Tag: বাংলাদেশি সিনেমা

  • খুলনার মাটির গল্প পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপে, রটারড্যাম উৎসবে নির্বাচিত সিনেমা ‘দেলুপি’

    খুলনার মাটির গল্প পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপে, রটারড্যাম উৎসবে নির্বাচিত সিনেমা ‘দেলুপি’

    এবিএনএ: খুলনার জনপদের মাটি, নদী আর মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। সিনেমাটি নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম ২০২৬-এ।

    নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম শহরে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের ৫৫তম আসর। স্বাধীন ধারার ও নতুন নির্মাতাদের সিনেমার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এই উৎসবে জায়গা করে নেওয়াকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ উৎসবের ‘ব্রাইট ফিউচার’ বিভাগে ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার পেতে যাচ্ছে। এই বিভাগে সাধারণত নতুন নির্মাতাদের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সিনেমা প্রদর্শিত হয়, যা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় পরিচালকদের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দরজা খুলে দেয়।

    রটারড্যামে সিনেমাটির নির্বাচনের খবরে আবেগাপ্লুত নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম জানান, প্রথমবার উৎসব কর্তৃপক্ষের ইমেইল পেয়ে তারা কিছুটা দ্বিধায় পড়েছিলেন। কারণ, সিনেমা নির্মাণের সময় তারা স্থানীয় মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—সবার আগে দেশের দর্শকরাই ছবিটি দেখবেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের দর্শকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আয়োজকদের জানানো হলে তারা তাতে সম্মতি দেন। ফলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে ‘দেলুপি’ পৌঁছালেও, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য প্রদর্শনের পথও উন্মুক্ত থাকছে।

    উল্লেখ্য, খুলনার প্রান্তিক এলাকার মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত ‘দেলুপি’ ইতোমধ্যেই চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের নজর কেড়েছে।

  • ‘সাবা’ আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে: মেহজাবীন

    ‘সাবা’ আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে: মেহজাবীন

    এবিএনএ:  অনেক দিন ধরে দর্শক ও ভক্তরা অপেক্ষা করছিলেন মেহজাবীন চৌধুরীর বড় পর্দায় অভিষেকের জন্য। টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপন ও ওয়েব সিরিজে দাপটের পর এবার তিনি হাজির হয়েছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। সেই ছবির নাম ‘সাবা’। এই সিনেমাই তাঁকে শিখিয়েছে সাহস আর নতুন করে বাঁচার মানে।

    ‘সাবা’র কাহিনি এক তরুণীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। বাবাকে হারানোর পর অসুস্থ মাকে নিয়ে টিকে থাকার লড়াই, দুঃখ, আনন্দ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে সিনেমাটিতে। পরিচালক মাকসুদ হোসেন ও ত্রিলোরা খানের যৌথ চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবির অনুপ্রেরণা এসেছে বাস্তব জীবন থেকে। আর সেই চরিত্রকেই জীবন্ত করেছেন মেহজাবীন।

    মেহজাবীন জানান, চিত্রনাট্য পড়েই তাঁর ভেতরটা নাড়া দিয়েছিল। সহজ অথচ গভীর গল্প তাঁকে নতুন করে ভাবিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি আসলে ততটা সাহসী নই, কিন্তু সাবা আমাকে সাহসী হতে শিখিয়েছে।”

    সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ছবির ট্রেলার। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় তোলে। মা-মেয়ের সম্পর্ক, আবেগ আর সংগ্রামের বাস্তবচিত্র দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

    ছবিতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী এবং অঙ্কুর চরিত্রে আছেন মোস্তফা মনোয়ার। তাঁদের সঙ্গে মেহজাবীনের প্রথম কাজটিও দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে ‘সাবা’। টরন্টো থেকে শুরু করে বুসান, রেড সি, ওসাকা, গোথেনবার্গসহ একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। বেঙ্গালুরু উৎসবে এশিয়ান সিনেমা প্রতিযোগিতা বিভাগে পুরস্কারও জিতেছে।

    মেহজাবীন বলেন, “বিদেশি দর্শকরাও হাসির দৃশ্যে হেসেছে, কান্নার দৃশ্যে কেঁদেছে। তখন বুঝেছি, মানুষের আবেগ সারা পৃথিবীতেই এক।”

    অবশেষে পূজা উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। মেহজাবীনের বিশ্বাস, এটাই সঠিক সময় বাংলাদেশের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে পরিচিত করার। তাঁর মতে, গল্প আর প্রতিভা দিয়ে বাংলাদেশি সিনেমা বিশ্বজুড়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম।

    ‘সাবা’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি মা-সন্তানের সম্পর্কের আবেগঘন যাত্রা। আর মেহজাবীনের কাছে এটি জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যা তাঁকে করেছে আরও সাহসী, আরও মানবিক।

  • সিলেটের শুটিং সেট থেকে শুরু হয়েছিল ওমর সানী–মৌসুমীর প্রেমকাহিনী

    সিলেটের শুটিং সেট থেকে শুরু হয়েছিল ওমর সানী–মৌসুমীর প্রেমকাহিনী

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর প্রেমকাহিনী বেশ নাটকীয়ভাবে শুরু হয়েছিল। সময়টা ছিল ১৯৯২ সাল। তখনও ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায়নি। এর মধ্যেই ওমর সানী অভিনয়ের প্রস্তাব পান মৌসুমীর সঙ্গে ‘দোলা’ সিনেমায়। এই ছবির মাধ্যমেই প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা।

    কিন্তু শুটিং করতে গিয়ে সিলেটে প্রথমবার দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। সম্পর্ক খারাপ হলেও সেই ছোটখাটো ঝগড়ার মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় নতুন এক অনুভূতি—ভালোবাসার বীজ।

    পরে ‘আত্ম অহংকার’ সিনেমার শুটিং করতে সিলেটের জৈন্তাপুরে গেলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। শুটিং চলাকালীন একদিন মৌসুমী জানান, পরদিন তার জন্মদিন। দুপুরে একসঙ্গে খাবার সময় ওমর সানী প্রথমবার তাকে উপহার দেন নিজের গলা থেকে খোলা প্রায় চার ভরি ওজনের সোনার একটি চেইন। সেই মুহূর্তটি তাদের সম্পর্কের বাঁধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

    ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়, আর সেখান থেকেই বিয়ে, সংসার এবং সন্তান। দীর্ঘ সময় ধরে তারা একসঙ্গে থেকে আলোচিত দম্পতি হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। বর্তমানে মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন কয়েক বছর ধরে, আর ওমর সানী বাংলাদেশে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ‘চাপওয়ালা’ সামলাচ্ছেন।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে শোবিজ অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে, তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে নাকি কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। যদিও ভক্তরা এখনো আশা করছেন, এই তারকা দম্পতি আগের মতোই সুখী ও একত্রে থাকবেন।