Tag: রাজনৈতিক সংঘর্ষ

  • ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে খুলনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু—ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

    ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে খুলনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু—ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

    এবিএনএ, খুলনা: খুলনা সদরের আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পরপরই কেন্দ্রের আশপাশে এই ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোট শুরুর সময় কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে কচি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা তাকে দ্রুত সহায়তার চেষ্টা করেন।

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠে এসেছে। বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আঘাত পান। অপর পক্ষের বক্তব্য, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় এবং অসুস্থতার কারণেই তিনি মারা যেতে পারেন।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার দায় নির্ধারণ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রে ও আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

  • কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    এবিএনএ: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচনী উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঘোড়া ও ধানের শীষ প্রতীকের অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। শুক্রবার গোপালপুর ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি পোল এলাকায় সর্বশেষ এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে প্রতিপক্ষ ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও গোপালপুর এলাকায় দুই প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঘোড়া প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের দুই কর্মী আহত হন। এসব ঘটনায় কচুয়া থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    আহত জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেলে করে গোপালপুর যাচ্ছিলেন, এ সময় কয়েকজন তাকে পথরোধ করে লাঠি দিয়ে মারধর করে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী টিম। তারা প্রচারণায় বাধা, কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেছেন।

    অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, তাদের প্রচারণা ও পোস্টারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বিষয়গুলো নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • ফেরি উদ্বোধন ঘিরে হাতিয়ায় উত্তেজনা: বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নলচিরা, আহত অন্তত ১০

    ফেরি উদ্বোধন ঘিরে হাতিয়ায় উত্তেজনা: বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নলচিরা, আহত অন্তত ১০

    এবিএনএ: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি চলাচল উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নলচিরা ঘাট এলাকায় এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরি চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঘাট এলাকায় জড়ো হন। উদ্বোধনের কৃতিত্ব কে নেবেন—এ নিয়ে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুরো নলচিরা ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন জানান, ফেরি চালুর কৃতিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একদল আরেক দলকে এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে সংঘর্ষ বাধে, এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়া থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    অন্যদিকে বিএনপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম দাবি করেন, এনসিপির লোকজনই বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

    শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

    এবিএনএ: শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে, যেখানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রাত পৌনে ১০টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

    শেরপুর-৩ আসনের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে আমাদের নেতা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত টানাপোড়েনপূর্ণ।”

    স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মাঠে উপস্থিত রয়েছেন।

  • কাকরাইলে জাপার সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে উত্তেজনা

    কাকরাইলে জাপার সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে উত্তেজনা

    এবিএনএ: রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কর্মী সমাবেশে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এতে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এরপর জাপা নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে জাপার নেতাকর্মীরা ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কর্মী সমাবেশ শুরু করেন। এতে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

    তবে সমাবেশের জন্য কোনো অনুমতি না থাকায় পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু জাপা নেতাকর্মীরা এতে আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “জাপা অনুমতি ছাড়াই সড়ক দখল করে সমাবেশ করছিল। আমরা তাদের শান্তভাবে সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।”

    এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রাখে।

  • কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও প্রাণহানির পরদিন কোটালীপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে দেড় হাজার নেতাকর্মীকে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কোটালীপাড়া থানার এসআই উত্তম কুমার সেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এতে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১ হাজার ৩৪৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল আলিম, মহিবউল্লাহ শেখ, সিরাজুল শেখ, দীপ্ত কাজী, প্রিন্স অধিকারী, মোরশালিন মুন্সী, রিফাত বিশ্বাস, সাগর শেখ, মানিক শেখ, সজল দাড়িয়া, আব্দুল হাকিম ও টুটুল হাওলাদার।

    তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ওয়াবদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়েছে।

    এর আগে বুধবার গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পদযাত্রা চলাকালে সংঘর্ষে প্রাণ হারান পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল রানা, ইমন এবং রিকশাচালক রমজান মুন্সী।

    সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপিনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ আলী আরও একটি মামলা করেন, যাতে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবারও কারফিউ কার্যকর রাখা হয়।

    স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রশাসন বলছে, শান্তি বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

  • বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১৫ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

    বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১৫ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

    এবিএনএ: শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘাতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা শেষ হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে।

    স্থানীয় সূত্র ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের মতে, ইজারার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শরীয়তপুর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিসান বালা এবং যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিন দিদারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    জিসান বালার অনুসারীরা রাত ৩টার দিকে চাঁদপুর-শরীয়তপুর সড়ক অবরোধ করেন। অন্যদিকে, মমিন দিদারের পক্ষের লোকজন নরসিংহপুর ফেরিঘাট দখল করে নেন এবং প্রতিপক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। ফলে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    চার শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে
    এই ঘটনায় ফেরিঘাট এলাকায় চার শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড গরমে বসে থাকতে বাধ্য হন।

    ট্রাকচালক নজরুল ইসলাম বলেন, “রাত ৩টার দিকে ঘাটে আসি, এখন দুপুর হয়ে গেছে। কাঁচামাল পচে গেলে আমাদেরই ক্ষতি। কোম্পানি টাকা কেটে রাখবে।”

    গরু ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, “ট্রাকে ২৫টি গরু নিয়ে যাচ্ছি টেকনাফ। এখন পর্যন্ত দুটি গরু অসুস্থ হয়ে গেছে। এই সমস্যা কাদের কারণে— সেটা জানতেই চাই না, শুধু দ্রুত ফেরি চালু হোক।”

    আইনি দ্বন্দ্ব এবং আদালতের আদেশ
    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিআইডব্লিউটিএ নতুন ইজারা দেয় জিসান বালাকে। তবে দাবি রয়েছে, উচ্চ আদালতের এক আদেশে মমিন দিদারকে বৈধ ইজারাদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    জিসান বলেন, “আমি বৈধ ইজারাদার, সরকারের কাছ থেকে ইজারা পেয়েছি। কিন্তু মমিনের লোকজন জোর করে ফেরিঘাট দখল করে গাড়ি বন্ধ করে চাঁদাবাজি করছে।”

    অন্যদিকে মমিন দিদারের দাবি, “উচ্চ আদালতের রায়ে আমি বৈধ ইজারাদার হয়েছি। আমার লোকজন ঘাটে নিয়ম মেনেই কাজ করছে। ঝামেলা করছে জিসানের অনুসারীরা।”

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ
    বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন জানান, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর ফেরিগুলো আবার যানবাহন পারাপার শুরু করে।

    এই ঘটনার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে চট্টগ্রাম রুটের যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি যাতে আবার না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং ঘোষণা করেছে কারফিউ।

    নিহত দুইজন হলেন—উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫) এবং কোটালীপাড়া উপজেলার রমজান কাজী (১৮)। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিকেলে তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং উভয়েই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

    তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের অস্ত্রোপচার চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার দুপুর ২টার দিকে এনসিপির সভা শেষে গাড়িবহর যখন লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছায়। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এর আগে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে পৌর পার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    সমাবেশ কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোসহ ইউএনও’র গাড়িবহরেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরো গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাত ৮টা থেকে পরদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই কারফিউ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি।

    এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

  • রাজপথে লড়াই চলবে, তবে ব্লকেড তুলে নিতে আহ্বান নাহিদের

    রাজপথে লড়াই চলবে, তবে ব্লকেড তুলে নিতে আহ্বান নাহিদের

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নাহিদ বলেন, “ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে।”

    এই আহ্বান জানানোর পর পোস্টটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যা দলীয় কর্মীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    এদিকে, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ শেষে গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার জেরে স্থানীয় প্রশাসন গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

    এনসিপি দাবি করছে, সমাবেশে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

    নাহিদ ইসলামের এই বিবৃতিতে একদিকে যেমন রাজপথে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে, তেমনি জনদুর্ভোগ এড়াতে ব্লকেড কর্মসূচি থেকে সরে আসারও ইঙ্গিত মিলেছে।

    এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের নজর এখন গোপালগঞ্জের পাশাপাশি রাজধানীতেও।