Tag: মানবিক বিপর্যয়

  • যুদ্ধের পাশাপাশি শীতের থাবা: গাজার তাঁবুতে জমে প্রাণ ঝরছে নিষ্পাপ শিশুদের

    যুদ্ধের পাশাপাশি শীতের থাবা: গাজার তাঁবুতে জমে প্রাণ ঝরছে নিষ্পাপ শিশুদের

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতায় নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে শীত। খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি জরাজীর্ণ তাঁবুর ভেতরে তীব্র ঠান্ডায় জমে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতকের। শিশুটির নাম মোহাম্মদ। কনকনে শীত ও পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে তার এই মৃত্যু গাজার বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর করুণ বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

    শিশুটির মা ইমান আবু আল-খায়ের জানান, জন্মের সময় মোহাম্মদ পুরোপুরি সুস্থ ছিল। তবে তাঁবুর ভেতরের প্রচণ্ড ঠান্ডা তার ছোট শরীর সহ্য করতে পারেনি। ১৩ ডিসেম্বর রাতে ভারী বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে শিশুটি হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন তার হাত-পা ছিল বরফের মতো ঠান্ডা এবং শরীরের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

    ইমান জানান, রাতের অন্ধকার, বৃষ্টি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যানবাহন না পাওয়ায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে গাধার গাড়িতে করে রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৫ ডিসেম্বর সকালে মোহাম্মদ মারা যায়।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তীব্র ঠান্ডার কারণে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়াই শিশুটির মৃত্যুর কারণ। চলতি মাসে গাজায় শীতজনিত কারণে প্রাণ হারানো শিশুদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

    ইমানের পরিবার খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বর্তমানে প্লাস্টিক ও ত্রিপলের তৈরি একটি অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। তিনি বলেন, সামান্য কাপড় বা পলিথিন দিয়ে শিশুদের শরীর গরম রাখা অসম্ভব। বৃষ্টির পানি তাঁবুর ভেতরে ঢুকে সবকিছু স্যাঁতসেঁতে করে তোলে। যুদ্ধের আগে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন থাকলেও এখন তাদের সন্তানরা অনাহার, বোমা ও শীতের শিকার হচ্ছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, শীতকাল জুড়ে আরও বহু শিশু ও বৃদ্ধের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অপর্যাপ্ত আশ্রয়, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা জটিলতা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় লাখো মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে গাজার অসংখ্য তাঁবু এখন মৃত্যুঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

  • রাখাইন রাজ্যের হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা: এক রাতে নিহত ৩১, আহত ৬৮

    রাখাইন রাজ্যের হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা: এক রাতে নিহত ৩১, আহত ৬৮

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় এমরাউক-উ জেলার একটি হাসপাতালে সামরিক সরকারের বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ করলে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরও ৬৮ জন আহত হন।

    হামলার পরপরই উদ্ধারকাজে যুক্ত থাকা স্বাস্থ্যকর্মী ওয়াই হুন অং এএফপিকে বলেন, “অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মরদেহ এবং ৬৮ জন আহতকে উদ্ধার করেছি। মনে হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।”

    তিনি জানান, হামলার পর পুরো রাতজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলেছে এবং এখনো চলছে। রাতেই অন্তত ২০টি লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এএফপি জানায়, হামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে জান্তা মুখপাত্রদের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি।

    গত কয়েক মাস ধরে রাখাইন প্রদেশের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে মিয়ানমারের অন্যতম সশস্ত্র জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বুধবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাসপাতাল হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে এএ-ও।

    মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে এ ধরনের হামলা, দাবি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর। সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এই সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

  • গাজায় রক্তপাত থামছে না: ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের সীমা

    গাজায় রক্তপাত থামছে না: ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের সীমা

    এবিএনএ:  যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামছে না গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা। ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের বেশি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনের বেশি। নিহতদের বড় অংশই শিশু, নারী এবং নিরীহ বেসামরিক মানুষ।

    দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, খান ইউনিসের বেনি সুহাইলা এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স মাত্র ৮ ও ১১ বছর। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    এছাড়াও শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে, অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা সন্দেহভাজন তিন জনকে গুলি করেছে। দক্ষিণ গাজায় আরও একজন নিহত হওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছে তারা।

    হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

    কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদী এই সংঘাতের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনা এখনও আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    গাজার পাশাপাশি উত্তেজনা বেড়েছে পশ্চিম তীরেও। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সেখানে আত্মসমর্পণের পরও দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। আরব টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি হাত তুলে আত্মসমর্পণ করার পরও তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    গাজায় সহিংসতার মাত্রা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

  • কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

    কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

    এবিএনএ: রাজধানীর মহাখালী এলাকার কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি ফায়ার সার্ভিস। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে একের পর এক ঘর-বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়লেও এখনো আগুনের তাপে বস্তির বিভিন্ন স্থানে দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়ার পর প্রথমে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকায় ধাপে ধাপে ইউনিট বাড়িয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তা ১৬টিতে উন্নীত করা হয়। পরে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়ে বর্তমানে মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নিভানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাওBuckets, পাইপ ও কাঁধে পানি নিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করছেন।

    আগুন ছড়িয়ে পড়তেই বস্তির হাজারো বাসিন্দার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী রক্ষা করার চেষ্টা করলেও বেশিরভাগ বাসিন্দাই কিছুই বাঁচাতে পারেননি।

    ফায়ার সার্ভিস এখনো আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্রও এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে এবং বহু পরিবার রাতের আঁধারে গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

    প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কড়াইল বস্তিতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ঘর রয়েছে। এই বস্তিতে অতীতে কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাতের অগ্নিকাণ্ডে ডজনখানেক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের মার্চ ও ডিসেম্বরেও একইভাবে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বস্তিটি।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বারবার অগ্নিকাণ্ড হলেও প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। দ্রুত পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

  • গাজায় মৃত্যুর মিছিল, অনাহারে প্রাণ হারাল প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি

    গাজায় মৃত্যুর মিছিল, অনাহারে প্রাণ হারাল প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি

    এবিএনএ:  গাজা উপত্যকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে মানবিক বিপর্যয়। ইসরায়েলের অবরোধ ও ক্রমাগত হামলার মধ্যে খাদ্য সংকটে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৭ জন ফিলিস্তিনি। মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৯৬।

    ট্যাক্সিচালক ইব্রাহিম আল নজ্জরের পরিবার এই বিপর্যয়ের করুণ উদাহরণ। সব হারানো ইব্রাহিম বলেন, তার সন্তান সাঈম না খেয়ে এক মাস অচেতন থাকার পর মারা গেছে। “একসময় সে ছিল খুবই সবল”—আক্ষেপের সঙ্গে বলেন তিনি।

    এ ঘটনা গাজার লাখো পরিবারের একটিমাত্র চিত্র। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না, দুর্বল বৃদ্ধদের নিঃসহায়তা ও মায়ের চোখের পানি যেন গাজার প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ইসরায়েলের বোমা হামলায় বৃহস্পতিবারই প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে একাধিক শিশু। অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল নাসির হাসপাতালে এক শিশু, এবং আল মাওয়াসি এলাকায় ২ বছরের এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

    ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপ বা বিক্ষোভ আমলে না নিয়ে যুদ্ধ ও অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন” নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণের নামে হামলা চালাচ্ছে। এই সংগঠন শিশু-বৃদ্ধ কাউকে না দেখে গুলি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    চিকিৎসাসেবী সংস্থা এমএসএফ (Médecins Sans Frontières) এক বিবৃতিতে বলেছে, “৫৪ বছরের ইতিহাসে আমরা এমন নৃশংসতা আগে দেখিনি।” এটি কোনো ত্রাণ সংস্থা নয়—এখানে চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা।

    চাষাবাদের পতন:
    জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় এখন চাষযোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র ১.৫%—যা আগের ৪% থেকে দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। আগে কৃষিনির্ভর গাজায় ফল, সবজি ও বাদাম চাষ হতো।

    ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ:
    ইসরায়েলেই যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘সম্পূর্ণ গাজা দখল’ পরিকল্পনার প্রতিবাদে চলছে আন্দোলন। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় নেতারাও গাজায় যুদ্ধকে “গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছানো” বলে মন্তব্য করেছেন।

    এই মানবিক বিপর্যয়ের অবসান কোথায়, তা আজ কেউ বলতে পারছে না। বিশ্বের দৃষ্টি এড়িয়ে ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডি যেন প্রতিদিন সামনে এগিয়ে চলেছে।

  • গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল ৬৭ ফিলিস্তিনি: ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত উত্তরের চিত্র

    গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল ৬৭ ফিলিস্তিনি: ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত উত্তরের চিত্র

    এবিএনএ: গাজার উত্তরে ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে কমপক্ষে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতরা জাতিসংঘের সরবরাহকৃত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে জড়ো হয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ‘তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক গুলি’ চালিয়েছিল। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গুলি ছিল নির্বিচার এবং হঠাৎ করেই চালানো হয়।

    এর আগের দিন শনিবারও একইভাবে ৩৬ জন নিহত হন, যারা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফলে মাত্র দুই দিনে গাজায় এই ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১০০ জনের বেশি। আহতদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    উত্তর গাজার শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে অধিকাংশ হতাহতকে। হাসপাতালটির চিকিৎসা পরিচালক ড. হাসান আল-শায়ার জানান, আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। অনেককে আশপাশের ফিল্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মানুষেরা বর্তমানে চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন। শিশুদের অপুষ্টি এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ দেইর আল-বালাহ এলাকা থেকে নতুন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বাসিন্দাদেরকে দ্রুত ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী আল-মাওয়াসি অঞ্চলে চলে যেতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ আক্রমণের পূর্বাভাস হতে পারে।

    গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে সংঘাত, যা গোটা অঞ্চলের জন্য মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি গাজার পুরো ভূখণ্ডের উপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে ‘অভূতপূর্ব’ হামলার পূর্ব-বার্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। এএফপি-খবরে উঠে এসেছে এই তথ্য।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেয়েসুস একই সময় সতর্ক করেন, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন অনাহারের মুখে। তাঁর ভাষায়, “টনকে টন খাদ্যসামগ্রী সীমান্তে আটকে আছে, অথচ তা গন্তব্য থেকে মাত্র মিনিটখানেক দূরে।”

    ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিলেও জাতিসংঘ অন্যান্য সংস্থাগুলো একে মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারেই ‘অপর্যাপ্ত’ বলেই চিহ্নিত করেছে।

    নেতানিয়াহু বলেন, “লড়াই এখন আরও তীব্র হচ্ছে। আমরা একের পর এক সাফল্য অর্জন করছি এবং গাজার প্রতিটি ইঞ্চি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই এগোচ্ছি। পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না।”

    মে মাসের শুরুতেই ইসরায়েল একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে যার মূল লক্ষ্য গাজার পূর্ণ দখল এবং জনগণকে স্থানচ্যুত করা।

    ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

    তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের জিম্মিদের যদি কোনো মানবিক সহায়তা না মেলে, তাহলে শত্রুপক্ষও কোনো সহায়তা পাবে না।” অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ কিছু সীমিত সহায়তাকে সমর্থন করে বলেন, “এই সহায়তা শুধুই বেসামরিক মানুষের জন্য এবং এটি আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সমর্থন ধরে রাখার কৌশল।”

    খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবন

    সোমবার দিনভর ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ১৬০টি স্থানে হামলা চালায়। শুধু খান ইউনিসেই প্রাণ হারান ১১ জন, অন্যত্র আরও ১১ জন নিহত হন।

    খান ইউনিস থেকে এএফপি জানায়, আহতদের বহন করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিশুরা কেউ ট্র্যাকস্যুটে, কেউ রক্তাক্ত শরীরে নগ্ন পায়ে মেঝেতে বসে। চারপাশে শুধু কান্না, আতঙ্ক আর ধ্বংস।

    গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ সারহান বলেন, “প্রতিটি দিক থেকে গুলি, আগুন, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান—যেন এক ভয়াবহ বিভীষিকা।”

    উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ভাই হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়মান বাদওয়ান। “আমরা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। দেহে শক্তি নেই, মনের মধ্যে ভর করে আছে আতঙ্ক। এখনই আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

    প্রাণহানির পরিসংখ্যান

    ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,২১৮ জন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক। মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে এখনও ৫৭ জন গাজায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সর্বশেষ আক্রমণে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩,১৯৩ জন। মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৩,৩৩৯-এ, যা গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রকাশিত।