Tag: মোংলা বন্দর

  • মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গম: পঞ্চম চালানে এলো ৫৮ হাজার ৫০০ টন, খালাস কার্যক্রম শুরু

    মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গম: পঞ্চম চালানে এলো ৫৮ হাজার ৫০০ টন, খালাস কার্যক্রম শুরু

    এবিএনএ,মোংলা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজ থেকে গমের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘এমভি ক্যালাপসো এন’ নামের জাহাজটি বুধবার সমুদ্রসংলগ্ন বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় নোঙর করে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজ থেকে গম নামানোর কাজ শুরু হয়।

    জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠান সেভেন সিজের ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কালামা বন্দর থেকে জাহাজটি মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ১১ মার্চ বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় পৌঁছায় এবং পরদিন থেকে গম খালাস কার্যক্রম চালু করা হয়।

    মোংলা খাদ্য বিভাগের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবহান সরদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় এই গম আমদানি করা হচ্ছে। এই চুক্তির অধীনে মোট চার লাখ ৫০ হাজার টন গম মোংলা বন্দরের মাধ্যমে দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি জানান, চলমান আমদানি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি পঞ্চম চালান। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও চারটি চালান মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

    খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২ নভেম্বর প্রথম চালানে ২২ হাজার ৭৮০ টন, ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮৭৫ টন, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তৃতীয় চালানে ২২ হাজার ৭৫৬ টন এবং ১ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ চালানে প্রায় ৫৬ হাজার টন গম আমদানি করা হয়।

    এসব গম প্রথমে মোংলা বন্দরের সরকারি খাদ্যগুদাম বা সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় নিয়মিত খাদ্যশস্য আমদানি করা হচ্ছে।

  • ১৮০ দিনে বদলে যাবে মোংলা বন্দর! নৌ পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার আলো

    ১৮০ দিনে বদলে যাবে মোংলা বন্দর! নৌ পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার আলো

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ১৮০ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার শনিবার মোংলা বন্দর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু কাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দর খুব অল্প সময়েই কার্যকারিতা ও সক্ষমতায় চট্টগ্রাম বন্দর–এর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট যেসব উন্নয়ন চুক্তি স্থগিত বা বাতিল হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চুক্তিগুলো নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে; তবে যেসব চুক্তিতে দেশের ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো পুনরায় করার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচিত হবে।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মোংলায় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচছায় বরণ করলেন শ্রমিক কর্মচারীরা

    মোংলায় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচছায় বরণ করলেন শ্রমিক কর্মচারীরা

    এবিএনএ, মাসুদ রানা,মোংলা: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামকে ফুলের সংবর্ধনা জানালেন মোংলা বন্দর শ্রমিক সংগঠন সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা বাগেরহাট-৩ মোংলা রামপাল আসনের মোংলায় শনিবার প্রথম আগমনে মোংলাবাসীর পক্ষ থেকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথম নিজ এলাকায় সফর করেন। শনিবার বিকালে শ্রমিক-কর্মচারী সংঘ চত্ত্বরে মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: জুলফিকর অলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাসির তালুকদার, গোলাম জনি সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বিএনপি নেতা-কর্মী এবং মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।

    এর আগে সকালে তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলনে কক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এসময় তারা বন্দরের উন্নয়নে নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এলাকার ইতিবাচক ও গঠনমূলক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও কর্মচঞ্চল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সাথে তার সহধমিনী, ছেলে ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

  • অভূতপূর্ব সাফল্যে মোংলা বন্দর: ৭ মাসেই রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

    অভূতপূর্ব সাফল্যে মোংলা বন্দর: ৭ মাসেই রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নজির গড়েছে মোংলা বন্দর। জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬—এই সময়ে ৩১টি বিদেশি কন্টেইনারবাহী জাহাজ আগমনের মাধ্যমে মোট ২১ হাজার ৬৫১ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। লক্ষণীয়ভাবে, গত পুরো অর্থবছরে যে পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল, চলতি বছরে সাত মাসেই তা অতিক্রম করা হয়েছে।

    বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, এই সাত মাসে মোট ৫১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৪০৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

    বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়াতে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় HP-1, HP-2 ও HP-3 নামে তিনটি নতুন অপারেশনাল অ্যাঙ্কর বার্থ চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এসব বার্থে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে কার্গো অপারেশন সম্পন্ন করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.০০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এসব বার্থে নিয়মিতভাবে পণ্য ওঠানামা করতে পারবে।

    বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈলবীজ, এলপিজি, যন্ত্রপাতি ও অটোমোবাইলসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড়সহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, অবকাঠামো ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বাকি পাঁচ মাসে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

  • জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন

    জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন

    এবিএনএ, মোংলা : বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর তার ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) ১ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছে। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর চালনা পোর্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরটি ৭৫ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    রাত ১২টা ১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব জাহাজে এক মিনিট ধরে হুইসেল বাজিয়ে প্লাটিনাম জয়ন্তীর শুভ সূচনা করা হয়। পরে বন্দর সদর দপ্তর থেকে জেটির প্রধান ফটক পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমানসহ বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা।

    বন্দরের কৃতিত্বপূর্ণ কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বন্দর ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ জাহাজ কয়লা, সার, কন্টেইনার, গাড়ি এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনকারীরা।

    চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ মোংলা বন্দর।” তিনি জানান, বর্তমানে বন্দর থেকে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, মেশিনারিজ, কয়লা, তেল, এলপিজি গ্যাসসহ নানা পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হচ্ছে।

    এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় বন্দর এলাকায় Port Reception Facility (PRF) প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো তেলবাহী জাহাজ থেকে দুর্ঘটনাবশত পানিতে তেল নিঃসরণ হলে তা দ্রুত সংগ্রহ করে নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে।

    তিনি জানান, বন্দরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং নতুন কিছু প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বন্দর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আরও বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ৭৫ বছরে মোংলা বন্দর: সমৃদ্ধ বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

    উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ৭৫ বছরে মোংলা বন্দর: সমৃদ্ধ বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

    এবিএনএ,মোংলা: প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর ৭৬ বছরে পর্দাপণ দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলা। এক সময়ের মৃত বন্দরটি এখন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয় এবার অপার সম্ভাবনাময় বন্দর হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নজরও কেড়েছে এই বন্দর। বলা যায় এই বন্দরটি হতে যাচ্ছে আগামী দিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সোপান। দীর্ঘ ৭৫ বছরে ধারাবাহিকভাবে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ২৫ ভাগই পরিচালিত হচ্ছে দেশের এই সমুদ্র বন্দর দিয়ে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত মোংলা বন্দর আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। প্রতি বছর বন্দরের আয়ও বাড়ছে। নিজস্ব তহবিল থেকে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশি বিদেশিদের বিনিয়োগ।

    আধুনিক কার্গো-কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজন, ইয়ার্ড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের মোংলা বন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারীরা এ প্রতিবেদককে বলেন, মোংলা বন্দরকে আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গোপসাগর থেকে জেটি পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা ধরে রাখা জরুরী। এটা বন্দরের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী বছরগুলোতে জাহাজ আগমন বাড়বে। এখন থেকে বন্দর চ্যানেলের ড্রেজিং কার্যক্রমকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

    বন্দরের সিনিয়র উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বন্দর জেটি থেকে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত র‍্যালি, শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্বোধন। সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ ও পরে বন্দরের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন রহমানের শুভেচ্ছা বক্তব্য।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির কেক কাটা, আলোচনা সভা, এরপর বেলা ১১টায় সর্বোচ্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের ক্রেস্ট প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রেস্ট প্রদান। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন আমদানি রফতানিকারক ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী, খুলনা ও বাগেরহাটের চেম্বার অব কমার্স সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, সিবিএ ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মোংলা বন্দরের অগ্রগতি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান এবং দুপুর দেড়টায় মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব আনুষ্ঠানিকতা।

    ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর পশুর নদীর জয়মনির ঘোলে ‘দি সিটি অব লিয়নস’ নামে প্রথম ব্রিটিশ পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙ্গরের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় চালনা এ্যাংকারেজ পোর্ট নামে মোংলা সমুদ্র বন্দরের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

  • বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতালে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

    রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে খুলনা থেকে মোড়েলগঞ্জগামী মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় যাত্রা শুরু করলেও হরতালের কারণে বারবার গাড়ি বদল করতে হচ্ছে। কাটাখালি থেকে দশানী পর্যন্ত পৌঁছে আর কোনো পরিবহন পাননি। তার অভিযোগ, আন্দোলন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়িয়ে দিয়েছে।

    একই দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। খুলনা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার জানান, সকাল থেকে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তিনি এখনও বাগেরহাটের বাইরে যেতে পারেননি। পরীক্ষার দিন এমন পরিস্থিতি তাকে দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

    মো. মিজান নামের আরেক যাত্রী জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে আটকে যেতে হচ্ছে। রাস্তার উপর গাছ ফেলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুরোধ করলেও পথ অবরোধকারীরা রাস্তা খুলে দেয়নি, তাই মাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

    অঞ্চলজুড়ে একই দৃশ্য। দূরপাল্লার কোনো বাস চলেনি, অটোরিকশা ও ভ্যানও খুব কম সংখ্যায় চলেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    হরতালের বিষয়ে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চার আসনের পরিবর্তে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে আমরা আন্দোলনে নামি। সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। তাই আজ হরতাল ও অবরোধ ডাকতে হয়েছে।”

    তিনি দাবি করেন, জেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের দাবিকে সমর্থন করেছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, মোংলা বন্দর এলাকার বেশিরভাগ অফিসও তালাবদ্ধ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলন ‘সফল’ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই হরতাল আন্দোলন জেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

  • মোংলা বন্দরে নজিরবিহীন সাফল্য, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধি

    মোংলা বন্দরে নজিরবিহীন সাফল্য, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রত্যেকটি সূচকে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। রাজস্ব আয়, জাহাজ আগমন, কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং— সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি টাকায়, যা পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০৩ শতাংশ বেশি

    বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, প্রধান হিসাব কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, ট্রাফিক পরিচালক মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    🔷 লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পারফরম্যান্স

    সর্বশেষ অর্থবছরে ৮৩০টি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসেছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০টি। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০৪.১২ লাখ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন বেশি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৪৫৬ টিইইউ, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০,০০০।

    রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যেখানে আয় হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। নিট মুনাফা হয়েছে ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা পূর্বের লক্ষ্যমাত্রা ২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চেয়ে প্রায় তিন গুণ।

    🔷 সুবিধা ও সম্ভাবনার বিস্তারিত

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মোংলা বন্দরে নেই কোনো জাহাজ জট। কন্টেইনার খালাসে টার্ন এরাউন্ড টাইম মাত্র ১.৬৬ দিন বা ৪০ ঘণ্টা। রয়েছে ৭টি কন্টেইনার ইয়ার্ড, ৩৮টি সহায়ক জলযান, ১৩৪টি আধুনিক মেশিন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, উন্নত নিরাপত্তা ও ন্যাভিগেশন সুবিধা।

    বন্দর দিয়ে বর্তমানে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে:
    খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, গ্যাস, সয়াবিন তেল, জ্বালানী তেল, কয়লা, কাঠ, ক্লিংকার, লোহার পাইপ ইত্যাদি।

    রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
    গার্মেন্টস, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, কাঁকড়া, ক্লে, শুকনা মাছ ও মেশিনারি যন্ত্রাংশ।

    🔷 উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে জেটি নির্মাণ, ইনারবার ড্রেজিং, চ্যানেল ন্যাভিগেশন ইত্যাদি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে জানান কাজী আবেদ হোসেন

    বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারের নির্দেশনা ও চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের নেতৃত্বে বন্দরের ব্যবস্থাপনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দর ব্যবহারকারী ও আয়ের পরিমাণ দুই-ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • মোংলা-ঢাকা রুটে আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবিতে মোংলার জনগণ এবার রাস্তায়

    মোংলা-ঢাকা রুটে আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবিতে মোংলার জনগণ এবার রাস্তায়

    এবিএনএ: বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মোংলা পোর্ট পৌর ভবনের সামনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

    তাদের একটাই দাবি—মোংলা থেকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং দুইটি আন্তনগর ট্রেন চালু করতে হবে।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোংলা শুধু একটি সমুদ্রবন্দর নয়, এটি এখন একটি শিল্প শহরে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে এলপিজি টার্মিনাল, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নানা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। অথচ এখনও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এর কোনো সরাসরি রেল সংযোগ নেই।

    বক্তারা আরও বলেন, পদ্মা সেতুর চালু হওয়ার পর মোংলা ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন বসানো হয়েছে, তাই নতুন করে বড় কোনো অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেন চালু করা সম্ভব।

    এ ধরনের ট্রেন চলাচল শুরু হলে মোংলা বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে, বাড়বে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা। সেইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে মোংলার অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক সংযুক্তি আরও জোরদার হবে।

    বক্তারা দিনে অন্তত দুটি আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, এটি কেবল মোংলার জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন:
    মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মো. জুলফিকার আলী, ব্যবসায়ী আহসান হাবীব হাসান, নুর আলম শেখ সহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    তারা রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে অনতিবিলম্বে এই দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

  • উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে টানা ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে মাছ ধরার শত শত ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন নিরাপদ খালে। মোংলা, কচিখালী, কটকা, সুপতি ও দুবলা এলাকা থেকে শুরু করে শরণখোলা এবং রাজৈর উপকূলেও দেখা গেছে ট্রলারভর্তি খাল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। ফলে সমুদ্রজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ংকর ঢেউ ও ঝড়ো বাতাস। এরই প্রেক্ষিতে মোংলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, উত্তাল সমুদ্রের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

    বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অসংখ্য ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে ঠাঁই নিয়েছে। যেহেতু ১ জুন থেকে সুন্দরবনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই এই ট্রলারগুলোর উপর কড়া নজরদারি চলছে। কেউ আশ্রয়ের অজুহাতে মাছ ধরতে গেলে, তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা হবে।”

    মোংলা বন্দরে টানা বৃষ্টির কারণে পণ্য ওঠানামাও ব্যাহত হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সাতটি জাহাজে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েকদিনেও সাগরে ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোতেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।