Tag: বাংলাদেশ ব্যাংক

  • ঈদে দীর্ঘ ছুটি, এটিএমে নগদ টাকার ঘাটতি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

    ঈদে দীর্ঘ ছুটি, এটিএমে নগদ টাকার ঘাটতি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

    এবিএনএ,ঢাকা:

    আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ দিনের টানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা শুরু হবে আগামী ৫ জুন থেকে এবং চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। এই দীর্ঘ ছুটিকালীন সময়ে জনগণের ব্যাংকিং সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাদের নিজস্ব ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সব এটিএম বুথে ঈদের ছুটির সময় যথেষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষ করে ঈদের আগের দিনগুলোতে যখন মানুষ ব্যাপকভাবে নগদ টাকা তোলেন, তখন যেন কোনো বুথে টাকা ফুরিয়ে না যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে অনলাইন ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু থাকে।

    ব্যাংকের সার্ভার বা প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিটি ব্যাংককে আলাদা প্রযুক্তি সহায়তা টিম গঠন করে ছুটির পুরো সময় দায়িত্বে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এসএমএস, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের জানাতে হবে—কোন সেবা কখন কিভাবে পাওয়া যাবে। এতে করে গ্রাহকরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    এই নির্দেশনার মাধ্যমে দীর্ঘ ছুটির সময়েও দেশের আর্থিক লেনদেন ও সেবা ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


  • লন্ডনে বাংলাদেশি পাচারকৃত অর্থ জব্দ, ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক

    লন্ডনে বাংলাদেশি পাচারকৃত অর্থ জব্দ, ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক

    এবিএনএ: 

    দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এর ইতিবাচক ফলাফল ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মালিকানাধীন বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ করা হয়েছে যা দেশবাসীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ঋণ সক্ষমতা উন্নয়ন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং।

    গভর্নর বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তারই ফল হিসেবে লন্ডনে কিছু অর্থ জব্দ হয়েছে। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। শুধু লন্ডন নয়, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থ চিহ্নিত ও ফিরিয়ে আনতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

    উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে, যেগুলো বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পরিবার–পরিজনের নামে ছিল। এদের মধ্যে রয়েছেন সালমান রহমানের পুত্র আহমেদ শায়ান এফ রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমান।

    এই অর্থ ফেরত আসবে কখন—এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “এই মুহূর্তে সম্পদ বিক্রি বন্ধ হয়েছে, যা আইনি লড়াইয়ের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। বিচার শেষ হলে তখনই সম্পদ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, বিদেশি সরকার ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে তিনি সম্প্রতি লন্ডন ও দুবাই সফর করেছেন এবং শিগগিরই সিঙ্গাপুর সফরে যাবেন। এছাড়া, অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও ফেরত আনার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    গভর্নরের ভাষায়, “এটা জনগণের টাকা, আমানতকারীর অর্থ। এসব ফেরত আনা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে যে, অন্য দেশের অর্থ আটকে রাখা অনৈতিক।”

    এই পদক্ষেপকে তিনি অর্থপাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এখন পাচারকারীরা এসব সম্পদ বিক্রি করে পালিয়ে যেতে পারবে না। এটা একটি কৌশলগত জয়।”

  • মাত্র ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স! প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

    মাত্র ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স! প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

    এবিএনএ:  প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে বছর নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই দেশে এসেছে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা (ডলার প্রতি ১২২ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যার মূল্য ১১৫৫ কোটি টাকারও বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, মে মাসের এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে—৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি।

    এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মে মাসে রেমিট্যান্স অতিক্রম করতে পারে বিলিয়ন ডলার।

    চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি এবং এপ্রিল মাসে এসেছে ২৭৫ কোটি ডলার।

    এই প্রবণতা থেকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই গতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি আনবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রতি যে আগ্রহ বেড়েছে, তা অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্সে আরও বড় রেকর্ড গড়তে পারে বাংলাদেশ।