Tag: বাংলাদেশ ব্যাংক

  • সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    এবিএনএ: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন আসছে। সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভা শেষে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান।

    সভায় গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জানানো হয়, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে পরিচালিত এই মার্জার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। খুব শিগগিরই একীভূতকরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

    এ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসক টিম নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জমা দেবে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক। সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’, যার জন্য আলাদা লাইসেন্স ইস্যু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে নতুন রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক

    দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে নতুন রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে।

    গত রোববার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একত্রিত করার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়। নতুন ব্যাংকের সম্ভাব্য নাম ধরা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    এই ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকরা। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী সম্মানী পাবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই পাঁচ ব্যাংক সংকটে পড়ে। সেগুলোকে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকের মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরাসরি সরকার দেবে, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বীমা তহবিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে।

    নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনা এবং ইসলামী ব্যাংক খাতকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • খেলাপি ঋণ ও লোকসানের ফাঁদে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে

    খেলাপি ঋণ ও লোকসানের ফাঁদে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড়সড় ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। ভয়াবহ লোকসান, ঋণখেলাপি এবং আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    এর আগে গত মে মাসে ২০টি সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় এবার ৯টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে অবসায়নের পথে নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে।

    বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
    পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং চাকরিজীবীরা নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।

    কিছু প্রতিষ্ঠানের চিত্র ভয়াবহ:

    • এফএএস ফাইন্যান্সের ৯৯.৯৩% ঋণ খেলাপি, লোকসান ১,৭১৯ কোটি টাকা।

    • ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮% ঋণ খেলাপি, লোকসান ১,০১৭ কোটি টাকা।

    • ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের লোকসান ৪,২১৯ কোটি টাকা, ঋণের ৯৬% খেলাপি।

    • পিপলস লিজিংয়ের লোকসান ৪,৬২৮ কোটি টাকা, ঋণের ৯৫% খেলাপি।

    • আভিভা ফাইন্যান্সের ৮৩% ঋণ খেলাপি, লোকসান ৩,৮০৩ কোটি টাকা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকগুলো এখন চরম সংকটে। ২০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের ৮৩% খেলাপি। অন্যদিকে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৭.৩১% খেলাপি ঋণে সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং মুনাফাও করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন অনুযায়ী আমানতকারীর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেশের আর্থিক খাতে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের মাধ্যমে খাতকে স্থিতিশীল করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট, থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছাপ

    মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট, থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছাপ

    এবিএনএ:  আগামী মঙ্গলবার থেকে বাজারে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নকশার ১০০ টাকার নোট। প্রাথমিকভাবে মতিঝিল কার্যালয় থেকে ছাড়ার পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শাখা থেকেও এটি পাওয়া যাবে। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন নোটের নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

    বর্তমানে প্রচলিত নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকলেও নতুন নোটে তা থাকছে না। তবে পুরনো সব নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চলবে। এছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিনিময়যোগ্য নয়—এমন ১০০ টাকার নমুনা নোটও ছাপা হয়েছে, যা মিরপুরের টাকা জাদুঘর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

    গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত নতুন নোটের আকার ১৪০ মিমি × ৬২ মিমি এবং এটি ১০০ শতাংশ সুতি কাগজে মুদ্রিত। নোটে জলছাপ হিসেবে থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ। রঙের আধিক্য নীল এবং সামনের বাঁ পাশে মুদ্রিত হয়েছে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ। মাঝের ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে শাপলার ছবি, আর পেছনে থাকছে সুন্দরবনের দৃশ্য।

    নতুন নোটে যুক্ত হয়েছে ১০ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪ মিমি প্রশস্ত লাল-রুপালি রঙের নিরাপত্তা সুতা, যেখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ ও ‘১০০ টাকা’ খোদাই রয়েছে। নোট নড়াচড়া করলে সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে তিনটি উঁচু বৃত্ত, যা স্পর্শে অনুভূত হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ১ জুন বাজারে আসে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসংবলিত নতুন নোট বাজারে ছাড়ায় সাময়িক বিরতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা পরবর্তীতে এই নতুন নকশার মাধ্যমে পুনরায় চালু হচ্ছে।

  • বৃহস্পতিবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি: কী থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায়?

    বৃহস্পতিবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি: কী থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায়?

    এবিএনএ: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (Monetary Policy Statement – MPS) ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুদ্রানীতির রূপরেখা তুলে ধরবেন ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য সংবাদ সম্মেলনে মুদ্রানীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো ব্যাখ্যা করবেন গভর্নর।


    📊 কী থাকছে এবারের মুদ্রানীতিতে?

    নতুন মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হবে চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগে উৎসাহ এবং ঋণপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রণোদনামূলক রাখা। বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, ডলারের বাজার, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের বর্তমান প্রবণতাও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রধান, মুখ্য অর্থনীতিবিদ ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।


    📈 কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মুদ্রানীতি?

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতির উচ্চহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবারের মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

    ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও রয়েছে আগ্রহ—ব্যাংক ঋণের সুদহার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থান কেমন হবে তা জানতে।

    এখন দেখার পালা, বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবভিত্তিক এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক একটি নীতি উপস্থাপন করতে পারে।

  • ঋণের সংকটে বেসরকারি খাত, দুই দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম

    ঋণের সংকটে বেসরকারি খাত, দুই দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম

    এবিএনএ: বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন শেষে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। এটি গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুদের উচ্চ হার, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও ঋণ খেলাপির হার বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ৩১ জুলাই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে, যেখানে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে ঋণের প্রবাহে স্থবিরতা দেখা দেয়। বেসরকারি খাতের অনেক ঋণগ্রহীতা গ্রেফতার বা বিদেশে পলায়ন করায় নতুন ঋণ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পূর্বের অনেক ঋণও এখন খেলাপি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে গড় সুদহার ছিল ৯-১০ শতাংশ, তা এখন ১৩-১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে আমানতের গড় সুদহারও বেড়ে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বরে ৭.২৮ শতাংশে ছিল, জানুয়ারিতে কমে ৭.১৫ শতাংশে আসে, ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে দাঁড়ায় ৬.৮২ শতাংশ। এরপরও মে মাসে তা সামান্য বেড়ে ৭.১৭ শতাংশ হয়েছিল। অথচ করোনার সময়েও এই প্রবৃদ্ধি কখনো সাড়ে সাত শতাংশের নিচে নামেনি।

    একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে এসেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    অন্যদিকে সরকার নিজেও ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ঋণ নিচ্ছে। গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, যা আগের চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা কম।

    এছাড়াও সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের দায় পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে এবং ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে, যার ফলে বাজারে তারল্য সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগের অনাগ্রহ এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্যের ঘাটতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে ঋণের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো— বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে আবার ঋণ প্রবাহ সচল করা।

  • স্বাধীনতা পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক: আসছে সাংবিধানিক মর্যাদা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

    স্বাধীনতা পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক: আসছে সাংবিধানিক মর্যাদা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে শুধু আর্থিক নয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও পাবে সাংবিধানিক মর্যাদা—এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন একটি আইন (বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫) প্রণয়নের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হচ্ছে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা

    নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব থাকবে স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদের ওপর, যেখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা থাকতে পারবেন না। পর্ষদে থাকবেন আটজন সদস্য, যাদের আর্থিক, ব্যাংকিং, বাণিজ্য বা আইনি বিষয়ে ন্যূনতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভর্নরের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে সরকার পর্ষদ সদস্য নিয়োগ দেবে।

    🔶 গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে কঠোর নিয়ম

    নতুন আইনে বলা হয়েছে, গভর্নর পদে নিয়োগ পেতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। একইভাবে ডেপুটি গভর্নররাও নিয়োগ পাবেন গভর্নরের সুপারিশ ও সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে। পদগুলোতে ছয় বছরের মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং একবার পুনঃনিয়োগের সুযোগ থাকবে। নিয়োগের আগে তাঁদের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সামনে শপথ নিতে হবে

    🔶 অপসারণ হবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে

    কেউ যদি দায়িত্বে অনিয়ম করেন, আস্থা ভঙ্গ করেন বা ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের সম্মতিক্রমে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে পারবেন। তবে আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে এবং শুনানিও নিতে হবে।

    🔶 পর্ষদের অধীনেই সব সিদ্ধান্ত

    পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করবে মুদ্রানীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংক তদারকি। পর্ষদ বছরে অন্তত ছয়বার এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে অন্তত একবার বৈঠক করবে। গভর্নর থাকবেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এবং পর্ষদের বাইরে থাকা বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তাঁকে সহায়তা করবে একটি নির্বাহী উপদেষ্টা কমিটি

    🔶 অর্থনৈতিক সমন্বয়ে আসছে নতুন প্ল্যাটফর্ম

    মুদ্রা ও বিনিময় হারের সমন্বয় নিশ্চিত করতে গঠন করা হবে “সমন্বয় পরিষদ”। এতে অর্থমন্ত্রী হবেন সভাপতি এবং সদস্য হিসেবে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এই পরিষদ বাজেট প্রণয়ন, বেসরকারি ঋণ মূল্যায়ন এবং রাজস্ব-ব্যয়ের ভারসাম্য নিশ্চিত করবে।

    🔶 ব্যাংক রেজল্যুশনে বাধ্যতামূলক ক্ষমতা

    আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে বাধ্যতামূলক ব্যাংক রেজল্যুশনের ক্ষমতা পাবে। কোন ব্যাংক যদি ঝুঁকিতে পড়ে, তবে মূলধন পুনর্গঠন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপসহ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    🔶 আন্তর্জাতিক পরামর্শক যুক্ত

    এই খসড়া প্রণয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকের সিদ্দিকী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা। তাঁর নেতৃত্বে প্রস্তাবনাগুলো ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে

    🔶 বিশ্লেষকদের মত

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “স্বায়ত্তশাসন শুধু নামেই হলে চলবে না, গভর্নর নিয়োগ হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।”

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে রেকর্ড অর্থ জমা, এক বছরে বৃদ্ধি ২৩ গুণ!

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে রেকর্ড অর্থ জমা, এক বছরে বৃদ্ধি ২৩ গুণ!

    এবিএনএ:  সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (SNB)’ সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশের নামে সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৮২ লাখ সুইস ফ্রাঁ—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮,৯৭২ কোটি টাকা। যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ২৩ গুণ বেশি।

    পূর্ববর্তী বছর শেষে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২ কোটি ৬৪ লাখ ফ্রাঁ (প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা)। এ ধরনের উল্লম্ফন সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের অর্থ জমা বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের ৯৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর নামে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্বেও জানিয়েছে, এই টাকা মূলত আমদানি-রপ্তানিভিত্তিক বাণিজ্য কার্যক্রমের অর্থ।

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ ফ্রাঁ, যা প্রায় ৮,৬৪৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ৩৫ লাখ ফ্রাঁ বা ৫২ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে ব্যাংকগুলোর নামে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৬৫ গুণের বেশি।

    ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে গ্রাহক আমানতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ২০২৩ সালে যা ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ফ্রাঁ, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ফ্রাঁ। অন্যদিকে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৬ লাখ ফ্রাঁতে কিছুটা কমেছে।

    এই হঠাৎ প্রবৃদ্ধির কারণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা চলছে, তবে এখনো অফিসিয়াল কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিপুল অর্থের উত্স নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “এমন রেকর্ড বৃদ্ধি শুধু বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।”

    তাঁর মতে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেও অর্থ পাচার হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদেশে অর্থ সরিয়ে ফেলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

    সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো আলাদাভাবে কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে না। গোপনীয়তার নীতির কারণে তথ্য দেওয়া হয় সম্মিলিতভাবে। এ কারণে কার নামে কত অর্থ আছে তা স্পষ্ট নয়।

    এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের নামে জমা অর্থ নেমে এসেছিল ৫ কোটি ৮৪ লাখ ফ্রাঁতে। তবে ২০২৪ সালের এই প্রবল উল্লম্ফন আবারো আলোচনায় এনেছে সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)-এর মতে, বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয় বাণিজ্যের আড়ালে। আইসিআইজে প্রকাশিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসেও একাধিক বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছিল, যারা বিদেশে কোম্পানি খুলেছেন এবং অর্থ স্থানান্তর করেছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের নামেও সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ বেড়েছে ২০২৪ সালে, যা ৩৫০ কোটি ফ্রাঁতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থের পরিমাণ কমেছে। শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও বেড়েছে সুইস ব্যাংকে দায়।

    এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব আরও বাড়ে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এর অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

  • ঈদুল আজহার ছুটিতেও যেসব এলাকায় বুধবার-বৃহস্পতিবার ব্যাংক খুলবে, জানুন সময় ও শর্তাবলী

    ঈদুল আজহার ছুটিতেও যেসব এলাকায় বুধবার-বৃহস্পতিবার ব্যাংক খুলবে, জানুন সময় ও শর্তাবলী

    এবিএনএ:

    পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির মধ্যেও আগামী ১১ ও ১২ জুন দুই দিনে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন (ডিওএস) এর নির্দেশনায় এই ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, আমদানি ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক লেনদেনের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলের অথরাইজড ডিলার শাখাগুলো এই দুই দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিষেবা চালু রাখবে।

    ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ভাতাদি পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    এই নির্দেশনা ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীনে জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এটি প্রেরণ করেছে।

    ঈদের ছুটির মাঝেও ব্যবসা-বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেনে কোনো ঝামেলা না হয়, সেজন্য এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য এই সময়সূচি অবশ্যই উপকারী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।