Tag: রাজনৈতিক সহিংসতা

  • ভাড়া চাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তাল আড়াইহাজার

    ভাড়া চাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তাল আড়াইহাজার

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দোকান ভাড়া চাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৮) উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের সালমদী বাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক।

    পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোতা মিয়া প্রায় এক বছর আগে তার তিনটি দোকানের একটি ভাড়া নিয়ে তাতে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় গড়ে তোলেন। তবে সেই দোকানের নির্ধারিত ৩০ হাজার টাকা বার্ষিক ভাড়া বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও পরিশোধ করেননি।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাহাঙ্গীর হোসেন বকেয়া ভাড়ার দাবিতে বিএনপি কার্যালয়ে গেলে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় তোতা মেম্বারের ছেলে খোকন, ভাইপো সাদ্দাম হোসেন ও আরও কয়েকজন মিলে জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দিয়েছে, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুম শিকারি বলেন, “এই ধরনের অপকর্মে দল কোনোভাবেই জড়িত নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে শাস্তি পেতে হবে।”

    এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া জানান, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে। বিএনপি অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না।”

    আড়াইহাজার থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এখনো মামলা হয়নি, দাফনের পর মামলা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের সভা-সমাবেশের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

    মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সেদিনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ছিল ফ্যাসিস্ট কায়দার। তারা নির্বিচারে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে। পরে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের ঘটনা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।”

    আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিন ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সাধারণ জনতা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী রাস্তা দখলে নিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়।

    ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জে জারি হয় ১৪৪ ধারা এবং শুরু হয় নির্বিচারে গ্রেপ্তার। আসকের তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নিরীহ মানুষের ঘরে ঘরে অভিযান চালানো হয়, যেসব এলাকায় কোনো সহিংসতা হয়নি সেখানেও হয়রানি চলে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত ইমন তালুকদার, রমজান কাজী, দীপ্ত সাহা ও সোহেল মোল্লার মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে দাফন বা সৎকারে বাধ্য করা হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২১ জুলাই তিনজনের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

    আসকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ সংক্রান্ত ৮টি মামলা হয়েছে, যার ৬টির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ৫,৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৮ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। আসামিদের মধ্যে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপস্থিতিও রয়েছে।

    এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৮ শিশুকে আটক করেছে, যাদের অনেককেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যদিও তাদের পরিবার দাবি করেছে, এসব শিশুরা সংঘর্ষে সম্পৃক্ত ছিল না।

    তথ্য সংগ্রহে গেলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের কথাও উল্লেখ করেছে আসক। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা কোনো মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করেনি এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক সমাবেশে বাধা দেওয়া কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়। আগে থেকেই পুলিশ সতর্ক থাকলে এ রকম প্রাণহানি হতো না।”

    আসক জোর দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং নির্দোষ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    সর্বমোট মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫০ জনকে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ৩১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

    মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় বাদী হয়েছেন জেলার বাসিন্দা তানিয়া জামান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্ল্যা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০০ থেকে ১,০০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএম নাসির আহম্মেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম জুলকদর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মুনির হিটলার, সাবেক জিপি দেলোয়ার হোসেন সরদার, জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু এবং মুকসুদপুরের সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল।

    এছাড়াও কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও ওড়াকান্দি এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার নামও এজাহারে রয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলা ও উচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে নিহত ৩

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত লং মার্চ ও সমাবেশ ঘিরে চরম সহিংসতায় রূপ নেয় পরিস্থিতি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রশাসন জারি করেছে কারফিউ, মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যখন সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে নিহতরা হলেন—ইমন তালুকদার (১৮), রমজান কাজী (২২) ও দীপ্ত সাহা (২৫)। নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল।

    হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শহরের লঞ্চঘাট এলাকা, যেখানে দুপুর তিনটার দিকে গাড়িবহর অবরুদ্ধ করে হামলা হয়। এনসিপির সমাবেশের মঞ্চে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ইউএনওর গাড়িবহরেও হামলা চালানো হয়েছে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী মাঠে নামলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রশাসন সন্ধ্যা ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে এবং শহরজুড়ে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, পুরো গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে চলছে সংঘর্ষ, রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে গাছের গুঁড়ি ও ব্যারিকেড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির শীর্ষ নেতারা আপাতত নিরাপত্তার কারণে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

    উল্লেখ্য, জুলাই মাসজুড়ে পদযাত্রা ও গণসমাবেশের কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে এনসিপি। গোপালগঞ্জ ছিল তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    🔴 সাম্প্রতিক এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা, সাঁজোয়া যানে নিরাপত্তায় ঘেরা যাত্রা

    গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা, সাঁজোয়া যানে নিরাপত্তায় ঘেরা যাত্রা

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে হামলার শিকার হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা অবশেষে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সংঘটিত সহিংসতার পর এনসিপির শীর্ষ নেতারা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেনাবাহিনীর বর্মযান (এপিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সেখান থেকে বের করে আনা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান থেকে নামছেন এবং পরে সেই গাড়িতেই গোপালগঞ্জ ত্যাগ করছেন।

    এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন,

    “হামলার মুখে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা কাছাকাছি একটি ভবনে আশ্রয় নেন, পরে জানা যায় সেটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়। সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তারা এলাকা ছাড়েন।”

    একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, তিনি নিজ চোখে দুটি সাঁজোয়া যান দেখেছেন, যাতে করে এনসিপির নেতাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে, জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করে এবং সেনা মোতায়েন করা হয়।

    এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়,

    “আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদযাত্রা কর্মসূচি চলমান থাকবে, তবে নেতৃত্বকে সুরক্ষিত রাখা ছিল জরুরি।”

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং ঘোষণা করেছে কারফিউ।

    নিহত দুইজন হলেন—উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫) এবং কোটালীপাড়া উপজেলার রমজান কাজী (১৮)। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিকেলে তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং উভয়েই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

    তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের অস্ত্রোপচার চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার দুপুর ২টার দিকে এনসিপির সভা শেষে গাড়িবহর যখন লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছায়। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এর আগে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে পৌর পার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    সমাবেশ কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোসহ ইউএনও’র গাড়িবহরেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরো গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাত ৮টা থেকে পরদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই কারফিউ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি।

    এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না: কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

    গোপালগঞ্জে সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না: কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেওয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। হামলাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, “গোপালগঞ্জে আজ যে সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণ নাগরিকদের একটি শান্তিপূর্ণ বার্ষিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা, তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হামলা চালানো, এটি শুধু মৌলিক অধিকার হরণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর সরাসরি আঘাত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির সদস্যরা ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সরাসরি আক্রমণ চালায়।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “হামলাকারীদের অনেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”

    সরকার সেনাবাহিনী ও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছে, “এই সহিংসতা থামাতে যেভাবে বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি সেই সাহসী তরুণদেরও অভিনন্দন জানাই যারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাদের বার্ষিক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে।”

    সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। আইন নিজের পথে চলবে এবং অপরাধীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য উপযুক্ত শাস্তি পাবেই।”

  • শাহবাগ মোড় অবরোধে থমকে গেল ঢাকা, এনসিপির প্রতিবাদে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

    শাহবাগ মোড় অবরোধে থমকে গেল ঢাকা, এনসিপির প্রতিবাদে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এর ফলে বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার পর থেকে শাহবাগ এলাকায় সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় চরম যানজট।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে এনসিপির নেতাকর্মীরা হঠাৎ শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। তারা প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন, এতে বন্ধ হয়ে যায় শাহবাগ-মতিঝিল, শাহবাগ-ধানমন্ডি, শাহবাগ-নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যান চলাচল।

    বিক্ষোভকারীরা জানান, গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ লং মার্চ ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে গাড়িগুলোর ক্ষতি হয় এবং নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হামলার জন্য আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে এনসিপি।

    স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অতিরিক্ত ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শাহবাগে অবস্থানরত এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

    এই ঘটনায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহিংসতা রোধে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী সংঘাতে শহর রণক্ষেত্র

    গোপালগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী সংঘাতে শহর রণক্ষেত্র

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর লং মার্চ শেষে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা। এই ঘটনায় গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা, সৃষ্টি হয় রণক্ষেত্রের পরিবেশ।

    বুধবার বিকাল ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এই হামলার সূত্রপাত হয়। সড়ক অবরোধ করে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এনসিপির সমাবেশস্থলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    জুলাই মাসব্যাপী এনসিপি দেশের বিভিন্ন জেলায় লং মার্চ ও পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে আজ তারা গোপালগঞ্জে একটি লং মার্চ ও সমাবেশ করে। তবে শান্তিপূর্ণ সেই কর্মসূচির পরেই শুরু হয় সহিংসতা, যার জেরে পুরো শহরজুড়ে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যাতে করে কোনো ধরনের জনসমাগম না ঘটে এবং সংঘর্ষ আর না বাড়ে।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

  • দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এবিএনএ:  দলে একের পর এক অনিয়ম, সহিংসতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের কারণে চাপে পড়েছে বিএনপি। বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবার দলটি শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী এবং অপকর্মে যুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩ সালের পর থেকে যারা দলে এসেছেন এবং রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    সম্প্রতি পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে এক ভাঙারির ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলীয় ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় দায় চাপিয়ে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।

    ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    দলটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০০ জন বিএনপির, যাদের ৮০০ জন বহিষ্কৃত, ৭০০ জনকে নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের আরও প্রায় ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের প্রতি অভিযোগ

    বিএনপি অভিযোগ করেছে, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেমন, পাবনার সুজানগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বিএনপির নেতারা নিজ উদ্যোগে অভিযোগ করেন।

    নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    বহিষ্কার করেও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

    দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, অভিযোগ যাচাই ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ দ্রুতই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসছেন। খুলনায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন বহিষ্কৃত, তবুও সক্রিয় ছিলেন দলীয় কর্মসূচিতে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না।