Tag: মহাসড়ক অবরোধ

  • গাজীপুরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবরোধে অচল দুই মহাসড়ক

    গাজীপুরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবরোধে অচল দুই মহাসড়ক

    এবিএনএ: গাজীপুরে ৭ দফা দাবিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বুধবার দুপুরে ঢাকার ব্যস্ততম দুই মহাসড়ক অবরোধ করেন। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থমকে যায় যান চলাচল। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

    ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে কর্মসূচিটির নাম রাখা হয় ‘ব্লকেড’। সংগঠনের নেতারা জানান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ নিয়ে চলমান ষড়যন্ত্র ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন।

    এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরে রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করে প্রকৌশলীরা। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিতে (নেসকো) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের হেনস্তার অভিযোগসহ তিন দফা অন্যায় দাবির প্রতিবাদে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে তারা সমাবেশ করেন। সেখান থেকেই বুধবারের মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা আসে।

    বুধবার দুপুরে জয়দেবপুর শিমুলতলী সড়ক থেকে মিছিল বের করে বিভিন্ন রাস্তায় পদযাত্রা শেষে চান্দনা চৌরাস্তা চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন প্রকৌশলীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-জয়দেবপুরসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।

    বিক্ষোভে এমআইএসটি, রয়েল ও ভাওয়ালসহ বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং চার লাখ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হেয় করা হচ্ছে। বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে তারা জানান, এই দাবি বাস্তবায়ন হলে জাতীয় কর্মক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে।

    ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বলেন, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু ১৯৯৪ সালের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের নিম্নপদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বৈষম্য বন্ধের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

    কেন্দ্রীয় নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ওসি শাহীন খান জানান, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধের পর বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সরে যান।

  • ভাঙ্গায় মহাসড়ক অবরোধে থমকে দক্ষিণবঙ্গ, ঢাকার সঙ্গে ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ভাঙ্গায় মহাসড়ক অবরোধে থমকে দক্ষিণবঙ্গ, ঢাকার সঙ্গে ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    এবিএনএ:  ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল থেকে অবরোধের কারণে মহাসড়কে আটকে আছে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

    সকাল ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হলেও বেলা ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। সকাল সাড়ে ৯টার পর ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষুব্ধরা টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন এবং মিছিল বের করেন। এছাড়া ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও সুয়াদী পাম্প সংলগ্ন স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়।

    মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন ট্রাকচালক মালেক শেখ। তিনি জানান, পদ্মা সেতু পার হয়ে মুনসুরাবাদে পৌঁছাতেই অবরোধকারীরা তার ট্রাক আটকে দেয়। ফলে মালামাল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।

    অপরদিকে, বরিশাল থেকে ঢাকার পথে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা অবরোধের বিষয়ে জানতেন না। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাঁটা এবং ভ্যানে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবিকে তারা সমর্থন জানান।

    বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তারা গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের মহাসড়ক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। তাই অবরোধকারীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তারা সড়ক থেকে সরে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল জানান, হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের চারটি পয়েন্টে বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে কোনো প্রকার ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত শুক্রবারও একই দাবিতে নয় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন স্থানীয়রা। তার ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।

  • গাজীপুরে দুই মাসের বেতন না পেয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, লাঠিচার্জে আহত কয়েকজন

    গাজীপুরে দুই মাসের বেতন না পেয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, লাঠিচার্জে আহত কয়েকজন

    এবিএনএ: গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মহানগরীর বাসন থানাধীন কলম্বিয়া এলাকায় অবরোধ শুরু হয়।

    আলিফ ক্যাজুয়াল লিমিটেড নামের ওই কারখানার শতাধিক শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন—জুলাই মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি, অথচ সেপ্টেম্বর মাস চলছে। আগস্টের বেতনও ঝুলে আছে।

    একজন নারী শ্রমিক বলেন, “আমরা ঘরভাড়া দিতে পারছি না, দোকানে বাকি বাড়ছে। অথচ মালিকপক্ষ কোনো কথা শুনছে না। এখন আন্দোলন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”

    শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এতে অন্তত ৩-৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সোবহান নামে একজন শ্রমিক জানান, “আমাদের পাওনা টাকার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েছি, কিন্তু আমাদের পেটানো হলো।”

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৯টার দিকে শিল্প পুলিশের সদস্যরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের বাসন জোনের ইন্সপেক্টর ফারুকুল আলম।

    এ বিষয়ে আলিফ ক্যাজুয়াল লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • ভাঙ্গা বিভক্তির সিদ্ধান্তে উত্তাল জনতা: দুই দফায় মহাসড়ক অবরোধ, তিন দিনের আলটিমেটাম

    ভাঙ্গা বিভক্তির সিদ্ধান্তে উত্তাল জনতা: দুই দফায় মহাসড়ক অবরোধ, তিন দিনের আলটিমেটাম

    এবিএনএ:  ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ভাঙ্গা উপজেলাকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) উত্তাল হয়ে ওঠে ভাঙ্গা। ভোর থেকেই স্থানীয়রা দুই দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে।

    প্রথম অবরোধ শুরু হয় সকাল ৮টার দিকে আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অল্প সময়ের মধ্যেই হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ, মাধবপুর ও পুকুরিয়া এলাকাতেও শত শত মানুষ রাস্তায় নামে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ অবরোধ প্রশাসনের অনুরোধে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও, জুমার নামাজের পর আবারো বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধে নামে বিক্ষুব্ধ জনতা।

    এ সময় হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে এবং ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙ্গার মানুষ দল-মত নির্বিশেষে আন্দোলনে যোগ দেন এবং শ্লোগান তোলেন, “আমরা ভাঙ্গার মানুষ, ভাঙ্গার সঙ্গেই থাকতে চাই।”

    ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন সেলিম তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এর মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর বিরুদ্ধেই ভাঙ্গার মানুষ আন্দোলনে নেমেছে।

  • বাগেরহাটে সংসদীয় আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহাসড়কজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

    বাগেরহাটে সংসদীয় আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহাসড়কজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব ঘিরে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে শহরের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

    বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খেলাফত মজলিস, ইমাম সমিতি, যুব দল ও এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

    নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বিদ্যমান। হঠাৎ করেই কোনও পরামর্শ ছাড়াই একটি আসন বাতিলের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

    বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত যদি বাতিল না করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে বাগেরহাটকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দেবো।” তারা আরও জানান, আগামীকালও প্রতিবাদ চলবে এবং জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।