Tag: বিজিবি

  • যশোরে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, জামায়াত কর্মীসহ দুই জন আহত

    যশোরে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, জামায়াত কর্মীসহ দুই জন আহত

    এবিএনএ, যশোর: যশোরে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় জামায়াতের এক কর্মী ও এক ভোটার আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর-৩ আসনের তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে।

    আহতরা হলেন, সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী আবু হোসেন (২৫) এবং আব্দুল গণি (৫০)।

    আহত আবু হোসেন জানান, তিনি সকালেই ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। অপরদিকে, আব্দুল গণি ভোট দিতে বাড়ি থেকে বের হলে জামায়াত সমর্থকরা তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য করে।

    ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “তালবাড়িয়া স্কুলকেন্দ্রে কোনো গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে রাত পোহালেই। দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনী সমন্বয়ে ভোটের মাঠ নিরাপদ করছে।

    প্রায় ৮ হাজার ৭৭০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ ও আনসার সদস্য নির্বাচনের নিরাপত্তায় কাজ করছে। কেন্দ্রে স্থির, ভ্রাম্যমাণ এবং স্ট্রাইকিং টিম হিসেবে বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে, যেমন সিসি ক্যামেরা, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন।

    নির্বাচনে লাইসেন্সধারী অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া হাজারেরও বেশি অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে “মশারির মতো” নিরাপদ করার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধী বা নাশকতাকারী সুযোগ না পায়।

    ডিএমপি ২৬,৫১৫ জন সদস্য, র‍্যাব ৮ হাজার সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিজিবি দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টার, বিশেষ টহল ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে নিরাপত্তা দেবে। সেনা ও নৌবাহিনীও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে।

    নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করতে সকল বাহিনী ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত। সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে—এটি নিশ্চিত করার জন্য মাঠে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রবাসী ও ভোটারদের মনিটরিং, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং তফসিল অনুসারে নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠু রাখার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

  • ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশেষ রোবাস্ট ও মোবাইল টহলের পাশাপাশি ফুট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছে; যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে না পারলে যানবাহন জব্দও করা হচ্ছে।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল কিংবা ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহিংসতায় জড়াতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হলে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঠেকাতে মাঠে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিজিবির টহল চোখে পড়ছে—সামনে পিকআপ, পেছনে এপিসি নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে টহল দল। সেনাবাহিনীও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিয়মিত টহল চলছে, যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নেই। তবু আগাম সতর্কতায় প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেল বলছে, চেকপোস্টের পাশাপাশি মোবাইল ও ফুট পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি চলছে।

    ভোটারদের উদ্দেশে ডিএমপি আশ্বস্ত করেছে—নিরাপত্তা বাহিনী পাশে আছে। নাগরিকরা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

  • ঢাকা ও তিন জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

    ঢাকা ও তিন জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ তিনটি জেলায় ব্যাপক মোতায়েন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৩৮টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে পিলখানার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নির্বাচনকালীন মহড়া শেষে এই তথ্য জানান বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন মোতায়েন থাকবে।

    নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বিজিবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা অনুসরণ করবে। এতে করে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে এবং ভোটাররা নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

    নিরাপত্তা জোরদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশির কাজ পরিচালনার জন্য মোতায়েন থাকবে বিশেষায়িত কে-নাইন ডগ স্কোয়াড। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের আগে ও চলাকালে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হবে।

    ২৯ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনকালীন বিশেষ মোতায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে ইতিমধ্যেই দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে। বডি ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি এবং অন্যান্য সিগন্যাল সরঞ্জাম দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ব্যাটালিয়ন সদরে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

    প্রিজাইডিং অফিসার যদি সহায়তা চায় বা কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা, জাল ভোট বা পরিস্থিতির অবনতি হয়, বিজিবি সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেবে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বলেন, সরকারের, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এবারের জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন হবে।

  • জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা মোতায়েনের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

    এর আগে বিজিবি জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৫১টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বাহিনীটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী সময় মিলিয়ে মোট সাত দিন সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকবে। পরিপত্র অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হয়ে চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এই নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন বাহিনীর ৮ লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলি, আহত তিন বাংলাদেশি – আতঙ্কে সীমান্তবাসী

    লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলি, আহত তিন বাংলাদেশি – আতঙ্কে সীমান্তবাসী

    এবিএনএ: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ছররা গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা বর্তমানে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখায় গরু পারাপারের সময় হঠাৎ বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। গুলির শব্দে সীমান্তের আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার পকেটপাড়া গ্রামে বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্প থেকে এই গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের প্রধান পিলার ৮৫৪ নম্বরের উপপিলার ৩–এর কাছাকাছি এলাকায়।

    বিজিবি রংপুর ৬১ (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, “গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি, তবে বিএসএফ এখনো সাড়া দেয়নি।”

    উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ দিন আগে, একই ইউনিয়নের সীমান্তে বিএসএফ তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল। ধারাবাহিক এ ধরনের ঘটনার ফলে সীমান্ত এলাকায় আবারও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফজরের নামাজ শেষে ফিরছিলাম, তখন দেখি কয়েকজন গুলিবিদ্ধ মানুষকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।”

    সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

  • মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত বিজিবি সদস্য আক্তারকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হলো

    মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত বিজিবি সদস্য আক্তারকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হলো

    এবিএনএ:  বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে টহলরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য নায়েক মো. আক্তার হোসেন। পরে তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।

    সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আহত নায়েক আক্তারকে প্রাথমিকভাবে রামু সেনানিবাসের সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিজিবির নিজস্ব হেলিকপ্টারে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

    বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্তে টহল চলাকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণে আক্তার হোসেন মারাত্মকভাবে আহত হন। বর্তমানে ঢাকার সিএমএইচে তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে, যার ফলে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকি বেড়েছে।

  • অশান্ত খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা, বিজিবি মোতায়েন – অচল সড়ক যোগাযোগ

    অশান্ত খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা, বিজিবি মোতায়েন – অচল সড়ক যোগাযোগ

    এবিএনএ:  খাগড়াছড়িতে এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির সাত প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষিতে দুপুরে জেলা প্রশাসক এ বিএম ইফতেখারুল ইসলাম খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। পরে গুইমারা উপজেলাতেও একই সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আকতার।

    এদিকে অবরোধকে ঘিরে সদর উপজেলার নারাইখাইয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসব ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    পরিস্থিতির কারণে সাজেক ভ্রমণে যাওয়া প্রায় দেড় হাজার পর্যটক নিরাপত্তার স্বার্থে দীঘিনালায় অবস্থান করছেন। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    অবরোধের ফলে খাগড়াছড়ির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার, দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধে গাছ কেটে ও টায়ারে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ চালাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

    গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শায়ন শীল (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা।

  • টেকনাফ উপকূলে আবারও ভয়াবহ ঘটনা, দুটি ট্রলারসহ ১৪ বাংলাদেশি জেলে অপহরণ করল আরাকান আর্মি

    টেকনাফ উপকূলে আবারও ভয়াবহ ঘটনা, দুটি ট্রলারসহ ১৪ বাংলাদেশি জেলে অপহরণ করল আরাকান আর্মি

    এবিএনএ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে ফের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ)। রোববার দুপুরে নাইক্ষ্যংদিয়া উপকূল থেকে দুটি ট্রলারসহ অন্তত ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে তারা।

    টেকনাফ কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির পরিচালক সাজেদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু ট্রলার ঘাটে ফিরছিল। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা দুটি ট্রলার ঘিরে ধরে মাঝিমাল্লাসহ ১৪ জনকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

    এর মাত্র একদিন আগে একই এলাকায় ১২ জেলেসহ আরেকটি নৌকা অপহৃত হয়েছিল। ওই জেলেদের সবাই শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা।

    টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, “আমরা খবর পেয়েছি, আরও দুটি ট্রলার অপহৃত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকালের ঘটনায়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”

    ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. কালাম বলেন, “জেলেদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে। বারবার এ ধরনের অপহরণে তারা সাগরে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছে।”

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, গত আট মাসে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর উপকূল থেকে অন্তত ২৪০ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তবে চলতি মাসেই অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

    সাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেদের জন্য এই অপহরণ এখন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মব জাস্টিস চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

    দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মব জাস্টিস চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

    এবিএনএ: ঢাকার আশপাশে মব জাস্টিসের ঘটনা কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো এ ধরনের প্রবণতা বিদ্যমান বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১২তম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সভায় সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি, জুলাই মাসের হত্যা মামলার পর্যালোচনা, ছিনতাই-চাঁদাবাজি দমন, মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠে আসে।

    জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই মব জাস্টিস যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। কয়েকদিন আগে রংপুরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় তুলনামূলক কম হলেও আশপাশে এখনও মাঝে মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তিনি জানান, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি বাড়াতে বড় পরিসরে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ১৫ হাজার ৮৫১ জন, বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, আনসারে ৫ হাজার ৫৫১ জন, কারা বিভাগে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ২০৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদ পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ফুল দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি সে বিষয়ে অবগত নই। তবে আমাদের নির্দেশনা ছিল যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”

    সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই কোনো নির্দোষ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। চুনোপুঁটি ধরা হলেও বড় অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা সবসময় সত্য ঘটনা তুলে ধরেন, এজন্য ধন্যবাদ।”