Tag: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    এবিএনএ:  ঢাকার সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

    ছাত্ররা পরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগ।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সাইন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ২০ মিনিট সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। এরপর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।

  • সাত কলেজের দায়িত্বে প্রশাসক এলো, ঢাকা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে ফিরলেন এ কে এম ইলিয়াস

    সাত কলেজের দায়িত্বে প্রশাসক এলো, ঢাকা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে ফিরলেন এ কে এম ইলিয়াস

    এবিএনএ: সাত সরকারি কলেজ পরিচালনার জন্য রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক কে এম ইলিয়াসকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মূলত সাত কলেজের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে।

    রবিবার (১৮ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী তার অবসরোত্তর ছুটি সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে আগামী দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিনি অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না।

    এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, দাবির অংশ হিসেবে এই নিয়োগ সরকার পূরণ করেছে বলে তারা মনে করছেন।

    সাত কলেজের সমন্বিত কাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢাকার ঢাকা কলেজকে কেন্দ্র করে পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি। এর অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি তাদের মাধ্যমে হলেও পরবর্তী প্রশাসনিক কাজগুলো এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

    উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ। এই সাত কলেজে মোট শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ এবং শিক্ষক সংখ্যা এক হাজারের বেশি।

    এর আগে, সাত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। ইডেন কলেজে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা জানান, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি এবং মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো আন্দোলনে যাবে।

    এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে অধ্যক্ষ কে এম ইলিয়াসের নিয়োগকে আন্দোলনের একটি তাৎক্ষণিক সাড়া হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে না।

  • ছুটি চলাকালেও ‘ছুটির নির্দেশ’! শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি ঘিরে জোর সমালোচনা

    ছুটি চলাকালেও ‘ছুটির নির্দেশ’! শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি ঘিরে জোর সমালোচনা

    ঈদুল আজহা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন এমনিতেই বন্ধ, তখনও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে ‘নির্বাহী আদেশে’ ছুটি কার্যকর করার নির্দেশনা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শিক্ষক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা একে ‘অযৌক্তিক বাস্তবতাবিবর্জিত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

    নির্দেশনাটিতে বলা হয়েছে, সরকার ১১ ১২ জুন ঈদ উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে দাপ্তরিক প্রয়োজনে ১৭ ২৪ মে শনিবার অফিস খোলা রাখতে বলা হয়েছে। অথচ শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এমনকি কারিগরি প্রতিষ্ঠানও এই সময়ে বন্ধ থাকবে।

    এক অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক বলেন, “শিক্ষকরা ভ্যাকেশনাল চাকরিতে থাকেন, আর্থিক সুবিধা কম হলেও সুনির্দিষ্ট ছুটির সুযোগটাই একমাত্র প্রাপ্তি। সেখানে অন্য সেক্টরের সঙ্গে তুলনা টেনে ছুটির সময় বাতিল করে কাজ করানো অনুচিত।”

    এবিএনএ:  শিক্ষক সমাজের প্রশ্ন—যেখানে ১১ ১২ জুন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, সেখানে ‘নির্বাহী আদেশের ছুটি’ কীভাবে প্রযোজ্য? বরং ঈদের আগের শনিবারগুলো খোলা রাখার নির্দেশই আরও গোলযোগ বাড়াচ্ছে।

    নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও কিছুটা অস্বস্তিতে। এক সিনিয়র সহকারী সচিব বলেন, “আমার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, আমি সেটিই পালন করেছি। সমস্যা হলে তা ঊর্ধ্বতন মহল সমাধান করবেন।”

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, “সম্ভবত পুরো বিষয়টি তেমনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এখন বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।”

    উপসংহার:
    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাক-নির্ধারিত ছুটির মধ্যে অতিরিক্ত সরকারি আদেশ চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষক মহলে অসন্তোষ তৈরি করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্যান্য দপ্তরের ছুটির ধরন এক না হওয়ায়, এমন সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।