Tag: ভ্লাদিমির পুতিন

  • পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তীব্রতর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এক টেবিলে বসাতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। আর সেই বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে তিনজনই উপস্থিত থাকবেন।

    ওভাল অফিসে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি কাজ শুরু করেছি। পুতিন ও জেলেনস্কির বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর আমরা তিনজন মিলে বসব।”

    তিনি আরও জানান, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য। ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে শক্তিশালী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেব। শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, এবার সরাসরি শান্তিচুক্তিই হবে লক্ষ্য।”

    এর আগে বৈঠকের মাঝপথে পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন ট্রাম্প। ফোনালাপের পর বৈঠক আবার শুরু হয়। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বের ছয়টি যুদ্ধ থামিয়েছি। তবে এই যুদ্ধ সমাধান সবচেয়ে কঠিন। তবুও আমি আত্মবিশ্বাসী, আমরা পথ খুঁজে বের করব।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ থামাতে আপনার প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে উপস্থিত ছিলেন।

    ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছে আন্তর্জাতিক মহল—আসলেই কি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে?

  • আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    এবিএনএ:  আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বসছে বহুল আলোচিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার প্রথম দুই মিনিটেই তিনি বুঝে ফেলতে চান পুতিনের আসল পরিকল্পনা। যদি মনে হয় সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে তিনি আলোচনা মাঝপথেই থামিয়ে দিতে প্রস্তুত।

    এদিকে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতার আশঙ্কা, পুতিন হয়তো দীর্ঘ আলোচনা টেনে ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে রাশিয়ার বিজয়ের শর্তগুলোতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে কৌশলী মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে পারেন তিনি। এই বৈঠক হতে যাচ্ছে এমন এক জায়গায়—আলাস্কা—যেটি ১৮৬৭ সালে রাশিয়া ৭২ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়েও কথা বলতে চান।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের মনোভাব যাচাই করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। যদি চুক্তির সম্ভাবনা না দেখেন, তবে তিনি বৈঠক শেষ না করেই সরে আসবেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া উচিত, যাতে আলোচনার সময় হামলা বা ভূমি দখল না ঘটে। এই আলোচনায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

    হোয়াইট হাউস এই বৈঠক আয়োজন করছে বেশ তড়িঘড়ি করে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এখনো ঠিক হয়নি আলাস্কার কোন স্থানে বৈঠক হবে কিংবা কতক্ষণ চলবে। সমালোচকরা বলছেন, পুতিন প্রশংসা ও কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনের ওপর রুশ আগ্রাসনের জন্য কিয়েভকেই দায়ী করেছিলেন এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

    যুদ্ধের সমাধান বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্প কিছু না বললেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—চুক্তি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল উভয়ই তুঙ্গে বিশ্বজুড়ে।

  • ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক শিগগির, মধ্যপ্রাচ্যে হতে পারে মুখোমুখি আলোচনা

    ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক শিগগির, মধ্যপ্রাচ্যে হতে পারে মুখোমুখি আলোচনা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিগগিরই সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এটি আয়োজিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশে, সম্ভাব্যভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

    ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, আলোচনার তারিখ ও সময় ঠিক হয়ে গেছে, তবে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি জানান, ইউক্রেন সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    রুশ টেলিভিশন চ্যানেল রাশিয়া টুডে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মস্কো সফরে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুতিন। সেখানে আমিরাতকে আলোচনার সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি সামনে আসে।

    এদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশল প্রস্তাব করেছে, তা নিয়ে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি সরাসরি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হলে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে শুক্রবার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বিশ্বে শান্তির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে, যদি উভয় পক্ষ আন্তরিকভাবে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।

  • বন্ধুত্বে ফাটল, শুল্কে চাপ: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি রুশ তেলের বলি?

    বন্ধুত্বে ফাটল, শুল্কে চাপ: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি রুশ তেলের বলি?

    এবিএনএ:  ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের প্রশংসায় সরগরম ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মোদির অনুসারীরাও ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন উদযাপন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে সেই উষ্ণতা এখন শীতলতায় রূপ নিয়েছে।

    সম্প্রতি ভারতের বেনারসে এক সমাবেশে মোদি বলেন, “আমরা এখন শুধুমাত্র সেই পণ্যই কিনব, যা ভারতীয়দের ঘামে তৈরি।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫% শুল্ক আরোপের জবাব।

    তবে শুধু শুল্ক নয়, বিষয়টির পেছনে রয়েছে বৃহৎ কৌশলগত চাপ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হোক। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ভারতের রুশ তেল আমদানি সরাসরি যুদ্ধ অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, “ভারত রাশিয়ার তেল কিনে ইউক্রেনে হত্যাযজ্ঞে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। এর জবাবে শুল্ক অনেক বাড়ানো হবে।”

    এই অভিযোগে নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বরং বরাবরের মতো আত্মনির্ভর নীতিতে অনড় থেকেছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও স্থানীয় শিল্প রক্ষার জন্য তারা মার্কিন শর্তে সাড়া দিতে আগ্রহী নয়।

    ভারতের প্রায় ৫০% মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় সরকার বারবার কৃষিপণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। ভারতীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্কও আর আগের মতো নেই। রাশিয়ার একটি ট্যাবলয়েড তাদের সম্পর্ককে “দুটি ট্রেন বিপরীত দিক থেকে এক লাইনে ধেয়ে আসছে”—এইভাবে ব্যাখ্যা করেছে।

    ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ১০ দিনে আনা হয়। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষের পথে, কিন্তু পুতিনের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেখা যাচ্ছে না।

    এই পটভূমিতে ট্রাম্প যেন ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন ভারতের দিক থেকে চাপ প্রয়োগে। ভারতের রাশিয়ার প্রতি কৌশলগত নির্ভরতা, বিশেষত জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে, ওয়াশিংটনকে ক্রমেই অস্বস্তিতে ফেলছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ভারত এখন ‘বন্ধু হলেও বিশ্বাসযোগ্য নয়’।

    তবু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নয়, বরং নিজের স্বার্থেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আর এই নীতিগত অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মোদি-ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আর আগের মতো উষ্ণ নেই। বরং রাশিয়ার এক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি মন্তব্য করেছে, দুই নেতা যেন মুখোমুখি আসা দুটি ট্রেন—কেউ থামছে না, কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে না।

    ‘মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস’ তাদের এক বিশ্লেষণে লিখেছে, ট্রাম্প ও পুতিনের কৌশলগত অবস্থান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংঘর্ষ এড়ানো কঠিন। পুতিন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন ইউক্রেনে তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এ, অন্যদিকে ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

    চুক্তির সূচনা, হতাশার পরিণতি

    ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। জাতিসংঘে ইউক্রেনবিরোধী প্রস্তাবে বিরোধিতা এবং পারস্পরিক সফরের পরিকল্পনাও হচ্ছিল। কিন্তু দ্রুত সেই উষ্ণতা মুছে যেতে থাকে। কারণ, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেননি পুতিন। বরং রাশিয়া একের পর এক ইউক্রেনীয় শহরে হামলা চালাতে থাকে, যা ট্রাম্পের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দেন, পরে সেটি কমিয়ে ১০ দিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ট্রাম্পের এসব সময়সীমাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না পুতিন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কি এখনও আছে?

    রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানে এখনও আশাবাদী ট্রাম্প। এজন্য তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আবারও মস্কো সফরে যাচ্ছেন। গত কয়েক মাসে চারবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আলোচনায় এমনকি ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি উপহার পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে।

    তবে ট্রাম্পের প্রত্যাশা শুধু সম্পর্ক উন্নয়ন নয়, বরং যুদ্ধবিরতির জন্য পুতিনের একটি নিঃশর্ত স্বাক্ষরও। বিষয়টি নিয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক কোনো বার্তা না এলেও কিছু বিশ্লেষক বলছেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।

    পুতিন কি চাপের মুখে?

    রুশ প্রেসিডেন্টের দিক থেকে আপাতত কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিনা ক্রুশ্চেভার মতে, “পুতিন হয়ত ভাবছেন তিনি রুশ ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছেন। তিনি রাশিয়াকে পশ্চিমা আধিপত্য থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছেন।”

    চূড়ান্ত বাস্তবতা

    সংঘর্ষ এড়াতে যতটুকু চেষ্টাই করা হোক না কেন, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা বলে দেয়, ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি চাইছেন, কিন্তু পুতিন চাইছেন বিজয়। তাই আপাতত মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য না হলেও তা একেবারে অসম্ভবও নয়। যুদ্ধ থামাতে হলে শুধু কূটনীতি নয়, প্রয়োজন দু’পক্ষের কার্যকর সমঝোতা এবং আন্তরিকতা—যা এখনো দৃশ্যমান নয়।

  • শান্তি আলোচনায় রাশিয়াকে নতুন প্রস্তাব ইউক্রেনের, নেতৃত্ব পর্যায়ে বৈঠকের ইঙ্গিত জেলেনস্কির

    শান্তি আলোচনায় রাশিয়াকে নতুন প্রস্তাব ইউক্রেনের, নেতৃত্ব পর্যায়ে বৈঠকের ইঙ্গিত জেলেনস্কির

    এবিএনএ:  রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথ খুলে দিতে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। কয়েক সপ্তাহ বিরতির পর পূর্ব ইউরোপের এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি আবারও কূটনৈতিক সমাধানে অগ্রসর হচ্ছে।

    আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী সপ্তাহে শান্তি আলোচনায় বসার জন্য ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির নতুন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, যিনি সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছেন।

    শনিবার এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধ থামানোর জন্য যা কিছু করা দরকার, তা আমরা করব। এখন রাশিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

    জেলেনস্কি আরও বলেন, শান্তি অর্জনের জন্য নেতৃত্ব পর্যায়ে সরাসরি বৈঠক হওয়া উচিত। তার মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের আলোচনার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সংকটের বাস্তব সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।

    আল জাজিরা জানায়, সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রুস্তেম উমেরভ এর আগে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে শান্তি আলোচনা দ্রুততর করার জন্য বিশেষ দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যদি রাশিয়া ইতিবাচকভাবে নেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথে এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো রাশিয়া। মস্কোর কড়া বক্তব্য—এই সংকটে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-কে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে সেনা বা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটি একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুটি বিপরীত শিবিরে

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় দুটি পরাশক্তি এখন স্পষ্টভাবে দুই বিপরীত অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, অন্যদিকে রাশিয়া তেহরানকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রক্ষা করছে। এ বছরের শুরুতে পুতিন ও ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হয় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, যাতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের শঙ্কা: বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যও নাড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে থাকলেও এই ইস্যু তা আবার উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ যে কত বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, সেটাই যেন রাশিয়া বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।

  • ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে একসাথে এগিয়ে এলেন পুতিন ও এরদোয়ান

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে একসাথে এগিয়ে এলেন পুতিন ও এরদোয়ান

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানটান উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এই সংকট নিরসনে শান্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান।

    উভয় রাষ্ট্রপ্রধানই পৃথকভাবে জানিয়েছেন, তারা এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরান ও ইসরায়েলকে নিয়ে আগেও যে শান্তি প্রস্তাব রাশিয়া দিয়েছিল, তা এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রাশিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।”

    অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইরানের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এরদোয়ান এই ফোনালাপে জানান যে, সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে প্রস্তুত।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এ ধরনের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত চারদিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা, যার ফলে বেড়েছে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা। শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাশিয়া ও তুরস্কের এহেন আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।