Tag: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

  • যুদ্ধ অবসানে নতুন আশার ইঙ্গিত, রাশিয়া–ইউক্রেন বৈঠক ফলপ্রসূ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    যুদ্ধ অবসানে নতুন আশার ইঙ্গিত, রাশিয়া–ইউক্রেন বৈঠক ফলপ্রসূ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    এবিএনএ: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। ফ্লোরিডার মায়ামিতে হওয়া এসব বৈঠককে ‘গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

    বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, রোববার মায়ামিতে পৃথকভাবে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি, ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এবং রাশিয়ার আলোচকরা। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই মূল আলোচনা পরিচালিত হয়।

    স্টিভ উইটকফ জানান, বৈঠকে কিয়েভ, ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে একটি সমন্বিত কৌশলগত অবস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ-এর সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ আলোচনার সময়সূচি, ধাপভিত্তিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে পক্ষগুলোর মতামত কাছাকাছি আনার চেষ্টা করা হয়।

    এর আগের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন উইটকফ। তবে রাশিয়ার শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ মন্তব্য করেছেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো এখনো শান্তির পথ সুগম করছে না।

    অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনাকে ইতিবাচক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, অগ্রগতি দ্রুত হলেও প্রকৃত শান্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।

    এদিকে আলোচনার মধ্যেই মস্কোতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন রুশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ। রাশিয়ার তদন্ত সংস্থা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে এবং এর পেছনে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইউক্রেন।

  • ইউক্রেনের সরকারি ভবনে রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা, নিহত নবজাতকসহ দুইজন

    ইউক্রেনের সরকারি ভবনে রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা, নিহত নবজাতকসহ দুইজন

    এবিএনএ: ইউক্রেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী কিয়েভের প্রধান সরকারি ভবনে সরাসরি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই রাশিয়া অন্তত ৮০৫টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৭৫১টি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও বাকি অংশ লক্ষ্যভেদ করে। হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। এতে এক নবজাতকসহ দুইজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, ইউক্রেন থেকে ছোঁড়া ৬৯টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে ২১টি, ভোরোনেজে ১৩টি এবং বেলগোরোদ অঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

    এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “৮০০’র বেশি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমাদের দেশকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে প্যারিস চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের।” তিনি মিত্র দেশগুলোকে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

    সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে কিয়েভে এমন হামলা সচরাচর ঘটে না। তবে এবার হামলার মাত্রা ছিল ভয়াবহ।

    এদিকে জেলেনস্কির জন্মস্থান ক্রিভি রিহ শহরের তিনটি অবকাঠামোতেও আঘাত হানে রাশিয়া। যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা শক্তিকে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী না পাঠানোর সতর্কবার্তা দেওয়ার পরপরই এ হামলা চালানো হয়।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    এবিএনএ: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুরস্ক প্রদেশের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উস্ত-লুগার জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে রোববার জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

    কুরস্ক প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির গণমাধ্যম শাখা জানায়, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও কেন্দ্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন গতকাল রাশিয়ার ১৩টি প্রদেশ লক্ষ্য করে শতাধিক বিস্ফোরকবাহী কামিকাজি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। কুরস্ক অঞ্চলে ১০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

    গত সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। চলতি আগস্টের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সরকারি তেল শোধন কোম্পানি সিজরানের একটি কারখানাতেও হামলা চালিয়েছিল।

  • আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    এবিএনএ:  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবার আলাস্কার একটি হোটেলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি শর্ত দেন— ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, তবে সম্মুখসারির যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে জানান, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার হাতে গেলে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আর অগ্রসর হবেন না। বর্তমানে এই দুই অঞ্চলের বড় অংশ রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররাও বলেছেন, বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

    এদিকে বৈঠককে ঘিরে এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, আলাস্কার ক্যাপ্টেন কুক নামের চার তারকা হোটেলের প্রিন্টারে পাওয়া গেছে বৈঠক সংক্রান্ত আট পৃষ্ঠার গোপন নথি। এতে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার স্থান, সময় এবং মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ ছিল। অতিথিদের হাতে পাওয়া এই নথির ছবি এনপিআর যাচাই করেছে।

    এই নথি ফাঁসের ঘটনা বৈঠককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে পুতিনের এই শর্ত শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ভূরাজনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টির কৌশল।

  • আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    এবিএনএ:  আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বসছে বহুল আলোচিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার প্রথম দুই মিনিটেই তিনি বুঝে ফেলতে চান পুতিনের আসল পরিকল্পনা। যদি মনে হয় সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে তিনি আলোচনা মাঝপথেই থামিয়ে দিতে প্রস্তুত।

    এদিকে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতার আশঙ্কা, পুতিন হয়তো দীর্ঘ আলোচনা টেনে ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে রাশিয়ার বিজয়ের শর্তগুলোতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে কৌশলী মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে পারেন তিনি। এই বৈঠক হতে যাচ্ছে এমন এক জায়গায়—আলাস্কা—যেটি ১৮৬৭ সালে রাশিয়া ৭২ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়েও কথা বলতে চান।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের মনোভাব যাচাই করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। যদি চুক্তির সম্ভাবনা না দেখেন, তবে তিনি বৈঠক শেষ না করেই সরে আসবেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া উচিত, যাতে আলোচনার সময় হামলা বা ভূমি দখল না ঘটে। এই আলোচনায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

    হোয়াইট হাউস এই বৈঠক আয়োজন করছে বেশ তড়িঘড়ি করে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এখনো ঠিক হয়নি আলাস্কার কোন স্থানে বৈঠক হবে কিংবা কতক্ষণ চলবে। সমালোচকরা বলছেন, পুতিন প্রশংসা ও কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনের ওপর রুশ আগ্রাসনের জন্য কিয়েভকেই দায়ী করেছিলেন এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

    যুদ্ধের সমাধান বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্প কিছু না বললেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—চুক্তি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল উভয়ই তুঙ্গে বিশ্বজুড়ে।