Tag: বাংলাদেশ

  • গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা: দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা: দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    এবিএনএ: নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের সব ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে পাঠানো এক নির্দেশনায় নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর কড়া নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

    গোয়েন্দা তথ্যে নাশকতার ইঙ্গিত

    সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক উগ্রবাদী সদস্যের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সাবেক সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই চক্রটি সমন্বিতভাবে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম এলাকা বিবেচনায় রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপরও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    অস্ত্রাগারেও হামলার শঙ্কা

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার চেষ্টা হতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে এসব স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা

    এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

  • সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: সৌদি আরবে আটকে পড়া ৩৩ জন বাংলাদেশি উমরাহ যাত্রী অবশেষে দেশে ফিরেছেন। ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। তারা একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মার্চের ২৪ তারিখে ওই যাত্রীরা উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তাদের ৫ এপ্রিল দেশে ফেরানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন টিকিট দেয়নি। এতে তাদের দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

    পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা আরও বিপাকে পড়েন। এ অবস্থায় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর বিষয়টি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

    বিষয়টি জানার পর ধর্মমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেন। কনসাল জেনারেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।

    এই প্রতিনিধি দলে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর, হজ অফিসের কর্মকর্তাসহ কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যাতে যাত্রীরা কোনো জটিলতায় না পড়েন, সে বিষয়ে সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়।

    শেষ পর্যন্ত ২৩ এপ্রিল আটকে পড়া উমরাহ যাত্রীদের সর্বশেষ দলটি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    উল্লেখ্য, গত মাসেও একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া কিছু উমরাহ যাত্রী একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন। তখনও সরকারি হস্তক্ষেপে তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

  • দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    এবিএনএ: প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেই খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, অফিসকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। কখনো সকালে, আবার কখনো মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৪৩ মেগাওয়াট, তখন ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

    এর আগে বুধবার দুপুরে ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    খুলনা নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মাহাফুজ বলেন, অফিস চলাকালে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে এসিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতর প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে গরম, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান খাতুন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা থাকে, আবার দীর্ঘ সময় থাকে না। এতে গরমে অসুস্থতা বাড়ছে এবং ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি। চলমান তাপদাহের কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। শুক্রবারও তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

  • নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশজুড়ে নদ-নদীর তীর ও প্লাবনভূমি দখল করে রাখা ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ২১ হাজার ৯৮২ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মন্ত্রী জানান, দখলদারদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর দখল উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের পরিকল্পনা হাতে পেলেই ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

    সংসদে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্য

    কুমিল্লা-৪ আসনের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, নদী দখল রোধ এবং দূষণ প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং কমিশনকে নদীগুলোর আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও নতুন করে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে সারাদেশে ২১ হাজার ৯৮২ জন দখলদার শনাক্ত হয়েছে।

    উচ্ছেদে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

    সরকার জানিয়েছে, নদী দখল উচ্ছেদে বেশ কয়েকটি বাধা রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সরাসরি উচ্ছেদ পরিচালনার ক্ষমতা না থাকায় অভিযান পরিচালনা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো রেকর্ড অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সেখানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    এছাড়া বিভিন্ন দখল সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকে। লোকবল ও বাজেট সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংসদে জানানো হয়।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক নদী আদালত গঠন, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া জায়গা পুনর্দখল ঠেকাতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়।

  • বাংলাদেশে জিলকদের চাঁদ দেখা যায়নি, ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু

    বাংলাদেশে জিলকদের চাঁদ দেখা যায়নি, ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে অনুযায়ী আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

    বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে দেশের কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শাওয়াল মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হচ্ছে এবং ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু হবে।

    সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, ওয়াকফ প্রশাসনের প্রতিনিধি, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্পারসোর বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চাঁদ না দেখা গেলে চলমান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী মাস শুরু হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই এবার শাওয়াল মাস পূর্ণ করে জিলকদ মাস শুরু হচ্ছে।

  • তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি এলাকাতেও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকাসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এসব অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিলেট বিভাগের কিছু এলাকা এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এবিএনএ: আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে তীব্র গরমের সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় বসছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উদ্বেগে রয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার সময়েই বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, পুনরাবৃত্তি কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম নগরীর এক শিক্ষার্থী নাছরিন জানায়, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও কাজ করে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানায় আনোয়ারা উপজেলার আরেক পরীক্ষার্থী রিজভী। তার ভাষ্য, রাতের দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

    অভিভাবকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে লোডশেডিং চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এসব কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে সাময়িকভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: ৬ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ঝরে গেল কৃষকের প্রাণ

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: ৬ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ঝরে গেল কৃষকের প্রাণ

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে একদিনেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৯ জন।

    সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে সুনামগঞ্জে, যেখানে হাওরে ধান কাটার সময় পাঁচ কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন। এছাড়া রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন, নেত্রকোণায় একজন, হবিগঞ্জে একজন এবং কিশোরগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ৫ কৃষকের মৃত্যু

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচ কৃষক প্রাণ হারান। দুপুরে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

    রংপুরে বজ্রপাতে নিহত ২, আহত কয়েকজন

    রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সকালে বৃষ্টি চলাকালে বজ্রপাত হলে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন জেলে ও আশপাশের লোকজন আহত হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মিয়া ও তালেব উদ্দিন নামে দুইজনের মৃত্যু হয়। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    ময়মনসিংহে দুই উপজেলায় প্রাণহানি

    ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ধানক্ষেত দেখতে যাওয়া এক ব্যক্তি বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন আরেক ব্যক্তি; হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নেত্রকোণায় ঘাস কাটতে গিয়ে নিহত

    নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে স্থানীয়রা জানান।

    হবিগঞ্জে ধান কাটার সময় মৃত্যু

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বোরো জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন নামে এক কৃষক নিহত হন। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কিশোরগঞ্জেও বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানি

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হলুদ মিয়া নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাড়িতে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আকস্মিক বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা হাওরে কাজ না করার জন্য বারবার সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে। তবুও মৌসুমের শেষ সময়ে ধান কাটার তাড়নায় কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামছেন, ফলে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা।

  • গভীর রাতে নারীর ঘরে এএসআই: গণপিটুনি, উঠল পরকীয়ার অভিযোগ

    গভীর রাতে নারীর ঘরে এএসআই: গণপিটুনি, উঠল পরকীয়ার অভিযোগ

    এবিএনএ: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে এক নারীর ঘরে ঢুকে স্থানীয়দের হাতে আটক ও মারধরের শিকার হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই ইমরান ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। পুলিশ সদস্যের বক্তব্য—তিনি আসামি ধরতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিযোগ—এটি পরকীয়ার ঘটনা।

    ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরান সাদা পোশাকে রয়েছেন। তাঁর মাথায় কাপড় বাঁধা এবং মুখে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন তাকে ঘিরে প্রশ্ন করছেন এবং মারধর করছেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি দাবি করেন, তার পকেট থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়া গেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলার সূত্রে এএসআই ইমরানের যাতায়াত ছিল মেহেদীর বাড়িতে। পরে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়।

    শুক্রবার গভীর রাতে মেহেদী হাসানের বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    এএসআইয়ের বক্তব্য

    এএসআই ইমরান দাবি করেন, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে গভীর রাতে সাদা পোশাকে একা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

    আসামির পরিবারের অভিযোগ

    মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হলেও প্রায়ই বাইরে থাকেন। সেই সুযোগে এএসআই ইমরান তার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গভীর রাতে ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

    পুলিশের বক্তব্য

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে পরিবারের লোকজন ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করে মারধর করেছে। তবে কেন তিনি গভীর রাতে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

  • বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ—এ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত পোদ্দার (কানু) প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান নামে ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, মৃতের মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানেই তিনি অবস্থান করছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে মরদেহ উত্তর আমবাড়ি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, মৃত ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই মুসলিম রীতিতে কবরস্থানে দাফন করতে হবে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে প্রশাসন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সব কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের দাবি যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সে কারণে দাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।