Tag: বন্দর উন্নয়ন

  • ১৮০ দিনে বদলে যাবে মোংলা বন্দর! নৌ পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার আলো

    ১৮০ দিনে বদলে যাবে মোংলা বন্দর! নৌ পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার আলো

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ১৮০ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার শনিবার মোংলা বন্দর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু কাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দর খুব অল্প সময়েই কার্যকারিতা ও সক্ষমতায় চট্টগ্রাম বন্দর–এর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট যেসব উন্নয়ন চুক্তি স্থগিত বা বাতিল হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চুক্তিগুলো নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে; তবে যেসব চুক্তিতে দেশের ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো পুনরায় করার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচিত হবে।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • অভূতপূর্ব সাফল্যে মোংলা বন্দর: ৭ মাসেই রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

    অভূতপূর্ব সাফল্যে মোংলা বন্দর: ৭ মাসেই রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নজির গড়েছে মোংলা বন্দর। জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬—এই সময়ে ৩১টি বিদেশি কন্টেইনারবাহী জাহাজ আগমনের মাধ্যমে মোট ২১ হাজার ৬৫১ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। লক্ষণীয়ভাবে, গত পুরো অর্থবছরে যে পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল, চলতি বছরে সাত মাসেই তা অতিক্রম করা হয়েছে।

    বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, এই সাত মাসে মোট ৫১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৪০৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

    বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়াতে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় HP-1, HP-2 ও HP-3 নামে তিনটি নতুন অপারেশনাল অ্যাঙ্কর বার্থ চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এসব বার্থে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে কার্গো অপারেশন সম্পন্ন করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.০০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এসব বার্থে নিয়মিতভাবে পণ্য ওঠানামা করতে পারবে।

    বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈলবীজ, এলপিজি, যন্ত্রপাতি ও অটোমোবাইলসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড়সহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, অবকাঠামো ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বাকি পাঁচ মাসে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

  • মোংলা সমুদ্র বন্দরে নতুন দিগন্ত: ৯ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

    মোংলা সমুদ্র বন্দরে নতুন দিগন্ত: ৯ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

    মাসুদ রানা,মোংলা,এবিএনএ: মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছে বর্তমান সরকার। বন্দরকে আধুনিক ও বিশ্বমানের নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রে রুপান্তিত করতে গ্রহন করা হয়েছে ৯টি বড় মেঘা প্রকল্প।

    তা থেকে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, এরই মধ্যে নতুন করে ২টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আরো ৩টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের বহুমুখী টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজে আসবে। ব্যাবসাযীদের হবে লাভজনক ও ব্যাবসা বান্ধব প্রতিষ্ঠান, রাজস্ব আয় দিয়ে জাতীয় অর্তনীতিতেও আঞ্চলিক কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা, এ বন্দরকে আধুনিকায়ন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৫ হাজার ৬০৬ কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয় এবং বন্দরের চ্যানেল সংরক্ষন ড্রেজিং নামের ২টি মেঘা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্প দুটি শেষ হলে পন্য খালা-বোঝাই ও সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটারে জাহাজ বন্দর চ্যানেল দিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারবে অনায়াসে। ফলে এক কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য আমদানী-রফতানী ও চার লক্ষ টিইউজ কওেন্টইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া পূর্বের গ্রহন করা ৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যায় মোংলা বন্দরের সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলে ইনারবার ড্রেজিং, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট ও ২টি অসম্পুর্ন জেটি নির্মান নামে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বন্দরকে আরো গতিশীল করতে নতুন করে ৩টি বড় প্রকল্প একনেকে অনুমমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে “পশুর চ্যানেল শাসন ও সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষা”, “ট্রেলিং সাকশন হপার ও কাটার সাকশন ৩টি ড্রেজার ক্রয়” ও উন্নয়ন সেবা সহায়ক ২টি মুরিং বোট সংগ্রহ করা” প্রকল্প।

    প্রকল্পগুলো শেষ হলে চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষা, পন্য বোঝাই জাহাজ দ্রæত ভিরানো ও ত্যাগ করা, বন্দরের কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, ষ্টিভিডরস ও শ্রেমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশী অন্যা বন্দরগুলো সাথে প্রতিযোগীতা মুলক বন্দর, আধুনিক ও বিশ্বমানের নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রে রুপান্তিত হবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য অর্থ ও পরিচালক প্রশাসন-(উপ সচিব) কাজী আবেদ হোসেন বলেণ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জাহাজ ও আশপাশের শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য পরিবেশবান্ধব উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। এটি সমুদ্রদূষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ‘মারপল কনভেনশন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেলকে দূষণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। বাকি চারটি প্রকল্পের নির্মাণকাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। চলমান এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জরুরি সেবা ও কার্যকর পরিচালনার জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলের ‘ইনার বার’ এলাকায় ৮.৫ মিটার গভীরতা অর্জনের লক্ষ্যে ড্রেজিং করা, যাতে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজগুলো ওই চ্যানেল দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে। তিনি আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো ববস্তবায়নের পর জেটিতে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০টি জাহাজের পন্য হ্যান্ডিলিং করা সম্ভব হবে। ফলে জাহাজের পন্য খালাস-বোঝাই সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।

    বন্দর সুত্রে জানায়, বর্তমানে মোংলা বন্দরে জাহাজজট নেই। ফলে বন্দর ব্যবহারকারীরা ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, সাতটি কনটেইনার ইয়ার্ড। এছাড়া ৩৮টি সহায়ক জলযান (যেমন-টাগবোট,পাইলট বোট, সার্ভে বোট, ড্রেজার) রয়েছে। আন্তর্জাতিক ‘শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস)’কোড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল এবং সহজলভ্য সড়ক, রেল ও নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের ব্যাপক সুযোগও রয়েছে মোংলা বন্দরে। বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক সক্ষমতা হলো ১,৫০০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং, এক কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন কার্গো, ১ লাখ টিইইউ কনটেইনার এবং ২০ হাজার গাড়ি হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা রয়েছে মোংলা বন্দরে।

    এছাড়া জেটিতে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানোর সক্ষমতা, ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলে পানির ওপরে ভাসমান নৌযান সংকেত যন্ত্র ও টাওয়ার দিয়ে রাত-দিন নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, বিদেশি জাহাজের জন্য ৪৯টি নির্ধারিত বার্থিং পয়েন্ট, ১৩৪টি আধুনিক কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্র, নিরাপদ সংরক্ষণ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে, যার আওতায় অনুমতি, বিল, ইনডেন্টিং, যন্ত্রপাতি বুকিং ও পেমেন্ট একই জায়গায় করতে পারছে ব্যাবসাযীরা।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে মোংলা বন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে নেপাল, ভুটান, চীন ও ভারতের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর আগ্রহের কারণে বন্দরের ওপর চাপ বাড়ছে। এজন্য এর সসম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের গ্রহন করা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে মোংলা বন্দর হবে বিশ্বের বানিজ্যিক বাজারে পরিবেশ বান্ধব ও অন্য বন্দরের সাথে প্রতিযোগীতা মুলক সমুদ্র বন্দন।

    নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একশ ১৪ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যায় ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন, যা উদ্ভাদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

     

  • জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন

    জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন

    এবিএনএ, মোংলা : বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর তার ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) ১ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছে। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর চালনা পোর্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরটি ৭৫ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    রাত ১২টা ১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব জাহাজে এক মিনিট ধরে হুইসেল বাজিয়ে প্লাটিনাম জয়ন্তীর শুভ সূচনা করা হয়। পরে বন্দর সদর দপ্তর থেকে জেটির প্রধান ফটক পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমানসহ বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা।

    বন্দরের কৃতিত্বপূর্ণ কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বন্দর ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ জাহাজ কয়লা, সার, কন্টেইনার, গাড়ি এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনকারীরা।

    চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ মোংলা বন্দর।” তিনি জানান, বর্তমানে বন্দর থেকে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, মেশিনারিজ, কয়লা, তেল, এলপিজি গ্যাসসহ নানা পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হচ্ছে।

    এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় বন্দর এলাকায় Port Reception Facility (PRF) প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো তেলবাহী জাহাজ থেকে দুর্ঘটনাবশত পানিতে তেল নিঃসরণ হলে তা দ্রুত সংগ্রহ করে নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে।

    তিনি জানান, বন্দরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং নতুন কিছু প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বন্দর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আরও বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • মোংলা বন্দরে নজিরবিহীন সাফল্য, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধি

    মোংলা বন্দরে নজিরবিহীন সাফল্য, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রত্যেকটি সূচকে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। রাজস্ব আয়, জাহাজ আগমন, কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং— সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি টাকায়, যা পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০৩ শতাংশ বেশি

    বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, প্রধান হিসাব কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, ট্রাফিক পরিচালক মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    🔷 লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পারফরম্যান্স

    সর্বশেষ অর্থবছরে ৮৩০টি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসেছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০টি। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০৪.১২ লাখ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন বেশি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৪৫৬ টিইইউ, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০,০০০।

    রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যেখানে আয় হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। নিট মুনাফা হয়েছে ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা পূর্বের লক্ষ্যমাত্রা ২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চেয়ে প্রায় তিন গুণ।

    🔷 সুবিধা ও সম্ভাবনার বিস্তারিত

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মোংলা বন্দরে নেই কোনো জাহাজ জট। কন্টেইনার খালাসে টার্ন এরাউন্ড টাইম মাত্র ১.৬৬ দিন বা ৪০ ঘণ্টা। রয়েছে ৭টি কন্টেইনার ইয়ার্ড, ৩৮টি সহায়ক জলযান, ১৩৪টি আধুনিক মেশিন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, উন্নত নিরাপত্তা ও ন্যাভিগেশন সুবিধা।

    বন্দর দিয়ে বর্তমানে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে:
    খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, গ্যাস, সয়াবিন তেল, জ্বালানী তেল, কয়লা, কাঠ, ক্লিংকার, লোহার পাইপ ইত্যাদি।

    রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
    গার্মেন্টস, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, কাঁকড়া, ক্লে, শুকনা মাছ ও মেশিনারি যন্ত্রাংশ।

    🔷 উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে জেটি নির্মাণ, ইনারবার ড্রেজিং, চ্যানেল ন্যাভিগেশন ইত্যাদি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে জানান কাজী আবেদ হোসেন

    বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারের নির্দেশনা ও চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের নেতৃত্বে বন্দরের ব্যবস্থাপনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দর ব্যবহারকারী ও আয়ের পরিমাণ দুই-ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।