Tag: বাংলাদেশ

  • সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ফিটনেসবিহীন বাস-অটোরিকশায় ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

    সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ফিটনেসবিহীন বাস-অটোরিকশায় ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের সড়ক এখন যেন চলন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক—ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

    প্রতিদিন ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার অন্তত ২০ শতাংশের জন্য দায়ী ফিটনেসবিহীন মোটরযান। ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার বা ইঞ্জিনের ত্রুটিতে মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রংচটা, ভাঙাচোরা ও নোংরা বাসে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে চলছে পরিবহন ব্যবসা।

    আইন থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল

    দেশের আইন অনুযায়ী, ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চালানো অপরাধ। এ সনদ ইস্যু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু সংস্থাটির হিসাবেই দেখা যায়, সাড়ে ছয় লাখের বেশি যানবাহনের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই। ফলে তারা অবাধে সড়কে চলাচল করছে।

    গণপরিবহনেই বেশি ঝুঁকি

    গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ২৪ হাজার বাস, ১২ হাজার মিনিবাস ও ১৪ হাজার হিউম্যান হলারের হালনাগাদ ফিটনেস নেই। চুক্তিভিত্তিক পরিবহন খাতেও একই অবস্থা—সারাদেশে দুই লাখের বেশি অটোরিকশা ও অটোটেম্পো ফিটনেসবিহীন। ফলে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই ওঠানামা করছেন এসব যানবাহনে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-ট্রাক

    সরকার বাসের ইকোনমিক লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাকের জন্য ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দেশের রাস্তায় এখনো ৭৫ হাজারের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও ট্রাক চলাচল করছে। পুরোনো এসব যানবাহন মাঝপথে নষ্ট হয়ে যানজট তৈরি করছে, আবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে।

    পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে

    আনফিট যানবাহনের কালো ধোঁয়া শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতিদিন অজস্র মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এই দূষণের কারণে।

    বিশেষজ্ঞদের মতামত

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “যে বাসগুলো দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, সেগুলো যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। ফলে প্রাণহানির ঘটনা বেশি হচ্ছে।”
    বুয়েটের এআরআই পরিচালক অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, “আনফিট গাড়ির মেকানিক্যাল ফেইলিওরের ঝুঁকি বেশি। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণই হচ্ছে এসব যানবাহন।”

    সুপারিশ ও সমাধান

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে—
    ১. ফিটনেস পরীক্ষা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন,
    ২. মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রুট থেকে সরানো,
    ৩. পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার,
    ৪. সড়ক নিরাপত্তা আইন শক্তিশালী করা,
    ৫. নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন এসব গাড়ি মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। তাই সরকার, বিআরটিএ, পরিবহন ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগেই সড়কে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

  • রেকর্ড খাদ্যশস্য আমদানি সত্ত্বেও ঝুঁকিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা

    রেকর্ড খাদ্যশস্য আমদানি সত্ত্বেও ঝুঁকিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা

    এবিএনএ:  দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে সরকার। চলতি অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমলেও খাদ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর কারণ হিসেবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ প্রধান ধান উৎপাদন অঞ্চলে টানা চার দফা বৃষ্টিতে উৎপাদন হ্রাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সরকার বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রেখেছে। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, ১৭ আগস্ট থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হবে, যেখানে এবার ৫ লাখ নতুন পরিবার যুক্ত হয়ে মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৫ লাখে।

    তবে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫’-এ দেখা যাচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের একটি বাংলাদেশ, অবস্থান চতুর্থ। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু খাদ্যের অভাব নয়, স্বাস্থ্যকর খাবারের দিক থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এখনও দেশের প্রায় ৭ কোটি ৭১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পান না, আর ১০ শতাংশের বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে।

    সরকারি তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫.৭২ লাখ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬.৮৩ লাখ টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬.৩৩ লাখ টন খাদ্য আমদানি হয়েছিল। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ—১২ লাখ ৯৬ হাজার টন।

    অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, খাদ্য সংকট বৈশ্বিক বিষয় এবং এর ওপর প্রভাব বিস্তার করে বড় অর্থনীতির দেশগুলো। অন্যদিকে ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, দৃশ্যমান ক্ষুধা না থাকলেও দেশে “চাপা ক্ষুধা” বিদ্যমান, যা মানুষের জীবনযাপনের ধরণ পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৫৩টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে, যেখানে নাইজেরিয়া, সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়া শীর্ষে।

  • জেমসের কনসার্টে মানবিক বার্তা: বিমান দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নগরবাউল

    জেমসের কনসার্টে মানবিক বার্তা: বিমান দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নগরবাউল

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস তার সঙ্গীত দিয়ে যেমন হৃদয় জয় করেছেন, এবার মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে মুগ্ধ করছেন ভক্তদের। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা এই শিল্পী ২৫ জুলাই ফিলাডেলফিয়া শহরে অংশ নিচ্ছেন ‘নগরবাউল জেমস লাইভ ইন ফিলাডেলফিয়া’ শীর্ষক এক বিশেষ কনসার্টে।

    এই আয়োজনের পেছনে আছে একটি মহান উদ্দেশ্য। কনসার্টের আয়োজক রিভারাইন এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হবে সম্প্রতি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তায়।

    এক ফেসবুক পোস্টে আয়োজকরা লিখেছেন, “ঢাকায় ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃসময়ে আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকতে চাই। তাই কনসার্টের টিকিট বিক্রির একটি অংশ সরাসরি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রদান করা হবে।”

    এই দুর্ঘটনার ঘটনায় নগরবাউল জেমস ও তার টিমও প্রকাশ করেছে গভীর শোক। জেমসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক শোকবার্তায় তিনি জানান, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। যেসব কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে বা আহত হয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের অকুণ্ঠ সহানুভূতি ও ভালোবাসা। তাদের পরিবারের পাশে আমরা আছি।”

    জেমস আরও বলেন, “ঘটনাস্থলে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নিহতদের জন্য দোয়া করি, আর আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

    মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই জেমস প্রমাণ করলেন, একজন শিল্পী কেবল মঞ্চেই নয়, সমাজের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েও মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন।

  • উত্তরার দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় ঢাকায় আসছে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল

    উত্তরার দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় ঢাকায় আসছে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল

    এবিএনএ: ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় ভারতের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

    বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিল্লির ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, “দুইজন বার্ন ইউনিট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের একটি ছোট দল আজই (মঙ্গলবার) ঢাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছি।”

    তিনি আরও জানান, “চিকিৎসায় সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও চিকিৎসক পাঠানো হতে পারে।”

    উল্লেখ্য, সোমবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তিনি লেখেন, “ভারত সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।”

    বাংলাদেশ-ভারতের এই যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও মানবিক সংহতির বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

    পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

    এবিএনএ: মিরপুরে আয়োজিত দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, জয়ের পথটা সহজ হবে। কিন্তু সেই সহজ লক্ষ্যও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ফাহিম আশরাফের একক প্রতিরোধে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৮ রানের জয় পায় লাল-সবুজ বাহিনী এবং এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

    মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হয় মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে শোক জানিয়ে। একাদশে ছিল দুটি পরিবর্তন—নাঈম শেখ সুযোগ পান তানজিদ তামিমের পরিবর্তে, জাকের আলী ফিরেন দলে। কিন্তু শুরুটা হতাশাজনক ছিল ব্যাটিংয়ে। লিটন দাস, হৃদয়, ইমন কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ২৫ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

    তবে শেখ মেহেদি ও জাকের আলীর ৫৩ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। মেহেদি ২৫ বলে ৩৩ রান করেন, আর জাকের শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও ১টি চার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৩ রান।

    জবাবে পাকিস্তান ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শুরুতেই। মাত্র ১৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের আগুনঝরা স্পেলে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ৭ উইকেটে ৪৭ রানে পরিণত হয় সফরকারীরা।

    তবে পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ একাই লড়াই চালিয়ে যান। আব্বাস আফ্রিদিকে নিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়েন। ফাহিম ৩২ বলে ৫১ রান করে রিশাদের বলে বোল্ড হন। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। প্রথম বলেই মুস্তাফিজ চার খেয়ে চাপে পড়লেও পরের বলেই উইকেট তুলে নিয়ে জয় এনে দেন বাংলাদেশকে।

    বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ৩ উইকেট, তানজিম ও মেহেদি ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন জাকের আলী।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩১, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬৫

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩১, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬৫

    এবিএনএ:  ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার শিকার আহত ব্যক্তিদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালভেদে নিহত ও আহতদের অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো—

    • কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: ৮ জন আহত, কোনো মৃত্যুর খবর নেই।

    • শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: ৪৬ জন আহত, ১০ জন মারা গেছেন।

    • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৩ জন আহত, ১ জন নিহত।

    • সিএমএইচ, ঢাকা: ২৮ জন আহত, ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    • লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার: ১৩ জন আহত, ২ জন নিহত।

    • উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: ৬০ জন আহত, ১ জন নিহত।

    • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: ১ জন আহত, কোনো মৃত্যু নেই।

    • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন আহত, মৃত্যু হয়নি।

    • ইউনাইটেড হাসপাতাল: ২ জন আহত, ১ জন নিহত।

    • কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: ৩ জন আহত, কোনো মৃত্যুর খবর নেই।

    মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং আরও তথ্য পেলে হালনাগাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

  • ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একবার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা একটা লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এবার আরেকটা যুদ্ধ হবে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ, সেই লড়াইটাও আমরা জিতব।”

    তিনি আরও জানান, এই সমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে তিনজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের স্মরণে তিনি আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা কামনা করেন।

    জাতির অতীত সংগ্রামকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যদি আবু সাঈদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা দাঁড়াতেন না, যদি সেই সময় ২৪ জন জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ না গড়তেন, তবে আজ যারা অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের অবস্থান থাকত কোথায়?”

    তিনি আরও বলেন, শহীদদের ত্যাগকে ছোট করে দেখা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো শোভন নয়। যারা এমন করে, তাদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা বাসা বাঁধে।

    সামগ্রিকভাবে সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এই লড়াই কেবল দলের নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপরেখা।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী সংঘাতে শহর রণক্ষেত্র

    গোপালগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী সংঘাতে শহর রণক্ষেত্র

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর লং মার্চ শেষে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা। এই ঘটনায় গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা, সৃষ্টি হয় রণক্ষেত্রের পরিবেশ।

    বুধবার বিকাল ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এই হামলার সূত্রপাত হয়। সড়ক অবরোধ করে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এনসিপির সমাবেশস্থলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    জুলাই মাসব্যাপী এনসিপি দেশের বিভিন্ন জেলায় লং মার্চ ও পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে আজ তারা গোপালগঞ্জে একটি লং মার্চ ও সমাবেশ করে। তবে শান্তিপূর্ণ সেই কর্মসূচির পরেই শুরু হয় সহিংসতা, যার জেরে পুরো শহরজুড়ে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যাতে করে কোনো ধরনের জনসমাগম না ঘটে এবং সংঘর্ষ আর না বাড়ে।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

  • বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুমি বায়ু। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঘন বজ্রমেঘ, যা উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার, ২০ জুন, আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরজুড়ে বায়ুচাপের তারতম্য ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর ফলে বজ্রমেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এর প্রভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে যেন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামুদ্রিক ঝুঁকি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তাই উপকূলীয় জনপদ ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১২ জন, বরিশালেই অধিকাংশ ভর্তি

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১২ জন, বরিশালেই অধিকাংশ ভর্তি

    এবিএনএ:  দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ১১০ জনই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৬ জন, ঢাকার বাইরের এলাকায় ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনায় ১২ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

    চলতি জুন মাসের প্রথম ১৮ দিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আর সারা বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ৬৭৮ জন রোগী।

    তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ জন রোগী। মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮৭ জনে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।