Tag: বিদেশি বিনিয়োগ

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হোন: কসোভোকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আহ্বান

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হোন: কসোভোকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আহ্বান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে কসোভোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একইসঙ্গে শিক্ষা ও মানবসম্পদ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত কসোভো রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে কসোভোর বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিশাল। তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, পাটজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার অপার সুযোগ রয়েছে।”

    বৈঠকে ড. ইউনূস কসোভোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ চালুর প্রস্তাবও দেন। একইসঙ্গে কসোভোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়াতে অনুরোধ জানান।

    ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর চেতনা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন, “কসোভোর জনগণের স্বাধীনতা ও শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতি এক অনুকরণীয় উদাহরণ। আমরা কসোভোয় গিয়েছিলাম যখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল—সেখান থেকেই আমাদের সহযোগিতার শুরু।”

    রাষ্ট্রদূত প্লানা বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে কসোভোর স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। গ্রামীণ কসোভোর মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ড. ইউনূস। সেইসাথে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা আমাদের পাশে ছিলেন।”

    ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কসোভো বর্তমানে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান। এর কার্যক্রম ২০টি মিউনিসিপ্যালিটি ও ২১৯টি গ্রামে বিস্তৃত এবং ৯৭% ঋণগ্রহীতা নারী।

    বৈঠকে উভয়পক্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়। রাষ্ট্রদূত বলেন, “উভয় দেশের চেম্বার অব কমার্স ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা প্রয়োজন।”


    এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হলো এই আলোচনার মাধ্যমে।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাপানের পূর্ণ সহায়তা চান ড. ইউনূস

    নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাপানের পূর্ণ সহায়তা চান ড. ইউনূস

    এবিএনএ, ঢাকা :

    বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক অভিযানে জাপানের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
    জাপানের জেট্রো ও জাইকার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার”-এ বক্তব্যে ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রতি এক গভীর সংকট থেকে উঠে আসছে। গত ১৬ বছর ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো ভূমিকম্প। এখন আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার গড়তে চাই—একটি নতুন বাংলাদেশ।”

    জাপানকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন প্রকৃত বন্ধু কঠিন সময়ে পাশে থাকে, আর জাপান আমাদের সেই বিশ্বস্ত বন্ধু। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে চাই।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ কেবল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি সভ্যতা নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসকে আমরা দেখাতে চাই যে, হ্যাঁ, এটা করা সম্ভব। এবং জাপানের সহায়তায় আমরা সেই বাস্তবতাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”

    মাতারবাড়ি উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। এটি শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে।”

    এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সমুদ্রপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দরজা’ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

    ড. ইউনূস জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু টেক্সটাইল খাত নয়, আরও বহুমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব।”

    জাপানের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার তাকেউচি শিনজিও বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিন্দু। জাপান বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় এবং আমাদের বেসরকারি খাতকে সে অনুযায়ী উৎসাহিত করছে।”

    তিনি যোগ করেন, “অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জাপান সবসময় পাশে থাকবে।”

  • বিদেশির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল, কিন্তু ১২% কাজেই আটকে গেল সম্ভাবনার জাহাজ

    বিদেশির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল, কিন্তু ১২% কাজেই আটকে গেল সম্ভাবনার জাহাজ

    এবিএনএ:   চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি পরিচালনা সত্ত্বেও কার্যক্রমে গতি আসছে না। দিনে ১৩৬৯টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকলেও, চলতি সময়ে গড়ে ১৭০-১৮০ কনটেইনার পরিচালিত হচ্ছে। যা মূল লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২ শতাংশ।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, এই টার্মিনাল সম্পূর্ণ চালু হলে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে। তবে বাস্তবে এমন সাফল্য ধরা দেয়নি। প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের ঘাটতি, দক্ষ জনবল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরতা।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৮৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মাণ করে। ২২ বছরের জন্য সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। প্রতিষ্ঠানটি ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ১০ মাসে তা বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ১১৯ মিলিয়ন ডলার।

    পরিস্থিতি সামান্য কিছুটা বদলায় মে, যখন সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী জাহাজ একসঙ্গে ১৭১২টি আমদানি কনটেইনার নিয়ে প্রথমবার সরাসরি পতেঙ্গা টার্মিনালে নোঙর করে। এটি আগামী জুলাইয়ে রপ্তানি নিয়ে ফিরবে। এর আগে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনার এমন ঘটনা ছিল না।

    টার্মিনালটিতে রয়েছে তিনটি জেটি, যেখানে তিনটি জাহাজ একসঙ্গে নোঙর করতে পারে। তেল খালাসের জন্যও আলাদা ডলফিন জেটি স্থাপন করা হয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত পাঁচ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডল করতে পারবে বন্দর।

    আরএসজিটিআই-এর দাবি, তারা ইতিমধ্যে ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গেটওয়ে ভেসেল পরিচালনা করেছে এবং সেবা উন্নয়নে ১৪টি আরটিজি ক্রেন ৪টি এসটিএস ক্রেন সংযুক্ত করেছে। এছাড়া আধুনিক স্ক্যানার যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কনটেইনার স্ক্যান করতে সক্ষম।

    তবে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে এপ্রিলে পর্যন্ত মোট কনটেইনার হ্যান্ডল হয়েছে মাত্র ৫২ হাজার ২৯টি টিইইউএস। অথচ প্রত্যাশা ছিল প্রতিমাসে ৪১ হাজারের বেশি হ্যান্ডলিং।

    বন্দরের রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বিদেশি পরিচালনা থেকে রাজস্ব আসছে ঠিকই, তবে গতির ঘাটতি রয়েছে। একই মত দিয়েছেন শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজনও, তবে তিনি বিদেশি অপারেটর নিয়োগকে সময়োচিত সিদ্ধান্ত বলেছেন।

    সবমিলিয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগ পরিচালনার এই মডেলটি কার্যকর হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমানে যে ধীরগতির চিত্র সামনে আসছে, তাতে প্রশ্ন উঠেছে এই বিশাল বিনিয়োগ সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ নিয়ে।