Tag: মুসলিম বিশ্ব

  • ২০২৬ হজের প্রস্তুতিতে বড় ঘোষণা, রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে ভিসা ইস্যু

    ২০২৬ হজের প্রস্তুতিতে বড় ঘোষণা, রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে ভিসা ইস্যু

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। ১৪৪৭ হিজরি সনের হজের জন্য আগামী রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    মন্ত্রণালয় জানায়, হাজিদের আগমনের বহু আগেই সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভিসা ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করা।

    ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় বিশ্বব্যাপী হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রাথমিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁবু, আবাসন ও পবিত্র স্থানসংক্রান্ত তথ্য আগেভাগেই সরবরাহ করা হয়েছে।

    ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসন ও প্রয়োজনীয় সেবা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যক্রম শুরু হয় রবিউল আউয়াল মাস থেকে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হাজি নিবন্ধন ও পরিচালনাগত তথ্য চূড়ান্ত করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনার আবাসন, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবার চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হলেও মার্চে তা চূড়ান্ত করা হবে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক হাজিরা দেশটিতে প্রবেশ করতে শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়েই হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ হাজি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় আর্থিক লেনদেন ও বুকিং প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হচ্ছে।

  • ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    এবিএনএ: বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ব্যতিক্রমী ধর্মীয় বছর। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে মুসলিমরা দুইবার হজ পালন করবেন এবং উদযাপন করবেন তিনটি ঈদ। এমন ঘটনা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই বছরে দুটি ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের খ্যাতিমান জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই ব্যতিক্রমী মিল ঘটছে হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত পার্থক্যের কারণে।

    হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজে প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে, যা হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিন।

    এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রায় পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবারও ১০ জিলহজে পৌঁছাবে। ফলে ১৪৬১ হিজরির ঈদুল আজহা ওই দিন পালিত হবে এবং একই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো হজ অনুষ্ঠিত হবে।

    এই দুই ঈদুল আজহার আগে দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। আরাফার দিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে বিশেষ ইবাদতে অংশ নেন।

    এই দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছর মুসলমানরা রমজান, রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের সাক্ষী হবেন।

    🔹 এক বছরে দুইবার রমজানও আসছে

    চন্দ্রবর্ষের এই অগ্রগতির প্রভাব শুধু হজ বা ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আবার ডিসেম্বর মাসে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের, আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক হওয়ায় এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী ধর্মীয় সমাপতন ঘটে।

    ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক—উভয় দিক থেকেই এই ঘটনাগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন গবেষকরা।