Tag: বাংলাদেশ নির্বাচন

  • নির্বাচনে বাধা আসবেই, সতর্ক থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    নির্বাচনে বাধা আসবেই, সতর্ক থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে নানা ধরনের বাধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চায়, তারা বিভিন্ন কৌশলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যেই কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং সামনে আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এ কারণে সবারই সতর্ক থাকা জরুরি।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাতটি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো বাধা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নাগরিকদের জন্য এটি হবে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। অতীতে যারা ভোটের সময় নানা তিক্ততার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদেরও এবার নিরাশ হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।”

    নির্বাচন আয়োজনকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের। তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তোলার নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতি পদে পদে বাধা আসবে, বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তবে সবাইকে স্থির থাকতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা হবে, তবে উৎসবমুখর পরিবেশেই এবারও দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে।

    বৈঠকে এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণফ্রন্ট এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করল জামায়াত, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাল নানা প্রস্তাব

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করল জামায়াত, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাল নানা প্রস্তাব

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, বর্তমান পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। আওয়ামী লীগের মতোই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।”

    তিনি আরও জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন—সংস্কার বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা এবং বিশ্বমানের উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি।

    ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কমিশনে আলোচনা চলছে। অনেক বিষয়ে একমত হলেও কিছু বড় ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ সিদ্ধান্তে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ছিল।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু দল সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। কিন্তু যদি সেটাই হয় তবে এত সময় অপচয় কেন হলো?”

    এছাড়া জুলাইয়ের ঘোষণাকে ঘিরে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন অবাধ হবে। আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”

    প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে জামায়াতের দাবি, সব স্তরে এই পদ্ধতি চালু হওয়া প্রয়োজন। তাহের বলেন, “গত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা নতুন পদ্ধতি চাই। এ বিষয়ে ইসিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

    বৈঠক শেষে জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কাটবে না।

  • “নির্বাচনের বিকল্প চিন্তা জাতির জন্য হুমকি” : সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    “নির্বাচনের বিকল্প চিন্তা জাতির জন্য হুমকি” : সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সতর্ক করে দেন, কেউ যদি অন্য কোনো বিকল্প চিন্তা করে তবে সেটি হবে জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যে সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।”

    এসময় বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ জুলাই সনদের অগ্রগতির বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন।

    দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যেন কেউ কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না করে সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রেস সচিব জানান, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

  • ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে: ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক অভিযোগ

    ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে: ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক অভিযোগ

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থগিতকৃত উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। তার দাবি, জামায়াত ইসলাম এখন দেশের অর্থনীতি থেকে প্রশাসন—সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।

    সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এনসিপি আসলে তার নিজস্ব দল, আর রাতের আঁধারে তিনি জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বাস্তবে জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে।”

    তিনি আরো বলেন, “সমস্ত ব্যাংক, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক খাত জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে। শেয়ার বাজারেও তাদের কর্তৃত্ব স্পষ্ট। প্রশাসনে কর্মকর্তা বদলি পর্যন্ত তাদের ইশারায় হচ্ছে। বিএনপি যদি দ্রুত বিষয়টি অনুধাবন না করে তবে নিজেদের অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।”

    লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে লতিফ সিদ্দিকীর অবদান অপরিসীম। ৮৭ বছরের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে গ্রেপ্তার করা দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননা।”

    তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিরোধ ছাড়া এই দমননীতির অবসান হবে না। আজ লতিফ সিদ্দিকীর ওপর অন্যায় হলো, কাল তা বিএনপির ওপর আসবে।”

    বিএনপি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার হলেও দল ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। তার ভাষায়, “আমি এখনো বিএনপির মানুষ। তিন মাস পর হয়তো তারা আমাকে ফের নেবে, আবার আমিও থাকতে পারি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।”

  • মান্নার কড়া মন্তব্য: ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ টালমাটাল, সুশাসনের পথে সংগ্রাম অব্যাহত

    মান্নার কড়া মন্তব্য: ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ টালমাটাল, সুশাসনের পথে সংগ্রাম অব্যাহত

    এবিএনএ:  নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধি ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পারলেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

    সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক ঐক্যের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মান্না বলেন, পুলিশের আচরণেও বৈষম্য দেখা যায়। নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীদের অন্যায় দেখলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে দ্বিধা করে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রশাসন যাকে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি মনে করে, তাকেই আগেভাগে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন দফায় নির্বাচনের নামে দেশে যা হয়েছে, তাতে মানুষের ভোটাধিকার হরণ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা জনগণের ভোটাধিকারকে তামাশায় পরিণত করেছেন এবং আগের রাতে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা নাগরিক ঐক্যের নেত্রী রাজিয়া সুলতানা ইভা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার সজীব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমান সাগর, মামুনুর রশিদ, মকুল হাসান বাবু, আলিফ হোসেন ও রাজ বাহাদুরসহ স্থানীয় নেতারা।

    কর্মী সভা শেষে মান্না তার নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) এর বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন।

  • অতি শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঐক্যের আহ্বান

    অতি শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঐক্যের আহ্বান

    এবিএনএ:  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই তিনি দেশবাসীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। রবিবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে পুনর্গঠনের পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের রমজানের আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হবে। তবে এরপরও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা স্বৈরাচারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছি।”

    বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসন দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেসব ক্ষেত্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার ও তরুণদের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করবে।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। এজন্য দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে।

  • নিবন্ধনের দৌড়ে ১৪৪ দল, কিন্তু নেই গঠনতন্ত্র, কমিটি, কার্যালয়: ইসির চিঠিতে অস্বস্তিতে সব দল

    নিবন্ধনের দৌড়ে ১৪৪ দল, কিন্তু নেই গঠনতন্ত্র, কমিটি, কার্যালয়: ইসির চিঠিতে অস্বস্তিতে সব দল

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করতে আগ্রহী ১৪৪টি দল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও তাদের অধিকাংশই নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এসব দলের অনেকেরই নেই গঠনতন্ত্র, সক্রিয় কেন্দ্রীয় বা জেলা কমিটি কিংবা নিজস্ব কার্যালয়ের ঠিকানা।

    নিয়ম অনুযায়ী, ইসি আবেদনপত্র যাচাই করে প্রতিটি দলকে ১৫ দিনের সময় দিয়েছে তথ্যের ঘাটতি পূরণে। ১৫ জুলাই থেকে শুরু করে দুই ধাপে প্রথমে ৬২টি এবং পরে আরও ৮২টি দলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঘাটতির বিস্তারিত উল্লেখ করে যথাযথ নথিপত্র জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    আইনি শর্তানুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, একটি সচল কেন্দ্রীয় কার্যালয়, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলার কার্যকর কমিটি, ১০০ উপজেলা বা মহানগরে কার্যালয় এবং প্রতিটি কার্যালয়ে ২০০ ভোটার সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া ১০টি নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ ও নিবন্ধন ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হয়।

    এনসিপির আবেদনেও একাধিক ঘাটতি পাওয়া গেছে। ইসি থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের তালিকা, অফিস ভাড়া সংক্রান্ত দলিল, ভোটার সদস্যদের পূর্ণ তালিকা ও গঠনতন্ত্রের মধ্যে সংসদীয় বোর্ডের প্রার্থী মনোনয়নের বিধান অনুপস্থিত। এমনকি কিছু জায়গায় একই ভোটারের নাম একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, তাদের আবেদনে যে ত্রুটিগুলো পাওয়া গেছে, তা সংশোধনের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া হবে।

    অন্যান্য দলগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। অন্তত ৩০টি দলের নেতারা ইসির চিঠিতে উল্লেখিত ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। অনেকেই গঠনতন্ত্র, অফিসের কাগজপত্র, এমনকি নিবন্ধন ফিও জমা দেননি।

    কিছু দলের অবস্থা আরও দুর্বল। যেমন—বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পার্টি, জাস্টিস পার্টি, তৃণমূল জনতা পার্টি, মুক্তি ঐক্যদল, জনজোট পার্টি, ইনসাফ দল, বেকার মুক্তি পরিষদ, ইউনাইটেড পার্টি, আজাদী পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট পার্টির ঘাটতি অনেক বেশি।

    ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “সব দলের তথ্যেই ঘাটতি রয়েছে। ১৫ দিনের সময়সীমা শেষে যারা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের আবেদন বাতিল হবে।”

    নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই চালানো হবে, এবং কোনো ধরনের অসংগতি ধরা পড়লে তা দলটির নিবন্ধনপ্রাপ্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

    এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান প্রমাণ করছে—নিবন্ধন শুধু দল গঠনের ঘোষণা দিয়ে নয়, বাস্তব কাঠামো ও সাংগঠনিক উপস্থিতি দিয়েই অর্জন করতে হবে।

  • রাজধানীর উত্তরা থেকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা গ্রেফতার

    রাজধানীর উত্তরা থেকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা গ্রেফতার

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদাকে।


    রবিবার (২২ জুন) সন্ধ্যার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

    এই বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সাবেক সিইসি নুরুল হুদার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। মামলা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে গ্রেফতারের পর তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে একাধিক বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা নিয়ে তখন বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়েছিল।

    তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ধরন, সময়কাল এবং অভিযোগের বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।