Tag: শারদীয় দুর্গোৎসব

  • ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে জনস্রোত, কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী

    ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে জনস্রোত, কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী

    এবিএনএ:  শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চার দিনের সরকারি ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। আগামীকাল রোববার (৫ অক্টোবর) থেকে খুলে যাচ্ছে দেশের সরকারি অফিস-আদালতসহ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে আজ থেকেই কর্মজীবী মানুষরা রাজধানীতে ফিরছেন কর্মস্থলে যোগ দিতে।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে বাড়তি ভিড়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে গ্রাম থেকে ফেরার পথে হাজারও মানুষে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো স্টেশন এলাকা।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা প্রায় সব ট্রেনেই ছিল যাত্রীতে ঠাসা। কিছু ট্রেন দেরিতে এলেও বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই পৌঁছেছে কমলাপুরে।

    কিশোরগঞ্জ থেকে ফেরা মশিউর রহমান বলেন, “গ্রামের শান্ত পরিবেশ ছাড়তে ইচ্ছে করে না, কিন্তু জীবিকার টানে ঢাকায় ফিরতেই হয়। ভালো লাগছে, এবার ট্রেন ভ্রমণটা ছিল স্বস্তিদায়ক— গাদাগাদি ছিল না, সময়মতোই এসেছি।”

    জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী সোহেল রানা জানান, “ভিড় আর গরমে কষ্ট হয়েছে, তবে পরিবার নিয়ে নিরাপদে পৌঁছাতে পেরে ভালো লাগছে। ট্রেন নির্ধারিত সময়েই এসেছে।”

    রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ ছুটির পর ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

    কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, “আজ ছুটির শেষ দিন বলে যাত্রী কিছুটা কম। তবে ৭ ও ৮ অক্টোবর ট্রেনে ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করছি, কারণ তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি।”

    রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রেনের সময়সূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে।

  • শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    এবিএনএ: শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় রাষ্ট্রপতি অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন। তিনি বলেন, দুর্গোৎসব জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ, যা সবাইকে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রী পরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. নাসিমুল গনিসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    রাষ্ট্রপতির এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা রাষ্ট্রপতির আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র চলছে: শারদীয় দুর্গাপূজায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

    স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র চলছে: শারদীয় দুর্গাপূজায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

    এবিএনএ: স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটলেও তাদের নানামুখী ষড়যন্ত্র আজও শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তা নষ্ট করার যেকোনো ঘৃণ্য প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দলের অবস্থান দৃঢ়।

    বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে দেশের মানুষ সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালন করে আসছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বারবার এই সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এবারের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে জনগণের সহযোগিতায় পূজার নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।’’

    অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং তা সব সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ফায়দার জন্য বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘আসন্ন দুর্গাপূজায় যেকোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতা ব্যর্থ করে দিতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করছে, সেটিকে অটুট রাখতে হবে।’’

    মির্জা ফখরুল আরও আহ্বান জানান, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে পাহারাদারীর মতো কাজ করবে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব হয়।

  • প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস: সমান অধিকারের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই

    প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস: সমান অধিকারের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশকে এমন এক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে যেখানে সব নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবেন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই না কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে ধর্ম পালন করুক। বরং প্রত্যেকেই যেন স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাই তবে জাতি হিসেবে ব্যর্থ হবো। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে ধর্মীয় ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্র সবার প্রতি সমান আচরণ করবে।”

    ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেবে না বা অবহেলা করবে না। বরং সব ধর্মের মানুষকে সমান সম্মান ও অধিকার দিতে রাষ্ট্র বাধ্য থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা এমন এক উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেটি বিশ্বের অন্যান্য দেশ অনুসরণ করবে। এই লক্ষ্য পূরণে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরিদর্শন শেষে তিনি শুভেচ্ছা সভায় অংশ নেন এবং উপস্থিতদের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন।

  • দেশজুড়ে ৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

    দেশজুড়ে ৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

    এবিএনএ:  সারা দেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

    উপদেষ্টা জানান, এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। গতবার যেমন শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবারের প্রত্যাশাও একই রকম। তবে দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ নিতে পারে—তাই সবাইকে একসঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

    ঢাকা মহানগরে ২৫৫টি এবং দেশের বিভিন্ন মহানগরে প্রায় ১ হাজার ২৭০টি মণ্ডপে পূজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তালিকা আপডেটের কারণে এ সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, তালিকার বাইরে মণ্ডপ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্যা দেখা দেয়, তাই প্রতিটি মণ্ডপের তথ্য প্রশাসনের কাছে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিসর্জন কার্যক্রম সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজাকে ঘিরে কোনো বড় মেলা বসবে না, তবে অনুমতি নিয়ে ছোটখাটো দোকান বসতে পারবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনসার, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি মূল দায়িত্ব পালন করবে। আনসার সদস্যরা থাকবেন সর্বত্র, যার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা হবে আরও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।