Tag: মানবাধিকার

  • ‘মব ভায়োলেন্স থেকে বেরিয়ে আসলেই প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র’: মির্জা ফখরুল

    ‘মব ভায়োলেন্স থেকে বেরিয়ে আসলেই প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র’: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সহনশীলতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অটুট রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে ভিন্নমতকে সম্মান করা, আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু যখন আমরা মব ভায়োলেন্স বা সহিংস ভিড়তন্ত্রে জড়িয়ে পড়ি, তখন গণতন্ত্রের আসল চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।’

    বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটা পরিবর্তনের পথে হাঁটছি। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, শিডিউল এখনও হয়নি, কিন্তু নির্বাচনই শেষ কথা নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, সেটাই আসল অর্জন।’

    গণতন্ত্রের মূল বার্তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তোমার মতের সঙ্গে আমি একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আমি আমার জীবন দিয়েও তা ধরে রাখব— এটাই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি টেকসই রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে গণতন্ত্রকে বাস্তবভাবে প্রতিপালন করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কার্যকর সংসদ, স্বচ্ছ মিডিয়া ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে।’

    রাজনীতিতে বিভাজন ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু মহল সচেতনভাবে দেশের ভিন্নমতের মানুষের মধ্যকার বিভক্তি বাড়াতে চাইছে, যাতে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে এগোনো বন্ধ হয়। এগুলো আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

    তিনি বিএনপির ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিএনপি বিপ্লবী নয়, এটি একটি লিবারাল ডেমোক্রেটিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসছি।’

    অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল হক, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

  • ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    এবিএনএ:  গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন খ্যাতনামা পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।

    বন্দিশিবিরে থুনবার্গকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং শরীরে পতাকা জড়িয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছেন একাধিক মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মী।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) ১৩৭ জন কর্মীকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৩৬ জন তুরস্কের নাগরিক এবং বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী।

    তুরস্কের সাংবাদিক এরসিন চেলিক জানান, “আমি নিজ চোখে দেখেছি—গ্রেটাকে জোর করে পতাকায় চুমু খাওয়ানো হচ্ছে, যেন তাকে অপমানের প্রতীক বানানো হয়।”

    মালয়েশীয় মানবাধিকার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “আমাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে, ঠেলে সরানো হয়েছে, কেউ কেউ তিনদিন না খেয়ে ছিলেন।”

    একই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার—তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

    ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন, “২২ বছরের সাহসী তরুণী গ্রেটাকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়—এ যেন এক ভয়ানক অবমাননা।”

    আরেক তুর্কি কর্মী ইকবাল গুরপিনার জানান, “তিন দিন আমাদের না খাইয়ে রাখা হয়েছিল, এমনকি টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য করা হয়।”

    ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানায়, আটক কর্মীদের হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, ওষুধ দেওয়া হয়নি, এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়।

    তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, দাবি করেছে আটককৃতদের যথাযথ খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হলো গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। ৪০টিরও বেশি নৌযানে ৪৪ দেশের ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
    এই বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে তিউনিসিয়া, ইতালি ও গ্রিসের বিভিন্ন বন্দরে যোগ দেয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি প্রমাণ যুক্ত হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

  • বাংলাদেশ কখনো অবিচারের কাছে নত হয়নি, হবেও না: তারেক রহমান

    বাংলাদেশ কখনো অবিচারের কাছে নত হয়নি, হবেও না: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ সবসময় ন্যায়ের পথে অবিচল থেকেছে— এমন বার্তা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ অবিচার ও নিপীড়নের কাছে কখনো মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি গাজা অভিমুখে যাত্রা করা মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে অভিনন্দন জানান।

    তারেক রহমান বলেন, “গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলমের অংশগ্রহণ কেবল সংহতির প্রকাশ নয়; এটি ন্যায়ের পক্ষে বাংলাদেশের মানুষের বিবেকের এক দৃঢ় উচ্চারণ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের পতাকা হাতে শহিদুল আলম বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছেন, আমাদের জাতি অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াতে জানে না।”

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও আশ্বাস দেন, “বিএনপি সবসময় শহিদুল আলমের মতো সাহসী কণ্ঠদের পাশে থাকবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায়ের লড়াইয়ে বিএনপির সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”

    এই বার্তার মাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবিক অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • গাজামুখী ফ্লোটিলা আটক, মাত্র চারটি নৌযান এখনো যাত্রাপথে

    গাজামুখী ফ্লোটিলা আটক, মাত্র চারটি নৌযান এখনো যাত্রাপথে

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজাগামী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৪৪টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এখনো চারটি নৌযান যাত্রাপথে রয়েছে বলে ফ্লোটিলা ট্র্যাকার সূত্রে জানা গেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামারটাইম-জং’ ও ‘শিরিন’ নামের দুটি নৌযান আইনি সহায়তার কাজে নিয়োজিত ছিল। এর মধ্যে মিকেনো প্রথম ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে মিকেনো ও ম্যারিনেট নৌযান এখনো গন্তব্যের পথে রয়েছে।

    তবে তুরস্কের সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী মিকেনোকে আটক করে নৌযানে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আটককৃতরা একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বন্দরে পৌঁছাবেন।

    ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলার নৌযানগুলোতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মীদের আটক করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটকরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

    ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগস্টের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে ছিল ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান। প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নেন, যারা ওষুধ ও খাদ্য বহন করছিলেন। গাজার ওপর দীর্ঘ ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। তুরস্ক, স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের সহায়তায় নৌযান ও ড্রোন পাঠায়। তবে বারবার সতর্কতা দিয়েছিল ইসরায়েল।

    ফ্লোটিলায় অভিযান চালানোয় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে। ইস্তান্বুল প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, আটক হওয়া ২৪ জন তুর্কি নাগরিকের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • রোহিঙ্গা নিপীড়নের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করল ওআইসি

    রোহিঙ্গা নিপীড়নের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করল ওআইসি

    এবিএনএ:  রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার আট বছর পূর্তিতে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) আবারও এই জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়েছে।

    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, রোহিঙ্গারা এখনও রাষ্ট্রহীনতা, নিপীড়ন এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার। বর্তমানে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন। অপরদিকে মিয়ানমারে হাজারো রোহিঙ্গা হত্যা, বৈষম্য এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন।

    ওআইসি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানায়, যা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে। একই সঙ্গে তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মিকে আইসিজের নির্দেশনা মেনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশসহ ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলো যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মুসলিম বিশ্বের অবদান প্রশংসনীয় এবং এটি অব্যাহত রাখতে হবে।

    ওআইসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ নিরসনে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই বিশেষ দিনে ওআইসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাহস ও দৃঢ়তাকে শ্রদ্ধা জানায় এবং তাদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করে।

  • কারাদণ্ড পেলেন এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইমামোলু, উত্তাল তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ

    কারাদণ্ড পেলেন এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইমামোলু, উত্তাল তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  তুরস্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় তৈরি করেছেন ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোলু। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতা এক সরকারি কর্মকর্তাকে অপমান ও হুমকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত তাকে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেন।

    এই রায় ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো মানুষ। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা এবং এর মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ইমামোলু কারাগারে আছেন। কিন্তু মামলার সূত্রপাত আরও আগে—২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আকিন গুরলেকের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি গুরলেককে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেন।

    এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মামলা, তারপর গ্রেপ্তার এবং অবশেষে আদালতের রায়। যদিও ইমামোলুর আইনজীবীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    ইস্তাম্বুলের রাস্তায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ দেখা গেছে এই রায়ের পর। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ইমামোলুর স্ত্রী দিলেক কায়া ইমামোলুও। বিক্ষোভে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এরদোয়ানের সময় শেষ। এই অন্যায়ের জবাব দেশের জনগণ দেবে।”

    ইমামোলু বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-এর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালে হওয়ার কথা, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এর আগেও নির্বাচন এগিয়ে আনা হতে পারে।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইমামোলু ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত।”

    ২০১৯ সালে ইমামোলু প্রথমবার ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন এবং গত বছর পুনর্নির্বাচিত হন ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে। গ্রেপ্তারের পর জেল থেকেই এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “জনগণ এরদোয়ানকে বার্তা দিয়েছে—এই অন্যায় আর বরদাশত নয়।”

    এই রায়ের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো, তুরস্কে বিরোধী রাজনীতিবিদদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে উঠছে অবস্থান। এখন পুরো বিশ্বের নজর থাকছে তুরস্কের রাজপথ ও আদালতপাড়ার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

  • ত্রাণের বদলে মৃত্যু! গাজার ত্রাণকেন্দ্র রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি ‘বধ্যভূমিতে’

    ত্রাণের বদলে মৃত্যু! গাজার ত্রাণকেন্দ্র রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি ‘বধ্যভূমিতে’

    ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গাজা উপত্যকা। ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে। খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়া মানুষদের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

    গাজার বাসিন্দা ইউসেফ আল-আজুরি বলেন, “আমার সন্তানরা সারাক্ষণ ক্ষুধায় কাঁদছে। খাবার নেই, ডাল দিয়ে পেট ভরে না। ত্রাণ নিতে রাতের আঁধারে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। পথে পথে ওঁত পেতে থাকে স্নাইপার। কেউ কেউ জীবিত ফিরে আসে না।”

    ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ আগে সীমিতসংখ্যক ত্রাণ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিলেও সেটিই যেন পরিণত হয়েছে গণহত্যার কৌশলে। তথাকথিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার নামে চলছে নির্মম হত্যা। জাতিসংঘের স্বীকৃতিও নেই এই সংগঠনের।

    সোমবার মাত্র একদিনেই ত্রাণ আনতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৩ জন, আহত হয়েছেন ৪১৮৬ জনেরও বেশি

    ইসরায়েলের এক সেনা হারেৎজ পত্রিকাকে জানান, “এই ত্রাণকেন্দ্রগুলো এখন আসলে ‘কিলিং ফিল্ড’। আমাদের উচ্চপর্যায় থেকেই এমন নির্দেশ এসেছে।”

    ❗ শিশুদের জন্য একফোঁটা দুধও নেই

    শিশুদের অবস্থা আরও করুণ। আল আকসা মার্টার্স হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, ৬০ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। কোনো দুধ নেই, নেই পর্যাপ্ত খাবার। ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।

    💣 হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় বিমান হামলা

    শুধু গুলি নয়, বিমান হামলার মাত্রাও দিন দিন বেড়ে চলছে। সোমবারেই ৪৮ জন নিহত হন বিমান হামলায়। উত্তর গাজার একটি সমুদ্রতীরবর্তী ক্যাফেতে চালানো এক হামলায় ২০ জন নিহত ও বহু আহত হন।

    এছাড়া, মধ্য গাজার আল আকসা মার্টার্স হাসপাতালেও হামলা হয়েছে। খান ইউনিস অঞ্চলে ধ্বংস করা হচ্ছে ঘরবাড়ি।

    ☠️ গাজায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫৬ হাজার

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬,৫৩১ জনে, আর আহতের সংখ্যা ১,৩৩,৬৪২

    গাজার আকাশে এখনো ভেসে বেড়ায় বোমার শব্দ। ক্ষুধা, আতঙ্ক আর মৃত্যুর এই উপত্যকায় প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয় একটি বেঁচে থাকার লড়াই।