Tag: বলিউড

  • বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই: শেষবিদায়ে তারকাদের ঢল মুম্বাইতে

    বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই: শেষবিদায়ে তারকাদের ঢল মুম্বাইতে

    এবিএনএ: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং কিংবদন্তি তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর, আর মাত্র কয়েকদিন পরই তিনি পা দিতেন জীবনের ৯০তম বছরে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো দেওয়া হয়নি, তবে দ্য হিন্দু, এনডিটিভি ও ফিল্মফেয়ারসহ ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

    মুম্বাইয়ের পবন হংসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাঁর শেষকৃত্য। যেখানে উপস্থিত হয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, আমির খান, অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্তসহ অনেক তারকা। ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী হেমা মালিনী, দুই মেয়ে এষা দেওল ও আহনা দেওল এবং প্রথম সংসারের সানি ও ববি দেওলও ছিলেন সেখানে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, করণ জোহর, কারিনা কাপুর থেকে শুরু করে অসংখ্য তারকা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।

    গত কয়েকদিন ধরেই ধর্মেন্দ্রর অসুস্থতা নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। কিছু গণমাধ্যম ভুল সংবাদও প্রকাশ করে। পরে এষা দেওল সবাইকে জানান, তাঁর বাবার অবস্থা স্থিতিশীল। হেমা মালিনীও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এমন ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো আশঙ্কা। রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়; চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি।

    ১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া ধর্মেন্দ্রর প্রকৃত নাম ছিল ধর্মসিং দেওল। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই তাঁর সিনেমার প্রতি অদম্য আগ্রহ ছিল। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি মুম্বাইয়ে আসেন। ‘ফুল অউর পাথর’ ছবিটি তাঁকে প্রথম সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি দেয়।

    পরবর্তী দুই দশকে ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘ধর্মবীর’, ‘দোস্ত’সহ অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে। সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অধ্যায়।

    দুই স্ত্রী ও চার সন্তানের জনক ধর্মেন্দ্র ছিলেন বহু প্রজন্মের দর্শকের প্রিয় অভিনেতা। ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবন শেষে বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা রেখে গেলেন অমর স্মৃতি ও অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া সিনেমা।

  • মোদি মায়ের জীবনীতে রাবিনা ট্যান্ডন: এক মায়ের নিঃশব্দ সংগ্রামের বলিউড উপাখ্যান

    মোদি মায়ের জীবনীতে রাবিনা ট্যান্ডন: এক মায়ের নিঃশব্দ সংগ্রামের বলিউড উপাখ্যান

    এবিএনএ: বলিউডে শুরু হচ্ছে এক নতুন বায়োপিকের যাত্রা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন মোদিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে ‘মা বন্দে’ নামের সিনেমা। দীর্ঘ কৌতূহল ও জল্পনার শেষে নিশ্চিত হয়েছে, হীরাবেনের চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডন। এই খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সিনেপ্রেমী থেকে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    ছবিটি পরিচালনা করছেন দক্ষিণ ভারতের নির্মাতা ক্রান্তি কুমার চৌধুরী। তাঁর প্রথম হিন্দি ভাষার বায়োপিক হলেও গল্পের গভীরতাই এটিকে তুলে ধরেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু রাজনৈতিক জীবনের গল্প নয়, এতে তুলে ধরা হবে মায়ের নিঃশব্দ ত্যাগ, সন্তানকে মূল্যবোধ শেখানোর সংগ্রাম, এবং একজন সাধারণ গৃহিণীর অসাধারণ চরিত্র গঠনের গল্প।

    মোদি চরিত্রে দেখা যাবে মালয়ালম তারকা উন্নি মুকুন্দনকে। শৈশবের চাওয়ালা থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ—সবকিছুর আড়ালে যে মায়ের অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে, সেটিই সিনেমার মূল সুর।

    রাবিনা ট্যান্ডন জানান, হীরাবেন মোদির চরিত্র তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন নিঃশব্দ শক্তি। সাধারণ পরিবারে থেকেও সন্তানকে যে সংযম, সততা ও আত্মনিবেদন শিখিয়েছেন—তা সত্যিই অনুকরণীয়।”

    হীরাবেন মোদির সঙ্গে সরাসরি দেখা না হওয়ায় রাবিনা তাঁর চরিত্র ফুটিয়ে তুলছেন পুরোনো ভিডিও, পরিবারের স্মৃতিচারণা ও আর্কাইভ ফুটেজ দেখে। গুজরাটি উচ্চারণ, অভ্যাস ও জীবনযাপন বুঝতে তিনি নিচ্ছেন বিশেষ প্রশিক্ষণ।

    হীরাবেন ছিলেন অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক, সংসারকেন্দ্রিক ও সংযমী একজন নারী। মোদি বহুবার বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা—যিনি তাঁকে শিখিয়েছেন সততা, আত্মনিবেদন ও দায়িত্ববোধের মূল্য।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চরিত্র রাবিনার ক্যারিয়ারে এনে দিতে পারে এক নতুন উচ্চতা। শুধু অভিনয় নয়, এতে প্রকাশ পাবে আবেগ, দৃঢ়তা ও মাতৃত্বের গভীর মানবিকতা।

    বলিউডের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও ‘মা বন্দে’ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নির্মাতারা আশা করছেন, সিনেমাটি শুধু রাজনৈতিক জীবনী নয়, হয়ে উঠবে এক অনুপ্রেরণার গল্প—এক মায়ের, যিনি নিঃশব্দে গড়ে তুলেছিলেন একজন বিশ্বনেতাকে।

  • হলিউডে কাজ করেও নিজের মূল্যবোধে অটল: দীপিকা পাড়ুকোনের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

    হলিউডে কাজ করেও নিজের মূল্যবোধে অটল: দীপিকা পাড়ুকোনের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

    এবিএনএ:  বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও পরিচিত নাম। তবে হলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা তার জন্য খুব সহজ ছিল না। পশ্চিমা দুনিয়ার ভারত সম্পর্কে এখনো অনেক পুরনো ও ভুল ধারণা বিরাজমান—সম্প্রতি সিএনবিসি টিভি১৮–এর এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন দীপিকা।

    তিনি বলেন, “ভারতকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা আমার কাছে সব সময়ই গর্বের বিষয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পশ্চিমা সমাজে এখনো আমাদের সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ধারণা কাজ করে—যেন ভারতীয় শিল্পীদের উচ্চারণ, গায়ের রঙ বা কাজের ধরন একঘেয়ে এবং পুরোনো। বাস্তবে ভারত অনেক এগিয়ে গেছে, কিন্তু তারা এখনো তা বুঝতে পারেনি।”

    ২০১৭ সালে ‘ট্রিপল এক্স: রিটার্ন অব জেন্ডার কেজ’ ছবির মাধ্যমে দীপিকার হলিউডে অভিষেক হয়। সেখানে নিজের সংস্কৃতি বা পরিচয় বিক্রি করে জনপ্রিয় হওয়ার পথ না বেছে, নিজের বিশ্বাসে অটল থাকেন তিনি। দীপিকার ভাষায়, “আমি জানতাম, আমি আমার মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করব না। হয়তো সময় লেগেছে, কিন্তু আমি নিজের নিয়মেই এগিয়েছি।”

    ২০২০ সাল থেকে বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লুই ভ্যুটনের সঙ্গে যুক্ত আছেন দীপিকা। সম্প্রতি তিনি এই ব্র্যান্ডের গ্লোবাল আইকন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং এলভিএএইচ প্রাইজ ২০২৫-এর জুরি সদস্য হন—যা কোনো ভারতীয় নারীর জন্য প্রথমবার। এমনকি কান চলচ্চিত্র উৎসবে লুই ভ্যুটনের মোট মিডিয়া ইমপ্যাক্ট ভ্যালুর ২৫ শতাংশ এসেছে শুধু দীপিকার উপস্থিতি থেকেই।

    দীপিকার মতে, “লস অ্যাঞ্জেলেসের সানসেট বুলেভার্ডে একজন ভারতীয় নারীকে বিলবোর্ডে দেখা শুধু আমার নয়, প্রতিটি ভারতীয় নারীর জন্যই গর্বের মুহূর্ত।”

  • ‘কিং’ টিজারে ঝড় তুললেন শাহরুখ খান — ফিরলেন বলিউডের অপ্রতিরোধ্য বাদশা!

    ‘কিং’ টিজারে ঝড় তুললেন শাহরুখ খান — ফিরলেন বলিউডের অপ্রতিরোধ্য বাদশা!

    এবিএনএ:  বলিউডের কিং শাহরুখ খান মানেই এক অন্য রকম উন্মাদনা। এবারের জন্মদিনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ভক্তদের চমকে দিতে জন্মদিনেই প্রকাশ করলেন তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’-এর টিজার। প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে শাহরুখ-ঝড়।

    ফেসবুকে টিজারটি শেয়ার করে শাহরুখ লিখেছেন—
    “Defamed in hundred countries.
    The world gave only one name— KING.
    It’s Showtime! In Cinemas 2026.”

    বাংলায় অর্থ দাঁড়ায়—
    “শত দেশে বদনাম আমার, তবু এক নামেই সবাই চেনে— ‘কিং’। সময় এসে গেছে, দেখা হবে ২০২৬ সালে প্রেক্ষাগৃহে।”

    টিজারের শুরুতেই শোনা যায় শাহরুখের সেই গভীর কণ্ঠ, “কতটা খুন করেছি মনে নাই। আমি ভালো লোক না খারাপ লোক— কখনও ভাবিনি।” এই এক সংলাপনেই যেন ফিরে এলেন ‘ডন’, ‘রইস’ আর ‘জওয়ান’-এর সেই কিংবদন্তি শাহরুখ।

    প্রথম লুকে শাহরুখকে দেখা গেছে একেবারে নতুন রূপে— সাদা চুল, ঘন দাড়ি আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে তিনি যেন বয়স নয়, বরং সময়কেও জয় করেছেন। তার চোখে-মুখে যেন ফুটে উঠেছে এক ভয়ংকর অথচ রাজকীয় চরিত্রের ছাপ।

    সিনেমাটি পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ, যিনি এর আগে ‘পাঠান’ ও ‘ওয়ার’-এর মতো ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছেন। জানা গেছে, ‘কিং’ হতে যাচ্ছে এক স্টাইলিশ অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে থাকবে রহস্য, রোমাঞ্চ ও রাজকীয় অ্যাটিটিউডের মিশেল।

    ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন, সুহানা খান ও অভয় ভার্মা। অভিষেককে দেখা যাবে মূল ভিলেনের চরিত্রে, আর আরশাদ ওয়ারসি থাকছেন বিশেষ ভূমিকায়।

    ২০২৬ সালে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘কিং’-এর টিজার ইতিমধ্যেই ভক্তদের হৃদয় জয় করেছে। এক ভক্ত লিখেছেন, “এটা প্রত্যাবর্তন নয়, এটা রাজত্বের ঘোষণা!” আরেকজন লিখেছেন, “SRK isn’t just the king — he’s the empire!”

  • তামান্নাকে নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাখি সাওয়ান্ত: “ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে!”

    তামান্নাকে নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাখি সাওয়ান্ত: “ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে!”

    এবিএনএ: বলিউডের ‘আইটেম গান’ ঘিরে বিতর্ক যেন কখনোই থামে না। এবার সেই বিতর্কে ফের আগুন জ্বালালেন বিতর্কিত নায়িকা রাখি সাওয়ান্ত। দক্ষিণী অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সাম্প্রতিক সিরিজ দ্য ব্যাডস অফ বলিউড-এর আইটেম ডান্স নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাখি।

    রাখির দাবি, “আমাদের সময়ে আইটেম গানের মধ্যে ছিল এক অন্যরকম জাদু, এক রোমাঞ্চ। এখনকার নাচে সেই আত্মা নেই।” তিনি আরও বলেন, “আজ যারা আইটেম গানের নাচ করছে, তারা একসময় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখত। এখন আমাদের জায়গা দখল করতে ওরা আমাদের পেটে লাথি মারছে।”

    তামান্না ভাটিয়া, নোরা ফাতেহি, ক্যাটরিনা কাইফ, দীপিকা পাড়ুকোন থেকে শুরু করে রাশমিকা মন্দানা—সবাই এখন এই ধারার গানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। সম্প্রতি ‘আজ কি রাত’ গানে তামান্নার সাহসী ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা আলোচনায় এসেছে। কিন্তু রাখির মতে, এই নাচের মাঝে নেই আগের সেই আবেদন ও স্বকীয়তা।

    রাখি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের কাছ থেকেই তারা আইটেম গানের নাচ শিখেছে। আজ তারা আমাদের ছাপিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আসল আইটেম গার্ল আমি ছিলাম, আমি আছি, আর আমিই থাকব।”

    তামান্না বনাম রাখির এই দ্বন্দ্ব এখন বলিউডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কেউ রাখির মন্তব্যকে অতীতের হাহাকার বলে ব্যাখ্যা করছেন, আবার অনেকে বলছেন—আইটেম ডান্সে রাখিই ছিলেন সত্যিকারের ‘কুইন’।

  • স্বজনপ্রীতির জবাবে সোনাক্ষী সিনহার তীর্যক হাসি, ব্যঙ্গাত্মক বিজ্ঞাপনে মাত বলিউড

    স্বজনপ্রীতির জবাবে সোনাক্ষী সিনহার তীর্যক হাসি, ব্যঙ্গাত্মক বিজ্ঞাপনে মাত বলিউড

    এবিএনএ:  বিয়ের পর অনেকটাই সংযত হয়ে উঠেছেন বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। ব্যক্তিজীবনের নানা গুঞ্জন বা বিতর্কে নীরবতা বজায় রাখলেও, নিজের প্রতি করা সমালোচনার জবাবে এবার মুখ খুললেন তিনি। বলিউডে স্বজনপ্রীতি বা ‘নেপোটিজম’ বিতর্কে সমালোচকদের জবাব দিতে অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন শত্রুঘ্নু সিনহার কন্যা।

    ভারতের সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, ধনতেরাস উপলক্ষে এক অনলাইন শপিং সাইটের বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন সোনাক্ষী। সেখানে তাকে দেখা যায়, গর্ভকাল থেকেই মুখে ‘সোনার চামচ’ নিয়ে জন্মাতে। শৈশব থেকে সেই সোনার চামচকেই যত্ন করে মুছে রাখতে দেখা যায় তাকে। এমনকি, সেই চামচ মুখে নিয়েই নিজের বিখ্যাত সংলাপ বলেন— “থাপ্পড় সে ডর নেহি লাগতা সাহাব, প্যায়ার সে লগতা হ্যায়।”

    বিজ্ঞাপনটির প্রতিটি দৃশ্যেই স্পষ্টভাবে দেখা যায়, নেপোটিজম বিতর্ককে কৌতুকরসের মাধ্যমে ব্যঙ্গ করেছেন সোনাক্ষী। এক পর্যায়ে নিন্দুকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জন্মের সঙ্গে সোনার ভাগ্য মিলে গেছে, এবার আপনারা নিজেদেরটা দেখুন।”

    বিনোদন জগতে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই স্বজনপ্রীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। কঙ্গনা রনৌতসহ অনেক তারকাই বারবার এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন। তবে এবার সেই পুরনো বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন সোনাক্ষী, হাস্যরস ও আত্ম-বিদ্রুপের মাধ্যমে।

    দর্শক ও অনুরাগীদের মতে, এই বিজ্ঞাপনটি এক অনন্য মাস্টারস্ট্রোক—যেখানে আত্ম-সচেতনতা ও রসবোধের দারুণ মিশ্রণ ঘটিয়েছেন সোনাক্ষী।

  • ১৫ বছর পর প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে চুম্বন বিতর্কে মুখ খুললেন আন্নু কাপুর, জানালেন আসল ঘটনা

    ১৫ বছর পর প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে চুম্বন বিতর্কে মুখ খুললেন আন্নু কাপুর, জানালেন আসল ঘটনা

    এবিএনএ: বলিউডে ছোটখাটো ঘটনাও অনেক সময় বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। ঠিক তেমনই ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমা ঘিরে তৈরি হয়েছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও আন্নু কাপুরের মধ্যে তথাকথিত “চুম্বন বিতর্ক”। ১৫ বছর পর অবশেষে সেই ঘটনার আসল ব্যাখ্যা দিলেন আন্নু কাপুর নিজেই।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটির প্রচারণা চলাকালে আন্নু কাপুর এক মন্তব্যে জানান, প্রিয়াঙ্কা তাকে অন-স্ক্রিন চুমু দিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি নাকি “আকর্ষণীয় নন”। সেই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তখন এই মন্তব্যকে “অপ্রয়োজনীয় ও অস্বস্তিকর” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    দীর্ঘদিন পর এক সাক্ষাৎকারে আন্নু কাপুর জানান, আসলে বিষয়টি পুরোপুরি ভুলভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি ‘আইতরাজ’ সিনেমার সময় থেকেই প্রিয়াঙ্কাকে ‘বেটি’ বলে ডাকতাম। তার বাবা আশোক চোপড়ার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ‘সাত খুন মাফ’-এ যখন বিশাল ভরদ্বাজ আমাকে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের প্রস্তাব দেন, আমি বুঝেছিলাম প্রিয়াঙ্কা এতে অস্বস্তি পাবেন। তাই আমি নিজেই অনুরোধ করি সেই দৃশ্যটি বাদ দিতে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল পরিবারের মতো। আমার দায়িত্ব ছিল যেন সে সেটে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে। বিশাল প্রথমে দৃশ্যটি রাখতে চেয়েছিলেন, তবে পরে প্রিয়াঙ্কার অসুবিধার কথা ভেবে তা কেটে দেন।”

    ১৫ বছর পুরনো বিতর্কের সমাপ্তি টেনে আন্নু কাপুর বলেন, “প্রিয়াঙ্কা তখন একদম ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি তার প্রতি কোনো ক্ষোভ রাখিনি। এটি কেবল একটি দৃশ্য বাদ দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং একজন সহকর্মী নারী অভিনেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদাহরণ।”

    এই ব্যাখ্যার পর বলিউডের পুরনো এই বিতর্কের অবসান ঘটবে বলেই আশা করছেন ভক্তরা।

  • নেপোটিজমের সুবিধা পেয়েও কঠোর পরিশ্রমেই জায়গা দখল: খোলাখুলি বললেন রণবীর কাপুর

    নেপোটিজমের সুবিধা পেয়েও কঠোর পরিশ্রমেই জায়গা দখল: খোলাখুলি বললেন রণবীর কাপুর

    এবিএনএ: বলিউডে স্বজনপ্রীতি বা নেপোটিজম নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বহু তারকা এই প্রসঙ্গে নানা মন্তব্য করলেও, এবার খোলাখুলি স্বীকার করলেন অভিনেতা রণবীর কাপুর—তিনি নেপোটিজমের সুফল পেয়েছেন। তবে নিজের জায়গা তৈরি করতে যে লড়াই ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

    মুম্বাইয়ে হুইসেলিং উডস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘সেলিব্রেট সিনেমা ২০২৫’-এর এক সেশনে “রাজ কাপুর ও গুরু দত্তকে শ্রদ্ধা” শীর্ষক আলোচনায় রণবীর বলেন, “আমি নেপোটিজমের ফল, এটা আমি অস্বীকার করতে পারি না। জীবনের শুরুতে অনেক সুযোগ সহজে পেয়েছি। কিন্তু সফল হতে হলে নিজেকে প্রমাণ করতেই হয়েছে। পারিবারিক ঐতিহ্য যেমন গৌরবের, তেমনি ব্যর্থতার গল্পও সেখানে আছে।”

    রণবীর আরও বলেন, “আমি সাধারণ পরিবারের ছেলের মতোই বড় হয়েছি। আমার কাছে আমার পরিবার ছিল একদম স্বাভাবিক। বাড়িতে ঝগড়া হতো, তবে সেটা কোনও পারিবারিক বিষয় নয়—বরং সিনেমার দৃশ্য বা গানের কথা নিয়ে আলোচনা ছিল বেশি।”

    প্রায় দুই দশকের চলচ্চিত্রজীবনে রণবীর কাপুর আজ বলিউডের অন্যতম সফল তারকা। কিংবদন্তি ঋষি কাপুর ও নিতু কাপুরের সন্তান এবং রাজ কাপুরের নাতি হওয়া সত্ত্বেও, নিজের অভিনয় দক্ষতায় অর্জন করেছেন আলাদা পরিচিতি।

    রণবীরকে সর্বশেষ দেখা গেছে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘অ্যানিমেল’ ছবিতে। বর্তমানে তিনি সঞ্জয় লীলা বনশালীর পরিচালনায় ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমার কাজ করছেন, যেখানে তার সঙ্গে আছেন আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশল। এছাড়া নিতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় ‘রামায়ণ’ সিনেমাতেও দেখা যাবে তাকে।

  • ৬০ কোটি রুপির জালিয়াতি মামলায় শিল্পা শেঠির জিজ্ঞাসাবাদ, রাজ কুন্দ্রাকেও তলবের প্রস্তুতি

    ৬০ কোটি রুপির জালিয়াতি মামলায় শিল্পা শেঠির জিজ্ঞাসাবাদ, রাজ কুন্দ্রাকেও তলবের প্রস্তুতি

    এবিএনএ: ৬০ কোটি রুপির প্রতারণা মামলায় বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিকে দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বাই পুলিশের ইকনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)। মামলাটির তদন্ত চলছে এবং এতে তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রাও অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে।

    মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিল্পার জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি তদন্তকারীদের হাতে নিজের বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যাংক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে সেই নথিগুলো যাচাই করছে।

    EOW–এর একজন কর্মকর্তা জানান, শিল্পার বাড়িতেই তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ নেওয়া হয়। পুলিশ জানতে চায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রতারণার অর্থ প্রবাহিত হয়েছে কি না, অথবা ব্যবসায়িক চুক্তির আড়ালে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না।

    এর আগে, একই মামলায় শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রার জবানবন্দি রেকর্ড করে মুম্বাই পুলিশ। তবে কিছু প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকায় তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

    অভিযোগকারী ব্যবসায়ী দীপক কোঠারি জানান, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের নাম করে শিল্পা ও রাজ তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৬০ কোটির বেশি রুপি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। রাজ দাবি করেন, সেই অর্থের একটি অংশ অভিনেত্রী বিপাশা বসুনেহা ধুপিয়াকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

    তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত সংস্থার ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি কয়েকজন বলিউড অভিনেত্রীর অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ মিলেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পা শেঠি, বিপাশা বসু ও নেহা ধুপিয়া। এছাড়াও কিছু লেনদেনের সূত্র পাওয়া গেছে বালাজি এন্টারটেইনমেন্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে

    তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই মামলাটি বলিউডের অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেনের জাল উন্মোচন করতে পারে। শিল্পা ও রাজ কুন্দ্রার পর আরও কয়েকজন তারকাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

  • সঞ্জয় দত্তের গ্রেপ্তারেই কি ভেঙে যায় প্রেম? মাধুরীর নীরব সিদ্ধান্তের পেছনের অজানা গল্প

    সঞ্জয় দত্তের গ্রেপ্তারেই কি ভেঙে যায় প্রেম? মাধুরীর নীরব সিদ্ধান্তের পেছনের অজানা গল্প

    এবিএনএ: বলিউডের নব্বইয়ের দশকে সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিতের নাম ছিল রোমান্সের প্রতীক। ‘সাজন’, ‘খলনায়ক’, ‘থানেদার’ কিংবা ‘সাহিবান’—প্রতিটি ছবিতেই তাঁদের জুটি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব জীবনের গল্পটা সিনেমার মতো সুখের পরিণতি পায়নি।

    ১৯৯৩ সালের মুম্বাই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সঞ্জয় দত্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পর হঠাৎ করেই মাধুরী দূরে সরে যান তাঁর কাছ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সম্প্রতি চলচ্চিত্র সাংবাদিক হানিফ জাভেরি এক সাক্ষাৎকারে এই বিচ্ছেদের অন্তরালের কারণ তুলে ধরেন।

    তিনি জানান, সঞ্জয় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ‘মহান্তা’ ছবির পরিচালক আফজাল খান একটি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সেখানে পুরো টিমকে একত্র করার কথা ছিল, বিশেষ করে মঞ্চে সঞ্জয় ও মাধুরীকে একসঙ্গে দেখা যাবে—এমনটাই আশা ছিল সবার। কিন্তু মাধুরী সেখানে উপস্থিত হয়েও মঞ্চে না গিয়ে চুপচাপ সরে পড়েন।

    জাভেরির ভাষায়, “মাধুরী বুঝেছিলেন সঞ্জয় মঞ্চে বসে আছেন। কিন্তু তিনি স্পষ্টতই অস্বস্তি বোধ করছিলেন। ফটোগ্রাফাররা তাঁদের একসঙ্গে ছবি তুলতে চাইলেও মাধুরী রাজি হননি। তখনই বোঝা যায়, তিনি চান না সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর কোনো ছবি প্রকাশ পাক।”

    সাংবাদিকের দাবি, একসময় মাধুরীর মা স্নেহলতা দীক্ষিত মেয়ের বিয়ের কথাও ভাবছিলেন সঞ্জয়ের সঙ্গে। কিন্তু মামলার জেরে মাধুরী নাকি ভয় পেয়েছিলেন—তাকেও হয়তো তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সেই আশঙ্কায়ই তিনি সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি সরে যান।

    পরে ১৯৯৯ সালে মাধুরী যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক শ্রীরাম নেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই ছেলে—আরিন ও রায়ান। অন্যদিকে সঞ্জয় দত্ত তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন; বর্তমানে তিনি মান্যতা দত্তের সঙ্গে সংসার করছেন এবং তাঁদের যমজ সন্তান শাহরান ও ইকরা।

    দীর্ঘ বিরতির পর দু’জনকে আবার একসঙ্গে দেখা যায় ২০১৯ সালে অভিষেক বর্মণ পরিচালিত ‘কলঙ্ক’ ছবিতে। যদিও তখন আর আগের রোমান্সের ছোঁয়া ছিল না, তবু দর্শকরা তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।