Tag: রাজনৈতিক সংবাদ

  • ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাবনা, ইসির ইঙ্গিত চূড়ান্তের পথে

    ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাবনা, ইসির ইঙ্গিত চূড়ান্তের পথে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভোটগ্রহণের একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও তুলে ধরেন।

    ইসির এই ইঙ্গিত অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে এ সময়ের দু-এক দিন আগে বা পরে তারিখ নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়টিই নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আগামী ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের সভায় তফসিলসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বরের দিকেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।

    একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কারণে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের কথাও ভাবছে নির্বাচন কমিশন। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের সুবিধা বিবেচনায় গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ভোট শুরুর সময় সাড়ে ৭টায় এগিয়ে আনা এবং শেষ হওয়ার সময় সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, একই দিনে দুটি বড় প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে গেলে ভোটারদের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

  • হাসপাতালে সঙ্কটাপন্ন খালেদা জিয়া: বিদেশে নেয়ার মতো অবস্থায় নন, জানালেন মির্জা ফখরুল

    হাসপাতালে সঙ্কটাপন্ন খালেদা জিয়া: বিদেশে নেয়ার মতো অবস্থায় নন, জানালেন মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা মত দিয়েছেন যে, এখনই বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয় তার স্বাস্থ্য অবস্থা।

    শনিবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও লন্ডনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা জানিয়েছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে, প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘নেত্রী বর্তমানে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আমরা দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছি, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।’ তিনি জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিতভাবে আপডেট জানানো হবে।

    জানা গেছে, এভারকেয়ার হাসপাতালে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন।

    দলের নেতাদের মতে, বর্তমান শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছে চিকিৎসক বোর্ড ও পরিবার।

  • গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিল জামায়াতসহ ৮ দল

    গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিল জামায়াতসহ ৮ দল

    এবিএনএ: গণভোট আয়োজন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচটি দফা দাবি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে আট দলের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

    এর আগে সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় জড়ো হন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা। তারা পদযাত্রা করে পল্টন মোড় পর্যন্ত যান এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন।

    তবে মৎস্য ভবন এলাকায় পৌঁছালে পদযাত্রা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে জামায়াত নেতাসহ আট দলের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

    স্মারকলিপিতে যে পাঁচটি দাবি জানানো হয় তা হলো—
    ১. নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ জারি।
    ২. অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ।
    ৩. নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
    ৪. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
    ৫. রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা না দেওয়া।

    এই দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট।

  • ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ এ বিষয়ে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপরাধের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    নতুন সংযোজিত ৭৩(ক) ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র ঘোষণার পর থেকে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে কিংবা নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত করতে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রচার করে—তবে তা ‘দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    এই অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আরপিও-তে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় বট, ভুয়া সামাজিক অ্যাকাউন্ট বা সিনথেটিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরিও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি এই ধরনের ভুয়া তথ্য বা মিডিয়া কনটেন্ট শুধুমাত্র কোনো প্রার্থীকে নয়, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বা জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়, তাহলেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি আইন সংস্কারের ধারাবাহিকতা সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন বিধান অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি প্রকাশ করবে ইসি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ নির্বাচনে তথ্যভিত্তিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সংস্কার ও পরিবর্তন আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের কোনো নাগরিক চিকিৎসাবঞ্চিত থাকবে না।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিনামূল্যের চিকিৎসা শিবির শেষে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

    তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি জনগণের ভালোবাসায় ক্ষমতায় আসতে পারি, তবে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনব। যেন কোনো রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে থাকতে না হয়। অতিরিক্ত রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা, কৃষি, নারী ও বয়স্ক কল্যাণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সেবার মান হবে সবার জন্য সমান।”

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মানবসেবামূলক আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ও ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, “মানবতার সেবা এখন সময়ের দাবি। প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সেবা কার্যক্রমে যুক্ত হয়, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই।”

    ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ আলিম ডোনারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রায় সাত হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। ১৭০ জন চিকিৎসক, যার মধ্যে ৮০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সারাদিন ধরে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    এবিএনএ:  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে তারা সম্মত, তবে এতে দলের আপত্তিগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।

    বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানে এটি সঙ্গে সঙ্গে আইনি কাঠামো পাবে—এমন নয়। পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেই সনদটির আইনি বৈধতা দিতে হবে। কারণ এই সনদের আইনি ভিত্তি সংসদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সনদে স্বাক্ষর করব, তবে আমাদের মতবিরোধ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো অবশ্যই নথিভুক্ত থাকতে হবে। সবাই যদি একমত হতো, তাহলে আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না।”

    বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। পরে ঐকমত্য কমিশন সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেবে বলে জানান তিনি।

  • “মেরে ফেললেও জিডি করব না” — নিরাপত্তাহীনতায় বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান

    “মেরে ফেললেও জিডি করব না” — নিরাপত্তাহীনতায় বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান

    এবিএনএ:  বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি জীবনের শঙ্কায় থাকলেও নিজের বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন না। সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ফজলুর রহমান বলেন, “আমি যা বলেছি, তা যদি ছাত্ররা, ছেলেরা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের লোকেরা অপছন্দ করে, তাহলে তারা রাজনৈতিকভাবেই জবাব দিক। এজন্য হত্যার পথ বেছে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। আমার বক্তব্যে কারও অসম্মান হয়ে থাকলে সেটার প্রতিক্রিয়া গণতান্ত্রিকভাবে হওয়া উচিত, বাসার সামনে মব তৈরি করার মতো কাজের কোনো মানে নেই।”

    সম্প্রতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর রোববার মধ্যরাতে তার সেগুনবাগিচার বাসার সামনে বিক্ষোভ হয় এবং পুলিশসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা তাদের দায়িত্বই পালন করছেন বলে আমি মনে করি।”

    তিনি আরও জানান, বিক্ষোভের সময় পুলিশ খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ফোন করার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তবুও তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না।

    ফজলুর রহমান বলেন, “আমার জীবন আজ বড় শঙ্কার মুখে। তবে আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। অপমৃত্যুই আমার কাছে সবচেয়ে লজ্জাজনক। আমি চাই জনগণ জানুক আমার পরিবারের জন্য আমি বেশি দুশ্চিন্তায় আছি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। তবুও আমাকে যদি হত্যা করা হয়, আমি কোনো জিডি করব না। যদি ছাত্ররা মনে করে আমার বক্তব্যে অপরাধ হয়েছে, তারা মামলা করুক, আদালতে বিচার হোক।”

    সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও ছেলে উপস্থিত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।

  • রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:

    ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেক নেতা।

    মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, এপ্রিল মাসকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সঠিক সময় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, “এ সময় প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি এবং রোজার সময়কাল একত্রে হওয়ায় নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল থাকবে না। তাছাড়া ওই সময় পাবলিক পরীক্ষাও চলবে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারণা ও অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া উচিত। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, জনগণেরও প্রত্যাশা ছিল। ডিসেম্বরের আবহাওয়া, সময়সূচি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।”

    মির্জা ফখরুল মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার আলোকে হওয়া উচিত, আর সেটিই জাতীয় স্বার্থে গ্রহণযোগ্য হবে।