Tag: মহাখালী

  • মহাখালীতে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির গাড়ি—আমতলী থেকে সাতরাস্তা অচল

    মহাখালীতে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির গাড়ি—আমতলী থেকে সাতরাস্তা অচল

    এবিএনএ: রাজধানীর মহাখালী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমতলী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে কয়েক ঘণ্টা ধরে যানবাহন প্রায় স্থির হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসফেরত মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই যানজট শুরু হয়। রাত পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই মহাখালী আমতলী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন।

    যাত্রীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেকেই বাসের ভেতরে আটকে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে যানজট মহাখালী ছাড়িয়ে গুলশানমুখী সড়ক এবং অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুরো এলাকায় যান চলাচল ধীরগতিতে নেমে আসে এবং দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

    চালকদের ভাষ্য, সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে যানজট বাড়তে শুরু করে এবং রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রায় একই ছিল। সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং ধীরগতির কারণে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

    ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালীর ওয়্যারলেস এলাকায় কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন। বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে ব্যস্ত সময়ে সড়ক বন্ধ থাকায় দ্রুতই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

    এছাড়া মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি তেলের পাম্পে বিভিন্ন পরিবহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় সড়কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অবরোধ ও জ্বালানি নিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইনের কারণে এই যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

  • দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের বিক্ষোভে অচল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবা বন্ধ দেশে

    দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের বিক্ষোভে অচল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবা বন্ধ দেশে

    এবিএনএ: বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ছয় দফা দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চত্বর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাজারো স্বাস্থ্য সহকারী প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো এলাকা জিও জিও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষুব্ধ সহকারীরা। তারা জানান, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে।

    এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে সারাদেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে টিকা নিতে আসা মায়েরা ও নবজাতকরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। শীতের সকালে টিকা না পেয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য দেখা গেছে অনেক টিকাকেন্দ্রে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্য সহকারীরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া বন্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু বহু বছর ধরে দাবি উপেক্ষার কারণে তারা অবস্থান কর্মসূচিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি বাস্তবায়নের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলেই তারা কাজে ফিরে যাবেন বলে জানান।

    সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৭ বছর ধরে বারবার দাবি যৌক্তিক স্বীকার করলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, দেশে এমন বৈষম্যের শিকার আর কোনো সরকারি বিভাগ নেই।

    এদিন সকাল থেকে দেশের ৬৪ জেলা থেকে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা মহাখালীতে এসে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গত ২৯ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি চলছে। এর আগে ২৩ নভেম্বর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—২৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে।

    স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
    • নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমান যোগ্যতা যুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান
    • ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমাধারীদের ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ
    • ধারাবাহিক পদোন্নতি নিশ্চিত করা
    • প্রশিক্ষণ ছাড়াই সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা
    • বেতন স্কেল পূর্ননির্ধারণে পূর্বপ্রাপ্ত টাইম স্কেল ধরে রাখা
    • ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমর্যাদা প্রদান

    গত অক্টোবরে একই দাবিতে আন্দোলন হলেও প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠন।