Tag: রাজনৈতিক দল

  • জুলাই সনদের মাধ্যমে ঐকমত্যের বার্তা দিতে চান অধ্যাপক ইউনূস

    জুলাই সনদের মাধ্যমে ঐকমত্যের বার্তা দিতে চান অধ্যাপক ইউনূস

    এবিএনএ, ঢাকা:

    রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একমত হয়ে আগামী জুলাই মাসেই জাতীয় ঐকমত্যের সনদ ঘোষণার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সব দলের অংশগ্রহণ ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সনদ তৈরি করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা আজ এখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত ভুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে একসাথে কাজ করতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি, ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি দৃঢ় জুলাই সনদ আমরা প্রকাশ করতে পারব।”

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে, সব পক্ষের মতামতকে সম্মান জানিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ পথরেখা নির্ধারণ সম্ভব হবে।

    এই সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও অংশগ্রহণ করে সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিভিন্ন অংশীজনরা।

    কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, “কমিশনের মেয়াদ আগামী ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত, তবে আমরা চাই জুলাইয়ের মধ্যেই ঐ সনদ চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হোক।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “এই দায়িত্ব শুধু প্রাতিষ্ঠানিক নয়, এটি একটি নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব—যা সফলভাবে সম্পন্ন করতেই হবে।”

    প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন, সরকারি প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত পাঁচটি প্রধান সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করার জন্য।

    কমিশনের প্রথম দফা সংলাপ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলে, যেখানে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং এর পরে সময়ক্ষেপণের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধন ছাড়া যেসব নির্বাচন-সম্পর্কিত সংস্কার দরকার, তা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়নযোগ্য। তাই জাতীয় নির্বাচন পেছানোর মতো কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো সংস্কার দেখছি না যা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে না। বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই ডিসেম্বরের মধ্যেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আমাদের প্রস্তাবও সেটাই।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, “আজকের আলোচনায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়। প্রধান উপদেষ্টা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশাবাদী।”

    জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব দলে সব বিষয়ে একমত হওয়া নাও হতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং ধীরে ধীরে একটি ব্যাপক ভিত্তির ঐক্য তৈরি করা সম্ভব হবে।”

    বিএনপি প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আজাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।