Tag: বনদস্যু

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্য আটক।

    মঙ্গলবার ১০ মার্চ  বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সদস্য রসদ সরবরাহের নিমিত্তে সুন্দরবনে গমন করবে।  তথ্যের ভিত্তিতে  ১০ মার্চ  মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক দাকোপ থানাধীন শিবসা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহকারী আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়।

    পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতের তথ্যের ভিত্তিতে, আজ দুপুর ১টায় দাকোপ থানাধীন টাকাতোলা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত আব্দুল হালিম (৩৬) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ দয়াল বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সুন্দরবনে থামছেনা বনদস্যুদের হাতে জেলে অপহরণ। বুধবার রাতে আরো দুই জেলেকে অপহরণন করেছে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা। শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়–য়াগাং এলাকায় বনদস্যুরা এই ৩ জেলেকে অপহৃত হয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে।

    তারা হলেন, রায়হান (২২) ও সুমন (২৪) এদের বাড়ী বাগেরহাটের শরণখোলার শরণখোলা গ্রামে। অপরদিকে,অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুইমহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।

    সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডে নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে।

    সুন্দরবনের শুটকি জেলে পল্লী শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইল ফোনে এতথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিন পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে ও বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল। এদেও মধ্যে মুক্তি পাওয়া ১৪ জেলে রয়েছে।

    এদিকে শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে গতকাল শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

  • সুন্দরবনের দস্যু অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনের দস্যু অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,মাসুদ রানা,মোংলা: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্য আটক।

    মঙ্গলবার ৩ মার্চ  দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোস্ট গার্ড সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে কোস্ট গার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরম্ভ করেছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ৩ মার্চ  মঙ্গলবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, আউটপোস্ট নলিয়ান, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের সমন্বয়ে কয়রা থানাধীন নারায়নপুর এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আফজাল সরদার (৩২) কে আটক করা হয়।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  তথ্যের ভিত্তিতে, সকাল ১১টায় মোংলা থানাধীন পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি শট গান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়।

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু হলে উক্ত ডাকাত সদস্য আতঙ্কিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহ উক্ত এলাকায় পুঁতে রেখে কয়রার নারায়ণপুর এলাকায় আত্মগোপন করে বলে জানা যায়।

    আটককৃত ডাকাত আফজাল সরদার (৩২) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো। উল্লেখ্য  আটক  ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

    আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্টগার্ড আরো বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: গভীর অরণ্যে টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: গভীর অরণ্যে টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ:  সুন্দরবনে বনদস্যুতা দমনে চলছে কম্বিং অপারেশন। এ অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ অংশ নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান (কম্বিং অপারেশন) সুন্দরবন বনদস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। তবে, অভিযান চললেও অপহরণের দশ দিন পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। এসব জেলেরা কি অবস্থায় তারও সঠিক তথ্য জানতে পারেননি মহাজন ও তাদের পরিবার।
    মহাজনরা জানিয়েছেন, জিম্মি জেলেদের মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা করে দাবি করেছে বনদস্যুরা। দস্যুদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মিদের ভাগ্যে করুণ পরিনতি নেমে আসবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রচন্ড চাপ ও শঙ্কায় পড়েছেন মহাজনরা।

     

    সোমবার (১৬ ফেব্রæয়ারি) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মৎস্য আহরণকালে ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বন ও জলদস্যু সুমন এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীর শসস্ত্র দস্যুরা। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি উৎপাদন পল্লীর আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে।

    অপহৃত জেলেরা হলেন, হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    গত দেড় বছরে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনীর উত্থান ঘটেছে। সুন্দরবন হয়ে ওঠে এসব দস্যু বাহিনী নিরাপদ আশ্রয় স্থল। সম্প্রতি এসব বন ও জলদস্যু বাহিনীর দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে জেলে ও ব্যবসায়ীরা। উদ্বেগ দেখা দেয় বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রæয়ারি) সকাল থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান (কম্বিং অপারেশন)। এ অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে রয়েছে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। এক সাথে ২০ জেলে অপহরণ এবং সম্প্রতি সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জেলে অপহরণ ও নির্যাতনের মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নড়েচড়ে বসে প্রশসান। যে কোনোভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ঘোষনা দেয় সরকার।

    একপর্যায়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউসে জরুরী বৈঠক করেন সরকারের পরিবশে, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়।

    কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জেলে-মহাজনরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিষয়টি খোদ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দেয়। সরকারের নির্দেশে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে য্যেথ অভিযান শুরু হয়েছে। দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

    সুন্দরবনের দুবলরা চরের শুঁটকি পল্লীর মহাজন মোতাসিম ফরাজী, জাকির শেখ, আব্দুর রউফ মেম্বর ও পঙ্কজ বিশ^াস জানান, দস্যুদের কারণে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র দিনের বেলা মাছ ধরছেন জেলেরা। ২০ জেলের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুনেছি যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযানের কোনো সুফল দেখছিনা।

    অপরদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বলেন, ৫আগস্টে পট পরিবর্তনের পর সুন্দরবনে দস্যুদের আধিপত্য বেড়ে গেছে। সুন্দরবন সেই পূর্বের ভয়াবহ অবস্থায় ফিরেছে। বনজীবীরা বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও আছেন আতঙ্কে। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। চলমান যৌথ অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাক ঢোল পিটিয়ে দস্যু দমন করা যায় না। বর্তমানে যেভাবে যৌথ অভিযান চলছে তাতে শুধু মহড়াই মনে হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দস্যু নির্মুল করতে হলে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। এভাবে হুইসেল বাজিয়ে শুটিং করে কোনো কাজ হবে বলে মনে হয় না। পূর্বে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল সেই পদ্ধতিতে অভিযান পরিচলনা করলে সফলতা আসতে পারে।

    দুবলা ফিমারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন আবারও দস্যুদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে। এমের নির্মুল করতে না পারলে মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত জেলেদের অপহরণ করছে দস্যুরা। এখনো দস্যুদের কাছে ২০ তেকে ২২জন জেলে বন্দি রয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গোপনে ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযান পরিচালনা করলে তা সফল হবে। মহড়া দিয়ে অভিযান করলে দস্যুরা সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আরো শক্তি সঞ্চয় করে পরবর্তীতে তাদের অপতৎপরতা চালাতে পারে।

    সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। দস্যুদমনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। স্বরাস্ট্র মন্ত্রী এব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ: সুন্দরবন জুড়ে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে সাগর ও নদীঘেঁষা জনপদে জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের দাবিতে নিপীড়নের খবরে গত কয়েক দিনে বহু জেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রাণভয়ে সাগরে নামা বন্ধ করায় উপকূলজুড়ে কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা ঘাটে নোঙর করে আছে। স্থানীয় মহাজনদের দাবি, এতে শেষ মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যু দমনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বনের ভেতরে বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু হয়েছে। দুবলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ দুর্গম খাল ও চ্যানেলে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার বা দস্যু আটক সম্ভব না হলেও অভিযান থামছে না। অপহৃতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং বনাঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করাই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    জেলে প্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্ধার ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাগরে নামতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

  • বনদস্যুদের তান্ডবে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ দুবলা শুঁটকি পল্লীর ১৫ হাজার জেলের

    বনদস্যুদের তান্ডবে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ দুবলা শুঁটকি পল্লীর ১৫ হাজার জেলের

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বনদস্যু আতংকে দেশের সর্ববৃহত শুটকি পল্লী সুন্দরবনের দুবলার ১৫ হাজার জেলে। মুক্তিপনের দাবিতে দু’দিন আগে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলের কোন সন্ধ্যান না মেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে শুটকি পল্লীতে অবস্থান নিয়েছে এসব জেলেরা। এদিকে মাছ ধরাব ন্ধ থাকায় বন বিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশংকায় রয়েছেন বন বিভাগ। সুন্দরবন বিভাগ ও দুবলার ফিসারম্যান গ্রæপ এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

    দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার (১৮ ফেব্রæয়ারী) বিকালে দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রæপ সক্রিয় রয়েছে। এসব বনদস্যু বাহিনীর কারনে বনদস্যুদের সুন্দরবন ও সাগরে এখন জেলেদের কোন নিরাপত্তা নেই। প্রতিনিয়ত এখন মুক্তিপনের দাবিতে বনদস্যুদের হাতে জেলেরা আপহৃত হচ্ছে। সর্বশেষ দু’দিন আগে সাগরের সুন্দরবন উপকূলের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার সাগরের খাড়ি এলাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলের কোন সন্ধ্যান না মেলেনি। এই অবস্থায় অপহরণ আতংকে দুবলার শুঁটকি পল্লীর ১৫ হাজার জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রæয়ারী) সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন শুঁটকি পল্লীর চরে অলস সময় কাটাচ্ছে। শুঁটকি আহরণ মৌসুমের প্রায় সময়ে এসে তারা কি নিয়ে বাড়ি যাবেন সে চিন্তায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শুঁটকি আহরণ মৌসুমের প্রায় সময়ে এসে বনদস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায়র করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেনা তাদের বেদম মারধর করছে বনদস্যুরা। গত সপ্তাহে বনদস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইন শৃংখলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোন তৎপরতানা থাকায় বনদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০১৮ সালে র‌্যাবের কাছে স্ বনদস্যু বাহিনীর আত্মসর্মাপনের পর তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। ৫২০২৪ সালের আগষ্ট পর্যন্ত জেলেরা বঙ্গোপসাগর ও সন্দিরবনের নদীতে নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। ড. ইউনুসের অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে বনদস্যরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে বলে জানান দুবলা ফিসারম্যান গ্রæপের সভাপতি।

    সুন্দরবনের আলোরকোলের শুঁটকি পল্লীর রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী জানান, আগে প্রবাদ ছিলো ‘ সুন্দরবনে জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ- এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে বনদস্যুতা’। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বনদস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করতে হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে বনদস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এখন বনদস্যুদের কব্জায় কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে । গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় বনদস্যুরা তাদের মুক্তিপন দিতে তাদেও সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও দিয়ে গেছে।

    সুন্দরবনের শুঁটকি জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতংকে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় বন বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশংকা রয়েছে। বনদস্যু আতংকে জেলের সুন্দরবনে মাছ ধরার পাসপারমিটও নিচ্ছেন না যে কারনে বন বিভাগের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধররের প্রভাব পড়ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা,আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ মুদি দোকানীরা জানান, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়েগেছে।

    সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জকর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ, মো.শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দস্যুরা বেপরোয়া হওয়ায় জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে।

    পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সেমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জেলেকে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন, হরিদাস বিশ্বাস (৫০),গোপাল বিশ্বাস (৪৫),রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস(৩৫),তুষার বিশ্বাস(৪০),মনিরুল বিশ্বাস (৪৮), ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। এদের বাড়ী খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
    এ ছাড়া সোমবার দিবাগত রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমনজাহাঙ্গীর বাহিনী হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোলের ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। অপহৃত জেলেরা হচ্ছে, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস,শিবপদ বিশ্বাস,রশিদ সরদার,প্রকাশ বিশ্বাস,ইয়াসিন মোড়ল,শিমুল,রুপ কুমার বিশ্বাস,গণেশ বিশ্বাস,উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এ সকল জেলেদের বাড়ী পাইকগাছা,কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে । দস্যুদের দমন করা না গেলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন বলে কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • সুন্দরবনের বনদস্যু ও জলদস্যু দমন হবে আমার প্রথম কাজ: সোমনাথ দে

    সুন্দরবনের বনদস্যু ও জলদস্যু দমন হবে আমার প্রথম কাজ: সোমনাথ দে

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা, বাগেরহাট: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা  বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে ধানের শীষের পক্ষে  নির্বাচনী  জনসভা সভা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪ টায়  উপজেলার রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে  হাজার নেতা কর্মী নির্বাচনী  মিছিলসহ  জনসভায় মিলিত হয়।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সোমনাথ দে। তিনি বলেন, আপনারা আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে আমি  এমপি নির্বাচিত হয়ে সুন্দরবন থেকে বনদস্যু, জলদস্যু দমন সহ সুন্দরবনের জেলেদের ও বাওয়ালিদের কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন এই এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ঘের দখল ইত্যাদি দূর করার চেষ্টা করব। এ সময বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খান মতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা আলো, শরণখোলা  উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ইসাহাক আলী।

    এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল , বিএনপি নেতা তালুকদার মধু, শহিদুল আলম লিটন, অহিদুজ্জামান বাবু ,  উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোল্লা ইব্রাহিম,সদস্য সচিব আল- আমিন খান , যুবদল নেতা আবুল হোসেন, শহিদুল  ইসলাম সোহাগ , মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মামুন গাজী ও শামীম শিকদার।

  • সুন্দরবনে আতঙ্ক: জেলেদের নৌকায় হানা, দুই জেলেকে তুলে নিলো জাহাঙ্গীর বাহিনী

    সুন্দরবনে আতঙ্ক: জেলেদের নৌকায় হানা, দুই জেলেকে তুলে নিলো জাহাঙ্গীর বাহিনী

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা (বাগেরহাট): পূর্ব সুন্দরবনের টিয়ারচর এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী দুই জেলেকে অপহরণ করেছে। শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শেলারচর থেকে অপহৃত জেলেদের মহাজন মোঃ মিজান বহদ্দার রবিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, শনিবার (১০ জানুয়ারী) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরবনের টিয়ারচর এলাকায় নদীতে মাছ ধরারত অবস্থায় তার জেলেদের নৌকায় চড়াও হয় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। তার দুই জন জেলেকে দস্যুরা তাদের ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়। দস্যুরা মুক্তিপণের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য অন্য জেলেদের কাছে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন,সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার খাজুরা এলাকার আবু হানিফ (৩২) ও খায়রুল ইসলাম (৩০)। জেলে অপহরণের ঘটনায় শেলারচরের জেলেদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে বলে মিজান বহদ্দার জানিয়েছেন।

    শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী খুলনার আরিফ হোসেন মিঠু জানান, গোটা সুন্দরবনে বনদস্যুদের তান্ডবে এখন জেলে মৎস্যজীবিরা দিশেহারা। দস্যুদের নীরবে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা দিয়ে জেলেদের মাছ ধরতে হচ্ছে। দস্যুদের আগে টাকা না দিলে জেলেদের অপহরণ করছে দস্যুরা। এমন কি গত মাসে তার ৪ জন জেলেকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর বাহিনী। দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তার জেলেদের মুক্ত করে এনেছেন জানিয়ে ব্যবসায়ী মিঠু সুন্দরবনে দস্যু দমনে র‍্যাব ও কোষ্টগার্ডের অভিযান জোরদারের দাবী জানিয়েছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শেলারচর ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার আঃ সবুর টিয়ারচরে দুই জেলেকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের নবাগত রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম টিয়ারচরে জেলে অপহরণের বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।