Tag: লোডশেডিং

  • দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    এবিএনএ: প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেই খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, অফিসকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। কখনো সকালে, আবার কখনো মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৪৩ মেগাওয়াট, তখন ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

    এর আগে বুধবার দুপুরে ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    খুলনা নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মাহাফুজ বলেন, অফিস চলাকালে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে এসিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতর প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে গরম, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান খাতুন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা থাকে, আবার দীর্ঘ সময় থাকে না। এতে গরমে অসুস্থতা বাড়ছে এবং ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি। চলমান তাপদাহের কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। শুক্রবারও তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

  • এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এবিএনএ: আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে তীব্র গরমের সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় বসছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উদ্বেগে রয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার সময়েই বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, পুনরাবৃত্তি কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম নগরীর এক শিক্ষার্থী নাছরিন জানায়, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও কাজ করে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানায় আনোয়ারা উপজেলার আরেক পরীক্ষার্থী রিজভী। তার ভাষ্য, রাতের দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

    অভিভাবকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে লোডশেডিং চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এসব কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে সাময়িকভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    এবিএনএ,ঢাকা: দেশের বিদ্যুৎ খাতে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বড় শহরগুলোতেও লোডশেডিং বাড়ছে। গ্যাসের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

    বর্তমানে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই গ্যাস, কয়লা ও তেলনির্ভর। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় এসব কেন্দ্রের বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অলস পড়ে আছে।

    কয়লা আমদানির খরচ বেড়ে চাপ

    দেশে চালু থাকা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা এলেও এর বড় অংশ আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    এর পাশাপাশি জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে, ফলে কয়লা আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে এসেছে।

    তেল ও এলএনজি বাজারে অস্থিরতা

    বিশ্ববাজারে ফার্নেস তেলের দামও ওঠানামা করছে। মার্চ মাসে দ্রুত বাড়ার পর বর্তমানে কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় এখনও বেশি। একইভাবে এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা কাটেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজির দাম বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে।

    এই তিন জ্বালানির সম্মিলিত সংকটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরবরাহে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ বহু কেন্দ্র

    দেশে গ্যাসভিত্তিক ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমিয়েছে। বেশ কিছু কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গ্যাসের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

    প্রতিদিন বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও উৎপাদন কম

    তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি অংশ ফার্নেস তেলের সংকটে বন্ধ রয়েছে। অনেক কেন্দ্র কম সক্ষমতায় চলছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষও এই খাতে উৎপাদন সীমিত রাখছে।

    ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রেও কম উৎপাদন

    কয়লা সংকটের কারণে বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তবে কিছু কেন্দ্র এখনও তুলনামূলকভাবে ভালো উৎপাদন বজায় রেখেছে, যা সামগ্রিক সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

    বেড়েছে লোডশেডিং

    দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে।

    লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে কয়েকশ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর বড় অংশ পড়েছে ঢাকায়, এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলে।

    ভর্তুকির অপেক্ষায় বিদ্যুৎ বিভাগ

    আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরি ভর্তুকি চেয়েছে। এই অর্থ না পেলে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতামত

    বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। অন্যথায় বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের তুলনায় কয়লা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় কয়লা আমদানি বাড়ানোই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হবে।

  • ২০ হাজার কোটি টাকা না পেলে অন্ধকারে দেশ! গ্রীষ্মেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

    ২০ হাজার কোটি টাকা না পেলে অন্ধকারে দেশ! গ্রীষ্মেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

    এবিএনএ:  আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। তবে এই অর্থ সময়মতো না পেলে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে গড়ে ব্যয় হচ্ছে ১২ টাকার বেশি, সেখানে তা বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় ৭ টাকায়। ফলে প্রতিটি ইউনিটে উল্লেখযোগ্য লোকসান গুনতে হচ্ছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করছে সরকার।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা ও পরিকল্পনার অসামঞ্জস্য এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়ার চাপ বড় একটি কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরের বেশিরভাগ সময় অলস থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তাদের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

    তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে শুধুমাত্র এই খাতেই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এই ভর্তুকি প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ দরকার। এছাড়া বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি এবং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও বিপুল ব্যয় হচ্ছে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর চাপও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভর্তুকির ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে, যা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় দাম সমন্বয় ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    সব মিলিয়ে, প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দ্রুত নিশ্চিত না হলে গ্রীষ্মকালেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।