Tag: রাজনৈতিক সহিংসতা

  • জীবন রক্ষায় ১১ দফা চিকিৎসা সিদ্ধান্ত, হাদিকে ঘিরে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের কঠোর নজরদারি

    জীবন রক্ষায় ১১ দফা চিকিৎসা সিদ্ধান্ত, হাদিকে ঘিরে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের কঠোর নজরদারি

    এবিএনএ: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড। মাথায় গুলিবিদ্ধ এই রাজনীতিকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    শনিবার এক বিবৃতিতে হাসপাতালের আইসিইউ ও এইচডিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও সমন্বয়ক ডা. মো. জাফর ইকবাল জানান, বিভিন্ন বিভাগের ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড হাদির চিকিৎসা নিয়ে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতা মোকাবিলায় এখন কনজারভেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

    চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হাদির মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং ব্রেন সুরক্ষায় নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। ফুসফুসে আঘাত থাকায় ভেন্টিলেটর ও চেস্ট ড্রেইনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ বা এআরডিএসের ঝুঁকি না বাড়ে।

    এ ছাড়া কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে তরল ব্যবস্থাপনা, রক্ত জমাট ও রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সঞ্চালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ ওঠানামা করায় বিশেষ সাপোর্ট ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    মেডিকেল বোর্ড জানায়, রোগীর সামগ্রিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। পরিবারকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে এবং তারাই গণমাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনে ভিড় না করা, গুজব বা ভুল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

    চিকিৎসকরা বলেন, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে হাদির চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন মেডিকেল বোর্ড ও পরিবারের সদস্যরা।

  • গুলির আঘাতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    গুলির আঘাতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    এবিএনএ: গুলিতে গুরুতর আহত ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের মতে, তার চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এর আগে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

    শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    শনিবার দুপুরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল বাংলাদেশের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আরিফ মাহমুদ জানান, ওসমান হাদির মস্তিষ্কে আঘাত অত্যন্ত জটিল। যদিও তার হৃদ্‌যন্ত্র সচল রয়েছে, তবে মস্তিষ্কের অবস্থা উদ্বেগজনক।

    তিনি আরও বলেন, মস্তিষ্কের স্টেমে আঘাতের কারণে রোগীর চোখের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। তবে কিছুটা আশার দিক হলো—শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখনও কার্যকর রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি—সবকিছুর জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে জানান চিকিৎসক।

  • ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভে নামছে বিএনপি: প্রার্থী হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

    ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভে নামছে বিএনপি: প্রার্থী হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে দলটি ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে।

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, আগামী শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে এই প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে যেসব সহিংসতা ঘটছে, তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা ছাড়া শান্তি ফিরে আসবে না।”

    উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদী শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে আসা দুজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

    ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

    হামলার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। বিএনপি দাবি করেছে, নির্বাচনকে ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ঢামেকে গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদীর জরুরি মস্তিষ্ক অস্ত্রোপচার চলমান, উদ্বেগে স্বজন-সমর্থকরা

    ঢামেকে গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদীর জরুরি মস্তিষ্ক অস্ত্রোপচার চলমান, উদ্বেগে স্বজন-সমর্থকরা

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সিটি স্ক্যান সম্পন্ন করে জরুরি ভিত্তিতে মাথায় অস্ত্রোপচার শুরু করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক দল। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক।

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, রোগীকে আনা মাত্রই জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে মাথায় জটিল আঘাত ধরা পড়ায় দ্রুত সার্জারি শুরু করা হয়েছে।

    এর আগে দুপুরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি রিকশায় থাকা ওসমান বিন হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দ্রুত স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রিকশা করে যাওয়ার সময় কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহীরা কাছে এসে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে একাধিক পুলিশ টিম মাঠে নেমেছে।

    হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই অভ্যুত্থান আন্দোলনের অনেকে হাসপাতালে জড়ো হন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সেখানে গিয়ে অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    এদিকে হাসপাতালের সামনে সংগঠক ও সমর্থকরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • ২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

    ২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য শারীরিক ও ডিজিটাল—দু’দিক থেকেই ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণা। এতে দেখা গেছে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা আগের তুলনায় আরও বেশি হুমকির মুখোমুখি হতে পারেন।

    শনিবার ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এক গোলটেবিল বৈঠকে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে গবেষণার মূল বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। ‘হাই রিস্ক, লো প্রিপেয়ার্ডনেস: জার্নালিস্ট সেফটি ইন ২০২৬ ইলেকশন’ শিরোনামের এই গবেষণাটি ১৯টি জেলার ২০১ জন সাংবাদিকের ওপর করা জরিপ এবং ১০টি গভীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ৮৯ শতাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাঠে তারা শারীরিক আক্রমণ বা মারধরের আশঙ্কা করছেন। ৭৬ শতাংশের মতে মৌখিক হুমকি এবং ৭১ শতাংশের মতে ভয়ভীতি দেখানো বড় ঝুঁকি হতে পারে। নারী সাংবাদিকরা আরও বেশি দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন—তাদের ৫০ শতাংশ যৌন হয়রানির এবং ৪০ শতাংশ যৌন আক্রমণের আশঙ্কা জানিয়েছেন।

    ডিজিটাল পরিসরে ঝুঁকি আরও তীব্র। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন, তাদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হতে পারে। ৬৫ শতাংশ হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি দেখছেন। নারী সাংবাদিকেরা অনলাইন নজরদারি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অনলাইন হয়রানিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে মানহানিকর প্রচারণার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকদের অর্ধেকের বেশি। কিন্তু অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানেরই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। মাত্র ২৪ শতাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন যে তারা নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৭৭ শতাংশের প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতিমালা।

    গবেষণায় আরও উঠে এসেছে—শারীরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীরা সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। নারী ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    রাজনৈতিক লেবেলিং, গণমাধ্যমে আস্থাহীনতা, উগ্রবাদী মনোভাব, গণপিটুনি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অপতথ্য ছড়ানো—এগুলোই নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়ানোর মূল কারণ বলে মনে করেন উত্তরদাতারা।

    গবেষণায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, জেন্ডার-সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং দ্রুত জরুরি ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, টাইমস অব বাংলাদেশের সম্পাদক এম আবুল কালাম আজাদ, এএফপির ব্যুরো প্রধান শেখ সাবিহা আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা। ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এশিয়া অঞ্চলের প্রকল্প সমন্বয়ক মারিয়া পিটারসন অনলাইন থেকে আলোচনায় যুক্ত হন।

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জামায়াত আমিরের—‘ফাউল গেমে যেন কেউ না জড়ায়’

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জামায়াত আমিরের—‘ফাউল গেমে যেন কেউ না জড়ায়’

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই হামলায় দলের কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন এবং আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

    বৃহস্পতিবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, “চট্টগ্রামে একজন নির্বাচনী প্রার্থী ও তার সহকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া জরুরি।”

    তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে কেউ যেন ‘ফাউল গেম’ খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এমন সুযোগে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা সমাজ ও রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক।”

    জামায়াত আমির মনে করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু বুধবারের এই হামলার ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

  • ফরিদপুরে ভাঙ্গা থানায় হামলা-ভাঙচুর: সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী প্রধান আসামি

    ফরিদপুরে ভাঙ্গা থানায় হামলা-ভাঙচুর: সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী প্রধান আসামি

    এবিএনএ: ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে।

    মঙ্গলবার ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজাদুজ্জামান বাদী হয়ে মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর আগের দিন সোমবার দুপুরে ভাঙ্গা থানায় এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শামছুল আজম সাংবাদিকদের জানান, থানায় হামলার ঘটনায় অন্তত ৪০ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের এক গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের অধীনে থাকা ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

    প্রথমে ৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গার বাসিন্দারা ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেন, তবে পরে পুনরায় একাধিকবার অবরোধ পালিত হয়।

    এই অবরোধ চলাকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রেলপথ অবরোধ করায় ট্রেন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।

    পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে দেড়শো জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়।

    অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে সহিংস পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ভাঙ্গা থানা, উপজেলা কমপ্লেক্স, হাইওয়ে থানা ও বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।

  • বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে উত্তেজনা

    বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “এটি সহিংসতার কারণে সৃষ্ট আগুন, তাই ঘটনাস্থলে যেতে অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের টিম প্রস্তুত আছে।”

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাতটার পর বিক্ষোভকারীরা প্রথমে অফিসের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সাড়ে ৭টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ আগস্ট কাকরাইলে জাতীয় পার্টির আরেকটি কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা একইভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল।

  • কাকরাইলে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল

    কাকরাইলে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল

    এবিএনএ:  রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদ ও জাপা কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    জাপার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গণঅধিকার পরিষদের মিছিল আসার পর তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের দাবি, জাপা কার্যালয়ের সামনে থাকা নেতাকর্মীরাই প্রথমে ইটপাটকেল ছুড়ে উসকানি দেয়।

    ঘটনায় কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০-১৫ জন গণঅধিকার পরিষদের কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংগঠনের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।

    তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল পল্টন জিরো পয়েন্ট থেকে নাইটেঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় জাতীয় পার্টির অফিস থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। সেখানে শুধু জাপা নয়, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরাও উপস্থিত ছিল।”

    সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে আছি। বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।”

    এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই সংবাদ সম্মেলন ও মশাল মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।

    রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। অনেক সমালোচক বলছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে জাপার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং এখনো আছে।

  • হাইকোর্টে খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মুলতবি

    হাইকোর্টে খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মুলতবি

    এবিএনএ:  যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যামামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিলের আবেদনের শুনানি গতকাল হাইকোর্টে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও খায়রুল হকের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত আদালত শুনানি স্থগিত করে আগামী ১৭ আগস্ট সকাল ১১টায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

    ঘটনাটি ঘটে বিচারপতি জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। খায়রুল হকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এম কে রহমান, কামরুল হক সিদ্দিকী, জেড আই খান পান্না, মোহসীন রশিদসহ আওয়ামীপন্থি বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

    শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি শুনানির জন্য এক সপ্তাহ সময় নিতে বলেছেন। এতে খায়রুল হকের আইনজীবীরা আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    এ সময় খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে এবং তারা বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় আদালতে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ক্ষেত্রে তারা কোথায় ছিলেন।

    খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা হয়। পরবর্তীতে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    জুলাই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। গত ২৪ জুলাই ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে যাত্রাবাড়ী ও ফতুল্লার দুটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।