Tag: মনোনয়নপত্র

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জমা দেওয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন।

    যাচাই শেষে বিএনপির দাখিল করা সব প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর ফলে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে দলটির পূর্ণ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছে।

    বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গেল দলটি।

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টির ১৯৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, জানালেন জিএম কাদের

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টির ১৯৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, জানালেন জিএম কাদের

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৯৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। জিএম কাদের জানান, বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ছয়জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে আরও দুই থেকে তিনজন প্রার্থী তালিকায় যুক্ত হতে পারেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দলটি এখনো সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) পাচ্ছে না। বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপ্রাপ্ত অনেক প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। মামলার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন জিএম কাদের।

    মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যত্রতত্র মামলা দিয়ে ভয়ভীতি তৈরি করা হচ্ছে। এতে পুলিশসহ বিভিন্ন পক্ষ জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। কারো বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে, কারো বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক স্বার্থে, আবার কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান।

    সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে এসব অনিয়ম বন্ধ করে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

  • ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    এবিএনএ: ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ১৫ জনই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র রয়েছেন ১১ জন এবং বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও আদালতের আদেশের কারণে তারা প্রার্থী তালিকায় টিকে যান। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের দায়ে তারা খেলাপি হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

    এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে শুধু ঋণখেলাপির কারণেই ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮ জন, বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর দুজন রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি ও এলডিপিসহ একাধিক দলের প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন।

    গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ও অবৈধ—উভয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও খেলাপির তথ্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল নিষ্পত্তির পর জানা যাবে। তবে ঋণখেলাপি ইস্যুতে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাইয়ে কড়াকড়ি স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে।

  • ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীই রয়েছেন ২২ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থন তালিকায় গরমিল পাওয়ায় এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। চার দিনব্যাপী যাচাই শেষে ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কয়েকটি আসনে ভোটার তালিকার তথ্য মিল না পাওয়া ছাড়াও ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

    চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণখেলাপি হওয়ায়। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে চট্টগ্রামের একাধিক আসনে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থিতা হারান।

    এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই প্রার্থী হওয়া এবং প্রস্তাবকের স্বাক্ষরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবং ভোটার স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

    চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে।

    ফেনী জেলার তিনটি আসনেও একই ধরনের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর নথি দাখিল না করা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত গরমিল প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

    ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে আপিল করলে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয় পুনরায় বিবেচনা করা হবে।

  • যাচাই-বাছাই শেষ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ১,৮৪২ বৈধ প্রার্থী

    যাচাই-বাছাই শেষ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ১,৮৪২ বৈধ প্রার্থী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। ইসির তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হলেও জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৮টি। যাচাই শেষে এর মধ্যে ১,৮৪২টি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

    অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ৩০৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন, বাতিল হয়েছে ১৩৩ জনের মনোনয়ন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৈধ ১৩৮ এবং বাতিল ৫৬টি। রাজশাহী অঞ্চলে ১৮৫ জন বৈধ হলেও ৭৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    খুলনা অঞ্চলে ১৯৬ জন প্রার্থী বৈধ হয়েছেন, অবৈধ হয়েছেন ৭৯ জন। বরিশাল অঞ্চলে বৈধ প্রার্থী ১৩১ জন এবং বাতিল ৩১ জন। সিলেট অঞ্চলে ১১০ জন বৈধ ও ৩৬ জন অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

    ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৯৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেলেও ১১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। কুমিল্লা অঞ্চলে বৈধ প্রার্থী ২৫৯ জন, বাতিল হয়েছে ৯৭ জনের। রংপুর অঞ্চলে বৈধ ২১৯ ও বাতিল ৫৯ জন। ফরিদপুর অঞ্চলে ৯৬ জন বৈধ এবং ৪৬ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

    এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র কোনো যাচাই ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

  • মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর আপিল দাখিল ও নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত ছিল। এদিন বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৮৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো—বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির আরও আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    হলফনামায় ভুল ও অসংগতি, তথ্যে গরমিল, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং ঋণখেলাপির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    চট্টগ্রাম: তিনটি আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাকের) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যা। এর মধ্যে এরশাদ উল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার, আহমদ কবির, খেলাফত মজলিসের আফরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের। চট্টগ্রাম- ৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জাতীয় পার্টির এমএ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বগুড়া: জেলার তিনটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে দুইজন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চারজন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার।

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকতা জানান, হলফনামায় নোটারি পাবলিকের আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল ২৮ তারিখ কিন্তু প্রার্থী হিসেবে মান্নার স্বাক্ষর ছিল ২৯ তারিখে। তাতে প্রতীয়মান হয়েছে প্রার্থী নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর করেননি। স্বাক্ষর করার নিয়ম নোটারি পাবলিকের সামনে। তবে ‌আপিল করার সুযোগ আছে বলেও তিনি জানান।

    বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন– জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু।

    বগুড়া-১ আসনে মোট সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা। বগুড়া-৩ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    যশোর: জেলার আরও দুটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিজাম উদ্দিন অমিতের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৪ আসনে (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব, দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের নামে ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। তাই তাঁর প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয় ব্যাংক।

    কক্সবাজার: কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা। এর মধ্যে একটি মামলার যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    কুমিল্লা : জেলার ছয়টি আসনে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– কুমিল্লা-১ আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, কাজী ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ। কুমিল্লা-২ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আব্দুস সালাম, কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমিজ উদ্দিন ও মনোয়ার হোসেন। কুমিল্লা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামানের। কুমিল্লা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল করিম এবং খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন। কুমিল্লা-৫ আসনে সিপিবির আবদুল্লাহ আল কাফি। কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদের কামরুন নাহার সাথী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুনুর রশিদ।

    গাইবান্ধা: পাঁচটির মধ্যে দুটি আসনের আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার, মোস্তফা মহসিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রমজান আলী ও জাতীয় পার্টির মাহফুজুল হক সরদার। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সিপিবির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মাজেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযম।

    মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, সিপিবির শ ম কামাল হোসেন, লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা ও খেলাফত মজলিসের নুর হোসাইন নুরানী।

    বরিশাল: তিনটি আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী ও বরিশাল-৬ আসনে মুসলিগ লীগের আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়পত্র স্থগিত হয়েছে।

    খুলনা: জেলার দুটি আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীসহ আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন), খুলনা-৬ আসনে একই দলের প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল বিশ্বাস।

    কুড়িগ্রাম:  জেলার চারটি আসনের দুটিতে গতকাল এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মনোনয়নপত্র স্থগিত হয়েছে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের।

    পাবনা: পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন খায়রুন নাহার খানম মিরু ও হাজি ইউনুস আলী। এদিকে গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রস্তাবক ও সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিককে ডিবি আটক করেছে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এই অভিযোগ করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    রংপুর: জেলার দুটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদের আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডলের। রংপুর-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র শাহ্‌ আলম বাশার, জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) আব্দুস ছালাম।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ছয়টির মধ্যে তিনটি আসনে ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও মো. কাজী জাহাঙ্গীর।

    টাঙ্গাইল: আটটির মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদ। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগর, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র আইরিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম তালুকদার ও মো. আব্দুল হালিম মিঞা।

  • নির্বাচনী দৌড়ে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা: কাল শেষ হচ্ছে মনোনয়ন দাখিল, ফরম নিয়েছেন ২৭৮০ প্রার্থী

    নির্বাচনী দৌড়ে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা: কাল শেষ হচ্ছে মনোনয়ন দাখিল, ফরম নিয়েছেন ২৭৮০ প্রার্থী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৩১ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রোববার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

    ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

    মনোনয়ন যাচাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি।

    উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে আপিল সংক্রান্ত সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • চার আসনে একযোগে মনোনয়ন সংগ্রহ, বাগেরহাটে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় সিলভার সেলিম

    চার আসনে একযোগে মনোনয়ন সংগ্রহ, বাগেরহাটে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় সিলভার সেলিম

    এবিএনএ,বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আরও একটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সিলভার সেলিম। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বাগেরহাট–৩ সংসদীয় আসনের (রামপাল–মোংলা) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

    সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে তাঁর অনুসারীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই তাঁর মনোনয়ন সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।

    এর আগে তিনি বাগেরহাট–১ (ফকিরহাট–মোল্লাহাট–চিতলমারী), বাগেরহাট–২ (সদর–কচুয়া) এবং বাগেরহাট–৪ (শরণখোলা–মোরেলগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ রামপাল–মোংলা আসন যুক্ত হওয়ায় চার আসনেই তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়েছে।

    মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা চারটি আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা বাগেরহাটের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।” তিনি আরও জানান, সিলভার সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেবেন—সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    এদিকে জেলার কয়েকটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাগেরহাট–১, ২ ও ৪ আসনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, বাগেরহাট–১ ও ৪ আসনে মনোনীত প্রার্থীরা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় তারা এ মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করছেন।

  • বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে একযোগে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের কাছ থেকে তিনি বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লহাট-চিতলমারী), বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বাগেরহাটের তিনটি সংসদীয় আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন তিনি আবারও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পান। তবে মনোনয়নপত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

    এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে-কে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম এবং বাগেরহাট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট বালী নাসের ইকবালের নাম উঠে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ কারণে তারা ওই প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করছেন বলে জানিয়েছেন।

  • ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন: ২৮ পদে ৫৬৫, হলে ১,২২৬ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ

    ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন: ২৮ পদে ৫৬৫, হলে ১,২২৬ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন সোমবার জমজমাট পরিবেশ বিরাজ করে ক্যাম্পাসে। ডাকসুর ২৮টি পদে মোট ৫৬৫টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হয়েছে। পাশাপাশি ১৮টি হল সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা নিয়েছেন মোট ১,২২৬টি মনোনয়নপত্র।

    নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৩টার মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    হলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সর্বাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে—৯৭টি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা, সংখ্যা মাত্র ২৯।

    এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৭১ জন, জগন্নাথ হলে ৬৬ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৭৮ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৯৩ জন, রোকেয়া হলে ৪৬ জন, সূর্যসেন হলে ৯০ জন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৭৪ জন, শামসুন নাহার হলে ৩৭ জন, কবি জসীম উদ্দীন হলে ৭৪ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৮৭ জন, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৬৯ জন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩০ জন, অমর একুশে হলে ৮৪ জন, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪০ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৮৮ জন এবং স্যার এ এফ রহমান হলে ৭৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ইতোমধ্যেই নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা একটি প্রাণবন্ত ও প্রতিনিধিত্বশীল ডাকসু ও হল সংসদ গড়ে তুলতে পারবেন।