Tag: সড়ক দুর্ঘটনা

  • বাসে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে বড় সিদ্ধান্ত: জানালার স্টিল রড অপসারণে বিআরটিএর কঠোর নির্দেশ

    বাসে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে বড় সিদ্ধান্ত: জানালার স্টিল রড অপসারণে বিআরটিএর কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণহানি কমাতে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে নন-এসি বাসের জানালায় থাকা স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণ এবং এসি বাসে জরুরি বহির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি ডোর) নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বাস থেকে বের হতে না পারাই অধিকাংশ হতাহতের প্রধান কারণ। তাই যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার পথ সহজ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কেন এই নির্দেশনা?

    বিআরটিএর মতে, সড়ক, মহাসড়ক, ফেরিঘাট বা রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় বাসের দরজা আটকে যায় বা জানালার পথ সংকীর্ণ থাকে। ফলে যাত্রীরা দ্রুত বের হতে পারেন না, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    বিশেষ করে নন-এসি বাসের জানালায় লাগানো সমান্তরাল স্টিলের রডগুলো বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। দুর্ঘটনার সময় এগুলো যাত্রীদের বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। তাই এসব রড অপসারণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    এসি বাসে কী করতে হবে?

    এসি বাসের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান স্থানে ‘ইমার্জেন্সি ডোর’ চিহ্ন স্পষ্টভাবে বসাতে হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে কাঁচ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রাখতে হবে, যাতে বিকল্প পথে দ্রুত যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া যায়।

    আইন অমান্য করলে কী হবে?

    বিআরটিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    নিরাপত্তায় কতটা প্রভাব পড়বে?

    সংস্থাটি আশা করছে, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। ফলে প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

  • ঝড়-বৃষ্টিতে অচল কমলাপুর—উপড়ে পড়া গাছে বন্ধ সড়ক, বিদ্যুৎহীন বহু ঘর

    ঝড়-বৃষ্টিতে অচল কমলাপুর—উপড়ে পড়া গাছে বন্ধ সড়ক, বিদ্যুৎহীন বহু ঘর

    এবিএনএ: রাজধানীতে হঠাৎ তীব্র ঝড় ও বৃষ্টির দাপটে কমলাপুর এলাকায় বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বাতাসে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ায় কমলাপুর থেকে টিটিপাড়া আন্ডারপাসগামী পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছটি সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে ভেঙে পড়ে। এতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে বাধ্য হতে হয়।

    ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাত সাড়ে আটটার দিকেও সড়কের পশ্চিম পাশে একটি বিশাল রেন্ট্রি গাছ পড়ে আছে। ফলে ওই পথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চালকদের উল্টো দিক দিয়ে ঘুরে চলতে হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি শুরুর পরপরই গাছটি সড়কের মাঝামাঝি ভেঙে পড়ে এবং পাশের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাসায় সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ।

    এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাতেই সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

  • ময়মনসিংহে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল সেনাসদস্য ও বাসচালকের—নিহতদের পরিচয় প্রকাশ

    ময়মনসিংহে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল সেনাসদস্য ও বাসচালকের—নিহতদের পরিচয় প্রকাশ

    এবিএনএ:ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সেনাবাহিনীর একটি থ্রি টন ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। তারা হলেন অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের সার্জেন্ট রেজাউল করিম এবং শেরপুর সদর উপজেলার কানাশাহখোলা এলাকার বাসিন্দা বাসচালক আব্দুল বাসেত (৫০)।

    বুধবার বিকেলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় ট্রাক ও বাসের দুই চালকই ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফুলপুর উপজেলার শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় কাকলি রাইস মিলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহের দিকে ফিরছিল সেনাবাহিনীর গাড়িটি। বিপরীত দিক থেকে আসা শেরপুরগামী যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা লাগলে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    দুর্ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্ধার তৎপরতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

  • ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরল দুই প্রাণ, আহত ৭

    ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরল দুই প্রাণ, আহত ৭

    এবিএনএ: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন একটি যাত্রীবাহী বাসের অন্তত সাতজন যাত্রী।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির বাস ও ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    নিহতদের মধ্যে একজন ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতয়ালী থানার ধলার মোড় এলাকার বাসিন্দা নবীন শেখ (২২)। তিনি ট্রাকটির চালক ছিলেন। তার বাবার নাম শেখ মজিদ। অপর নিহত ব্যক্তি ট্রাকের হেলপার রাশেদ (৩০)। তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, ফরিদপুরগামী ‘সপ্তবর্ণা পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গামুখী ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই ট্রাকের হেলপার নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকচালককে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনায় আহত বাসের সাত যাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালান। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন জানান, মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: গিরিখাতে পড়ে প্রাণ গেল ১০ ভারতীয় সেনার

    কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: গিরিখাতে পড়ে প্রাণ গেল ১০ ভারতীয় সেনার

    এবিএনএ: ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০ জন সেনা সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দোদা জেলার পাহাড়ি এলাকায় একটি সামরিক যান সড়ক থেকে ছিটকে গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়। নিহত ও আহত সবাই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য।

    স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সেনারা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে বুলেটপ্রুফ ক্যাসপির গাড়িতে করে দোদা জেলার দিকে যাচ্ছিলেন। ভাদেরওয়া-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের খান্নি এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

    দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আহত সেনাদের দ্রুত বিমানে করে নিকটবর্তী সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মিরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহত সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • সোনামসজিদ স্থলবন্দরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ভারতীয় ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল এক পথচারীর

    সোনামসজিদ স্থলবন্দরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ভারতীয় ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল এক পথচারীর

    এবিএনএ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারতীয় একটি ট্রাকের ধাক্কায় কবির আলী নামে এক পথচারী নিহত হয়েছে। রোববার সকালে সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকার মধ্যবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি সোনামসজিদ বালিয়াদিঘী গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, সকালে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মধ্যবাজার এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন কবির আলী।

    এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি ভারতীয় ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুত্বর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যান। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে স্থানীয়রা।

    এদিকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

  • মৃত্যুর মিছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে: ১৪ ঘণ্টায় তিন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৯ জনের

    মৃত্যুর মিছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে: ১৪ ঘণ্টায় তিন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৯ জনের

    এবিএনএ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ পথ। মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দি এবং চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে যায়।

    চান্দিনায় মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তীরচর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের ডিভাইডার টপকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    দাউদকান্দিতে বেপরোয়া বাসে আগুন, নিহত ৪

    দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে চালকের তর্কের জেরে বাসটির গতি হঠাৎ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে বাসটি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। পরে বাসটি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। দগ্ধ হয়ে দুই শিশুসহ চারজন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    মীরসরাইয়ে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ জনের

    চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় কাঠবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী দ্বিতল বাসের সজোরে ধাক্কায় তিনজন যাত্রী নিহত হন। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে বারইয়ারহাটের ধুমঘাট সেতু এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আরও কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট চালকেরা ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়। নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চালকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

  • শরণখোলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল এক জনের

    শরণখোলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল এক জনের

    এবিএনএ,শরণখোলা(বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরণখোলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঘটণাটি ঘটেছে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের চাল রায়েন্দা গ্রামে। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের মজিদ মুন্সির ছেলে বাদল মুন্সি (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে জুম’আর নামাজ আদায় করতে নিহত বাদল মুন্সি মসজিদে যাচ্ছিলেন। এ সময় অপরদিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটর সাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে তিনি পুকুরের কিনারে ছিটকে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ায় মোটর সাইকেল আরোহী জান্নাত আকন (২৫) কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মোটর সাইকেল আরোহী জান্নাত আকন একই উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের জলিল আকনের পুত্র।

  • সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ফিটনেসবিহীন বাস-অটোরিকশায় ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

    সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ফিটনেসবিহীন বাস-অটোরিকশায় ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের সড়ক এখন যেন চলন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক—ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

    প্রতিদিন ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার অন্তত ২০ শতাংশের জন্য দায়ী ফিটনেসবিহীন মোটরযান। ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার বা ইঞ্জিনের ত্রুটিতে মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রংচটা, ভাঙাচোরা ও নোংরা বাসে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে চলছে পরিবহন ব্যবসা।

    আইন থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল

    দেশের আইন অনুযায়ী, ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চালানো অপরাধ। এ সনদ ইস্যু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু সংস্থাটির হিসাবেই দেখা যায়, সাড়ে ছয় লাখের বেশি যানবাহনের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই। ফলে তারা অবাধে সড়কে চলাচল করছে।

    গণপরিবহনেই বেশি ঝুঁকি

    গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ২৪ হাজার বাস, ১২ হাজার মিনিবাস ও ১৪ হাজার হিউম্যান হলারের হালনাগাদ ফিটনেস নেই। চুক্তিভিত্তিক পরিবহন খাতেও একই অবস্থা—সারাদেশে দুই লাখের বেশি অটোরিকশা ও অটোটেম্পো ফিটনেসবিহীন। ফলে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই ওঠানামা করছেন এসব যানবাহনে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-ট্রাক

    সরকার বাসের ইকোনমিক লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাকের জন্য ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দেশের রাস্তায় এখনো ৭৫ হাজারের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও ট্রাক চলাচল করছে। পুরোনো এসব যানবাহন মাঝপথে নষ্ট হয়ে যানজট তৈরি করছে, আবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে।

    পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে

    আনফিট যানবাহনের কালো ধোঁয়া শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতিদিন অজস্র মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এই দূষণের কারণে।

    বিশেষজ্ঞদের মতামত

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “যে বাসগুলো দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, সেগুলো যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। ফলে প্রাণহানির ঘটনা বেশি হচ্ছে।”
    বুয়েটের এআরআই পরিচালক অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, “আনফিট গাড়ির মেকানিক্যাল ফেইলিওরের ঝুঁকি বেশি। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণই হচ্ছে এসব যানবাহন।”

    সুপারিশ ও সমাধান

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে—
    ১. ফিটনেস পরীক্ষা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন,
    ২. মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রুট থেকে সরানো,
    ৩. পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার,
    ৪. সড়ক নিরাপত্তা আইন শক্তিশালী করা,
    ৫. নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন এসব গাড়ি মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। তাই সরকার, বিআরটিএ, পরিবহন ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগেই সড়কে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

  • সড়ক দুর্ঘটনায় জোটার মর্মান্তিক মৃত্যু, স্তব্ধ রোনালদো ও জামাল ভূঁইয়া

    সড়ক দুর্ঘটনায় জোটার মর্মান্তিক মৃত্যু, স্তব্ধ রোনালদো ও জামাল ভূঁইয়া

    এবিএনএ:  মাত্র কদিন আগেও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, নেশন্স লিগ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছেন গোটা পর্তুগাল। সেই উচ্ছ্বাস যেন হঠাৎ করেই থেমে গেল এক করুণ সংবাদে—সড়ক দুর্ঘটনায় চিরবিদায় নিলেন ডিয়োগো জোটা।

    স্পেনের জামোরা প্রদেশের সানাব্রিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড। প্রাণ হারিয়েছেন তার ভাই আন্দ্রে সিলভাও, যিনি খেলতেন পেনাফিয়েল ক্লাবে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

    মাত্র কয়েকদিন আগেই দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রুতে কারদোসোর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জোটা। সামাজিক মাধ্যমে বিয়ের ছবি পোস্ট করেছিলেন ২৮ জুন, স্ত্রী রুতে ভিডিও দিয়েছিলেন ঘটনার একদিন আগেই। নতুন জীবনের সূচনায় এমন হৃদয়বিদারক পরিণতি যেন কেউ ভাবতেও পারেনি।

    জোটার মৃত্যুসংবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকবার্তা দেন তার সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তিনি লেখেন, “এই ঘটনার কোনও মানে হয় না। আমরা একসাথে খেলেছি, তোমার বিয়েও হলো সবে। তোমার স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। শান্তিতে ঘুমাও জোটা ও আন্দ্রে। তোমাদের ভীষণ মিস করব।”

    পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোও জোটার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, “ডিয়োগো ও তার ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যু জাতির জন্য দুঃখজনক। আজ ফুটবলের জন্য শোকের দিন।”

    ক্লাব পর্যায়েও শোকের ছায়া। এক মৌসুম ধারে খেলা এফসি পোর্তো জানায়, “আমরা শোকাহত। আমাদের একাডেমির সন্তানদের এই অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত।”

    বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও শোক জানিয়েছেন নিজের ফেসবুক পেজে। তিনি লেখেন, “কদিন আগেই জোটা প্রিমিয়ার লিগ ও নেশন্স লিগ জিতেছে। আজ সে আর নেই। এই খবর সত্যিই কষ্টদায়ক।”

    বিশ্ব ফুটবল আজ যেন স্তব্ধ। একজন সম্ভাবনাময় ফুটবলারের এমন অপ্রত্যাশিত বিদায় ক্রীড়া অঙ্গনজুড়েই গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।