Tag: সহিংসতা

  • নেপালের তরুণদের অভিযোগ: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেড়ে নিল ‘সুযোগসন্ধানীরা’

    নেপালের তরুণদের অভিযোগ: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেড়ে নিল ‘সুযোগসন্ধানীরা’

    এবিএনএ:  নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। তবে শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়।

    নিজেদেরকে ‘জেন জি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া তরুণরা অভিযোগ তুলেছে— তাদের আন্দোলনকে কিছু ‘সুযোগসন্ধানী’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, কিন্তু সরকারি স্থাপনা, রাজনীতিবিদদের বাড়ি এমনকি সংসদ ভবনে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা তাদের উদ্দেশ্যের প্রতিফলন নয়।

    এদিকে সহিংসতা বেড়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। শূন্যতা তৈরি হওয়ায় সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসে। তারা এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজেন্দ্র বসনেট জানিয়েছেন, তারা সহিংসতার সুযোগ নেওয়া দুষ্কৃতীদের দমন করছে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।

    জেন-জি প্রজন্ম এখন নতুন দাবি-দাওয়ার তালিকা তৈরি করছে। তাদের অন্যতম দাবি, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়।

    কাঠমান্ডুর রাস্তায় কিছু তরুণকে আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতেও দেখা গেছে। ১৪ বছর বয়সী কাসান লামা বলেন, “দুর্নীতি অনেক দিন ধরেই চলছে, এখন সময় পরিবর্তনের।” আরেক তরুণ পরাশ প্রতাপ হামালের মতে, নেপালের এখন স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দরকার।

    তবে অনেকেই সহিংসতায় বিস্মিত। ৩৬ বছরের রাকেশ নিরাউলা বলেন, “এভাবে হওয়া উচিত ছিল না।”

    সবকিছুর মাঝেই সাধারণ নেপালি নাগরিকরা বিশ্বাস করছেন, এই আন্দোলন ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিশা হয়ে উঠতে পারে, যা দেশকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবে।

  • রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা ও মরদেহ পোড়ানো ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮

    রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা ও মরদেহ পোড়ানো ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮

    এবিএনএ:  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পোড়ানো, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরসহ সহিংস ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত চলা বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতিফ হুজুর। তিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। অবশেষে ভোরে মানিকগঞ্জের চর এলাকা থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা মো. আজাদ মোল্লা (৫৫) বাদী হয়ে সোমবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দরবার ভাঙচুর, লাশ উত্তোলন, মরদেহ পোড়ানো, লুটপাট, হামলা ও হতাহতের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, সহিংস ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • রাজশাহীতে খানকা শরিফে হামলা: পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর, পীরের অভিযোগ

    রাজশাহীতে খানকা শরিফে হামলা: পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর, পীরের অভিযোগ

    এবিএনএ:  রাজশাহীর পবা উপজেলায় আজিজ ভাণ্ডারীর খানকা শরিফে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামে কয়েকশ মুসল্লি এই হামলায় অংশ নেয়।

    পবা থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তিন-চারশ মানুষ একসঙ্গে হামলা চালিয়েছে, অথচ সেখানে আমরা ছিলাম মাত্র পাঁচজন পুলিশ সদস্য। তাই প্রতিরোধ সম্ভব হয়নি।”

    তবে খানকা শরিফের পীর আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আগেই গোয়েন্দা সংস্থা হামলার সতর্কতা দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। তার দাবি, “অনুষ্ঠানের অনুমতি পুলিশ নিজেই দিয়েছে। অথচ তাদের উপস্থিতিতেই খানকা শরিফ গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। পুলিশ চাইলে এটি প্রতিরোধ করতে পারত।”

    প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তিন দিনের দোয়া মাহফিল আয়োজন করে আসছিল খানকা শরিফ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ছিল সেই অনুষ্ঠানের প্রথম দিন। কিন্তু দুপুরে জুমার নামাজ শেষে গ্রামবাসীকে উসকে দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন ভক্তরা।

    পীর আজিজুল ইসলাম ওসি-সহ পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তবে ওসি মুনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • গোয়ালন্দে তাণ্ডব: দরবারে হামলার পর কবর থেকে তুলে পোড়ানো হলো ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ

    গোয়ালন্দে তাণ্ডব: দরবারে হামলার পর কবর থেকে তুলে পোড়ানো হলো ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ

    এবিএনএ: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সহিংসতায় উত্তাল হয়ে ওঠে জুরান মোল্লাপাড়া এলাকা। নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করা নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর থেকে মরদেহ তুলে তা আগুনে পোড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

    শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পরপরই শতাধিক মানুষ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওই দরবার শরীফে হামলা চালায়। প্রথমে দরবার ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর মরদেহ কবর থেকে তুলে মাটিতে ফেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই হামলায় দরবার শরীফের অনুসারী ও ভক্তসহ অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বহুদিন ধরে নুরাল পাগলার দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল, যা শুক্রবার বড় সহিংসতায় রূপ নেয়।

    গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    সর্বমোট মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫০ জনকে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ৩১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

    মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় বাদী হয়েছেন জেলার বাসিন্দা তানিয়া জামান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্ল্যা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০০ থেকে ১,০০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএম নাসির আহম্মেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম জুলকদর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মুনির হিটলার, সাবেক জিপি দেলোয়ার হোসেন সরদার, জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু এবং মুকসুদপুরের সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল।

    এছাড়াও কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও ওড়াকান্দি এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার নামও এজাহারে রয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলা ও উচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

  • গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ না কাটায় ফের বাড়ানো হয়েছে কারফিউ। শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ কার্যকর থাকবে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে শনিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল থাকবে, তবে শহরের রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল এখনো সীমিত।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির একটি পদযাত্রা কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ওই সংঘর্ষে গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওইদিনের সংঘর্ষে ৫ ঘণ্টার ভেতর প্রাণ হারান অন্তত চারজন, যাদের একজন বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মারা যান।

    সংঘর্ষের সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এরপর বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত থাকায় সরকার কারফিউ তুলে না নিয়ে তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার বিরতি দিয়ে কারফিউ জারি থাকে। এরপর বিকালে আবারও কারফিউ বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আংশিক শিথিলতা থাকলেও, রাত ৮টার পর পুনরায় কঠোর কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতভর মুকসুদপুর ও কাশিয়ানি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ।

    তিনি জানান, কাশিয়ানির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ২৪ জন, মুকসুদপুর এলাকায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জনকে সদর থানার একটি মামলায়, ২০ জনকে কাশিয়ানির মামলায় এবং বাকি ১০ জনকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এদিকে সদর থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, তাঁদের থানার দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির গোপালগঞ্জ সমাবেশ শুরুর আগেই শহরের পৌর পার্কে দলটির মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা চেয়ার ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কড়া নজরদারির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন থানায় নতুন করে আরও মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

  • গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    এবিএনএ,গোপালগঞ্জ :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির পর গোপালগঞ্জে জারি করা কারফিউর সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন করে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।”

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছিল। পরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এবার তা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কারফিউ চলাকালীন জরুরি সেবার বাহন ব্যতীত অন্য সব ধরনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

    এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে গোপালগঞ্জ জুড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তবে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল। এরপর শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে। কিন্তু দুপুর ২টা থেকে আবারও কারফিউ পুনরায় চালু হবে এবং তা থাকবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত।

    এর আগে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং আংশিকভাবে কিছু সময়ের জন্য শিথিলতার কথা জানানো হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    এদিকে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত না হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার।

  • গুজবে কান না দিয়ে সেনাবাহিনীর পাশে থাকুন: গোপালগঞ্জ পরিস্থিতিতে শান্তির আহ্বান

    গুজবে কান না দিয়ে সেনাবাহিনীর পাশে থাকুন: গোপালগঞ্জ পরিস্থিতিতে শান্তির আহ্বান

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষিতে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

    পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে মঞ্চে আবারও হামলা চালানো হয় এবং জেলা কারাগারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    সেনাবাহিনী বারবার মাইকিং করে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলেও তারা ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। নিরাপত্তা রক্ষার্থে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে, গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    আইএসপিআর জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং কারফিউ বহাল রয়েছে। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যেন কোনো গুজব বা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখান। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা সচেষ্ট।”

    সেনাবাহিনীর এই বিবৃতি গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দেশবাসীকে শান্ত থাকতে ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে।