Tag: বিদ্যুৎ উৎপাদন

  • পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    এবিএনএ: কারিগরি ত্রুটি মেরামত শেষে আদানি পাওয়ারের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হয়েছে। দুই ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রি

    কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে থাকা আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট মেরামত শেষে আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির দুই ইউনিট থেকেই এখন পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

    পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটের দিকে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে দুই ইউনিট থেকেই একযোগে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। নিরাপত্তার কারণে তখন ইউনিটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আংশিক কমে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও কিছুটা প্রভাবিত হয়।

    ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, সমস্যা সমাধান করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ায় এখন আবার স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে প্ল্যান্টটি।

    দুই ইউনিট একসঙ্গে চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ডে বাড়ছে উৎপাদন।

  • ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু, সেচে বিদ্যুৎ দিতে সরবরাহ কমবে কত?

    ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু, সেচে বিদ্যুৎ দিতে সরবরাহ কমবে কত?

    এবিএনএ: কৃষি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষি সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে রাজধানীতে সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান সংকট দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তবে তার পুরোটা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

    তিনি জানান, গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়, যা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।

    তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ বরাদ্দ থাকলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে এবং দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাবে।

    তিনি আরও জানান, একটি আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এগুলো চালু হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির চেষ্টা চলছে।

  • জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    এবিএনএ,ঢাকা: দেশের বিদ্যুৎ খাতে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বড় শহরগুলোতেও লোডশেডিং বাড়ছে। গ্যাসের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

    বর্তমানে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই গ্যাস, কয়লা ও তেলনির্ভর। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় এসব কেন্দ্রের বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অলস পড়ে আছে।

    কয়লা আমদানির খরচ বেড়ে চাপ

    দেশে চালু থাকা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা এলেও এর বড় অংশ আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    এর পাশাপাশি জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে, ফলে কয়লা আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে এসেছে।

    তেল ও এলএনজি বাজারে অস্থিরতা

    বিশ্ববাজারে ফার্নেস তেলের দামও ওঠানামা করছে। মার্চ মাসে দ্রুত বাড়ার পর বর্তমানে কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় এখনও বেশি। একইভাবে এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা কাটেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজির দাম বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে।

    এই তিন জ্বালানির সম্মিলিত সংকটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরবরাহে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ বহু কেন্দ্র

    দেশে গ্যাসভিত্তিক ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমিয়েছে। বেশ কিছু কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গ্যাসের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

    প্রতিদিন বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও উৎপাদন কম

    তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি অংশ ফার্নেস তেলের সংকটে বন্ধ রয়েছে। অনেক কেন্দ্র কম সক্ষমতায় চলছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষও এই খাতে উৎপাদন সীমিত রাখছে।

    ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রেও কম উৎপাদন

    কয়লা সংকটের কারণে বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তবে কিছু কেন্দ্র এখনও তুলনামূলকভাবে ভালো উৎপাদন বজায় রেখেছে, যা সামগ্রিক সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

    বেড়েছে লোডশেডিং

    দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে।

    লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে কয়েকশ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর বড় অংশ পড়েছে ঢাকায়, এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলে।

    ভর্তুকির অপেক্ষায় বিদ্যুৎ বিভাগ

    আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরি ভর্তুকি চেয়েছে। এই অর্থ না পেলে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতামত

    বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। অন্যথায় বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের তুলনায় কয়লা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় কয়লা আমদানি বাড়ানোই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হবে।