না।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষণা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষণা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ

    এবিএনএ:  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে তিনি বলেন, “জনগণ যদি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষার জন্য আলাদা পদ সৃষ্টি করব এবং সেখানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করব।”

    তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান—তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংখ্যা নির্ধারণের সময় শিক্ষার্থীর অনুপাতের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ করতে হলে তা আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। কাউকে বঞ্চিত করা নয়, বরং সমতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। তার মতে, “জাতির নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তবেই একটি শক্তিশালী নৈতিক ভিত্তির ওপর জাতি গড়ে উঠবে।”

    সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবং অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    অন্যদিকে, একই দিনে নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “একটি দল শেখ হাসিনার মতোই মিথ্যাচার ও ভণ্ডামির রাজনীতি করছে। জনগণ এসব প্রহসন বুঝে ফেলেছে।”

    রিজভী আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকার দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে এবং এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের সহযোগিতায় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

  • আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণার পথে বিএনপি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী তফসিলের পর

    আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণার পথে বিএনপি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী তফসিলের পর

    এবিএনএ: বিএনপি খুব শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে শুধুমাত্র নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর, পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে।

    শুক্রবার গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিটি আসনে দুইজন নয়, অনেক আসনে পাঁচ থেকে দশজন পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী আছেন। তাই একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই হচ্ছে। খুব শিগগিরই একক প্রার্থীদের মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হবে।”

    তিনি আরও জানান, সব প্রার্থীর কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ধানের শীষের প্রতীকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। যাকেই প্রার্থী করা হবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা এখন কোনো নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি দিচ্ছি না। তবে জনসংযোগ ও প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কাজ জোরদার করছি।”

    জোট ও আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আলোচনা চলছে এবং যেসব আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি, সেগুলো নিয়েই মূলত সমঝোতা হবে। তবে এনসিপির সঙ্গে আসনভিত্তিক আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো তারা আন্দোলনকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে।”

    প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনেই কার্যকর হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে।”

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইসিটি কোর্টে মামলা করার। একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদ প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

  • ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    এবিএনএ: এক দেশে কীভাবে দুটি সংবিধান থাকতে পারে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আয়কর আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, সংবিধানের যেসব সংশোধনী বা সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেরি করা উচিত নয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—বর্তমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় নতুন সংস্কারের প্রয়োগ হলে দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন কোন সংবিধানের ভিত্তিতে চলবে? আদালতে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ করে বসে, তখন কে বলবে এই পরিবর্তনের অধিকার কার?

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের আলাপ-আলোচনা চলছে, বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তবে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদই উপযুক্ত ফোরাম। তিনি প্রস্তাব দেন, সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে পারে।

    তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা এখনো মন্ত্রিসভায় বিবেচনায় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে গ্রহণযোগ্য সংস্কারগুলো কার্যকর করতে পারে।

    আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন, তাদের জন্য বলছি—দেশ এখন নির্বাচনী আবহে। খুব শিগগিরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, আর তার প্রত্যাবর্তনই হবে নির্বাচনমুখী ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।”

  • জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    এবিএনএ: জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি। তবে তারা চায় না এই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। পরিবর্তে দলটি সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে “জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪” উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতিসহ একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১১তম দিনের সংলাপ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ হয় না। ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও মূল সংবিধানে ছিল না, বরং পরে তপশিলে যুক্ত হয়। একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানকেও চতুর্থ তপশিলে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।”

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ়ভাবে চাইছে—জুলাই ঘোষণা যেন সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় জায়গা পায়। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতিমালা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

    ঘোষণাপত্র ও সংবিধান বিতর্ক
    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, “সরকার এনসিপির ইচ্ছায় বিএনপির সঙ্গে ঘোষণাপত্র নিয়ে মধ্যস্থতা করছে। কিছুদিন আগে সরকারের এক উপদেষ্টা বিএনপিকে নতুন একটি খসড়া দিয়েছে, যাতে আগের মতামতের কিছু প্রতিফলন আছে।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি ও জুলাই অভ্যুত্থান একই তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

    এদিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “এই ঘোষণাকে তপশিলে রেখে গুরুত্ব খাটো করা চলবে না। এটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকতে হবে।”

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ভিন্ন মত
    সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন দুটি প্রস্তাব উঠে আসে। একটিতে সংসদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি—তিনটি দলই জানায়, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মত দেবে।

    বিএনপি চায়, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে একটি বিকল্প হিসেবে রাখার সুযোগ রাখা হোক। জামায়াত চায়, অতীতের মতোই সাবেক প্রধান বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের ধারা থাকুক। আর এনসিপি প্রস্তাব করেছে, সংসদের উচ্চকক্ষের ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হোক।

    প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ
    কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। জামায়াত, এনসিপি ও আরও কয়েকটি দল এই প্রস্তাবে একমত। তবে বিএনপি চায়—জ্যেষ্ঠ তিন বিচারপতির মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিন। পরবর্তীতে বিএনপি প্রস্তাব করে, জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্যে থেকেই নিয়োগ দেওয়া হোক।

    কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলবে। সালাহউদ্দিন জানান, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত নেই, তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন—এটাই বিএনপির আপডেট প্রস্তাব।

  • নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “আমরা কখনোই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু সরকার নাটক করে পদত্যাগ দেখিয়ে পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ সরকার, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এজন্য সবাইকে একসাথে হতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে এক নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ।”

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে “তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। কিন্তু সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিরোধী ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দুর্নীতি আমরা ভুলে যাচ্ছি। অথচ গণতন্ত্রের জন্য আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখনই সময় একজোট হওয়ার।”

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সালাহউদ্দিন বলেন, “ব্রিটিশ আমলে ২০০ বছরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যত সম্পদ লুট করেছে, আওয়ামী লীগ তার চেয়েও বেশি লুটপাট করেছে। তারা ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, ব্যাংক থেকে ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে, এবং বিদ্যুৎ ও ব্যাংক খাতেও ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে ৩৬টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে তারা নাকি বিদেশি এজেন্ট। আসলে এসব কথা বলছে তারাই, যারা গণতন্ত্র ও পরিবর্তনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    তারুণ্যের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
    বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

    এই সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে একটাই বার্তা—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

  • ড. ইউনূস সরে দাঁড়ালে বিকল্প বেছে নেবে দেশ: হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    ড. ইউনূস সরে দাঁড়ালে বিকল্প বেছে নেবে দেশ: হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ:

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে চলমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি স্থায়ী না হয় বা তিনি দায়িত্ব পালন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন, তবে রাষ্ট্র ও জনগণ বিকল্প খুঁজে নেবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    শুক্রবার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন বলেন, “ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা কখনো তার পদত্যাগ দাবি করিনি। তবে যদি তিনি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা না করে দায়িত্ব ত্যাগ করেন, তা হলে রাষ্ট্র বসে থাকবে না। জনগণ নিজ উদ্যোগে বিকল্প পথ বেছে নেবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়। তবে আমরা আশা করি, ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে জাতির প্রত্যাশা বুঝবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবেন।”

    এ সময় তিনি সাম্প্রতিক সেনাপ্রধানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত বক্তব্যকেও স্বাগত জানান এবং বলেন, দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, “বিএনপি সম্প্রতি একাধিকবার ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও সময় পাননি। আমরা আর কিছুদিন অপেক্ষা করবো রোডম্যাপের জন্য। এরপর সিদ্ধান্ত নেব—সরকারকে সহযোগিতা করবো, না কি নতুন কৌশল গ্রহণ করবো।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক জটিলতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চাপ আরও বাড়াতে পারে।