Tag: বার্ন ইনস্টিটিউট

  • টঙ্গীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দুই ফায়ার ফাইটারের শরীর শতভাগ দগ্ধ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন

    টঙ্গীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দুই ফায়ার ফাইটারের শরীর শতভাগ দগ্ধ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন

    এবিএনএ:  টঙ্গীতে রাসায়নিক গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজনের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

    বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ দুই ফায়ার ফাইটারের শরীর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। আরেকজনের শরীরের ৪২ শতাংশ এবং আরেকজনের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

    হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—অফিসার জান্নাতুল নাঈমের শরীরের ৪২ শতাংশ, ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদার ১০০ শতাংশ, শামীম আহম্মদের ১০০ শতাংশ এবং জয় হাসানের শরীরের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বার্ন ইনস্টিটিউটে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কর্মীরা জানতেন না যে সেখানে রাসায়নিকের গুদাম ছিল। আগুন নেভাতে শুরু করার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

    উল্লেখ্য, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে টঙ্গী সাহারা মার্কেটের টিনশেড সেমিপাকা গোডাউনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট টানা চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় চার ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হন।

  • বার্ন ইনস্টিটিউটে সংকটাপন্ন ৫ দগ্ধ, চিকিৎসারত ৪০ জন

    বার্ন ইনস্টিটিউটে সংকটাপন্ন ৫ দগ্ধ, চিকিৎসারত ৪০ জন

    এবিএনএ: ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, “দুর্ঘটনায় আজ আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, “এই ৪০ জনের মধ্যে আরও ১০ জন রয়েছেন সিপিআর ক্যাটাগরিতে যাদের অবস্থাও গুরুতর। এছাড়া পোস্ট অপারেটিভ পর্যায়ে রয়েছেন ১০ জন এবং ১৫ জন রয়েছেন সাধারণ ক্যাবিনে।”

    সংকটাপন্নদের মধ্যে কয়েকজনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল, যাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি করেছে। তারা এখন নিজেরাই শ্বাস নিতে পারছেন।

    পরিচালক জানান, “রোগীদের সুস্থতার অগ্রগতি বিবেচনায় আগামীকাল শনিবার ৪ থেকে ৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।”

    এদিন রোগীদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের চিকিৎসকদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দল ইনস্টিটিউটে এসে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের সঙ্গে সভায় মিলিত হন।

    বার্ন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরামর্শে নেওয়া হচ্ছে যেন তাদের দ্রুত ও নিরাপদে সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।

  • অবশেষে না ফেরার দেশে মাহিয়া তাসনিম, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৩

    অবশেষে না ফেরার দেশে মাহিয়া তাসনিম, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৩

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে দগ্ধ হওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া তাসনিম (১৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাহিয়ার শ্বাসনালিতে গুরুতর ক্ষত ছিল এবং শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বার্ন ইউনিটে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনে।

    এর আগে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে একই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১৫ বছর বয়সী মাহতাব রহমান, যার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মাত্র তিন ঘণ্টা ব্যবধানে দুজন কিশোর প্রাণ হারাল।

    মাহিয়ার পরিবার রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক প্রজেক্টের ডি-ব্লকে বসবাস করে। পাঁচ বছর আগে তার বাবা মোহাম্মদ বিশ্বাস মারা যান। মা আফরোজা খাতুন এবং ফুফু মিলে তিন কন্যাকে বড় করে তুলছিলেন। মাহিয়ার মৃত্যুর খবর এখনো তার মা জানেন না; তিনি উত্তরার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে এ পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও শিক্ষার্থী।

    দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আরও ৫৭ জন বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউট, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

    ইতিপূর্বে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

    মানবিক বিপর্যয় আর অকাল মৃত্যুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা জাতি শোকাহত। মাহিয়া তাসনিমের চলে যাওয়া সেই বেদনার আরেক নতুন অধ্যায়।

  • মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা: ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন, একজনের নতুন ভর্তি

    মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা: ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন, একজনের নতুন ভর্তি

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ভয়াবহ ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি দগ্ধদের মধ্যে ১৩ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৫৭ জন এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছেন। এ ছাড়া বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।

    গত সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন, কেউ কেউ দগ্ধ অবস্থায় মারা যান।

    এই দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা এবং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিদিনই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।