Tag: বনদস্যু

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    এবিএনএ: সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে এই সাফল্য আসে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রবিবার ভোর চারটার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক দুই ডাকাত হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

    অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কবল থেকে চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    এদিকে জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪ অপহৃত জেলে

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪ অপহৃত জেলে

    এবিএনএ: বাগেরহাটের সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দস্যুদের কবল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি দস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি বন্দুক ও এক রাউন্ড গুলিও জব্দ করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের দাবি, অভিযানের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যায় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে রেখে যায়।

    উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান, একই এলাকার মো. হাসান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম এবং দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথভাবে সিঙারটেক এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিল। এ সময় বনদস্যুদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান চালানো হয়। বনকর্মীদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুরা প্রথমে গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালায়।

    তিনি আরও জানান, বনরক্ষীরা দস্যুদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের হাত-পা বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

    বর্তমানে উদ্ধার হওয়া জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বন বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনায় জড়িত দস্যুরা কুখ্যাত শরীফ বাহিনীর সদস্য। সুন্দরবনে দস্যু দমনে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    মাসুদ রানা,মোংলা: অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড এ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

    মঙ্গলবার ১২ মে  সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এছাড়া কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (সদর দপ্তর মোংলায় ) ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ব্রিফিং প্রদান করেন  লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ,(এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌহিদ।

    মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” -এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। প গোপন তথ্যের ভিত্তিতে,  ১২ মে  মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ২ টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ আটক করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক ফের চরমে: ১০ জেলে অপহৃত, দুই দিনেও নেই উদ্ধার—পরিবারে উৎকণ্ঠা

    সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক ফের চরমে: ১০ জেলে অপহৃত, দুই দিনেও নেই উদ্ধার—পরিবারে উৎকণ্ঠা

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের দস্যুমুক্ত ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুর্র্ধষ বনদস্যুর প্রায় ৮/১০টি বাহিনী। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে অপহৃত ১০ জেলের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও বনের গহীন অঞ্চলে জিম্মি থাকা এসব জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য আসেনি।

    এদিকে বনদস্যু ‘করিম শরীফ বাহিনী’ অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা।

    বন বিভাগ ও স্থানীয় জেলেদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার রাতে পুর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা স্টেশনের আওতাধীন বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে একদল জেলে নৌকায় করে মাছ ধরছিলেন। এসময় প্রায় ১৫-২০ জন জেলের একটি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে এবং মারধর করে তাদের কাছে থাকা মালামাল লুটে নেয়। একপর্যায়ে ১০ জেলেকে অপহরণ করে বনের গহীন অন্ধকারে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায় তারা।

    অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তারা হলেন, নাসির শেখ’র ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল শিকদার ও ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি ৫ জেলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাদরে নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রিয়জনের এমন নিখোঁজ সংবাদে ওই পরিবারগুলোর মাঝে এখন চলছে চরম আতংঙ্ক।

    অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দস্যুরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দাবী করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে জেলেদের মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বনের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জেলে প্রাণের ভয়ে বন ছেড়ে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন, যার ফলে উপকূলীয় মৎস্য আহরণ খাতে বড় ধরণের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তারা বনের বিভিন্ন সম্ভাব্য পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ এবং দস্যুদের ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাদঁপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারাও কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বিতভাবে যোগাযোগ করছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এক সময় র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সাড়াসি অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর প্রশাসনের টহল বা তৎপরতা কিছুটা শিথিলতার সুযোগে সুন্দরবনের পুনরায় নতুন নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ জেলেদের জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিত করতে পুনরায় ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সুন্দরবনের এই অপহরণ কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। যদি দ্রæততম সময়ে এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করা না যায় এবং দস্যু দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বনজীবী সাধারণ মানুষের মাঝে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ,মোংলা : বনদস্যু শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে অন্তত ১০ জেলেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করছে।

    এর মধ্যে ৫ জন বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকিরা মোরেলগঞ্জ এলাকার । সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্যতা নিশ্চিত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন।

    মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম নাসিম উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে ১১ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্য। এরমধ্যে সবুর নামের এক জেলে  ২০ হাজার টাকা বকেয়া রেখে  ফিরে এসেছে। তার বাবা নাম আব্দুল হামিদ। সে সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা । এছাড়াও একই এলাকার মানিক শেখ,  আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার, ওয়াহিদ মুন্সি কে জিম্মি রেখেছে। এসময়  মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও ৫ জন তাদের হাতে জিম্মি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    দস্যুরা এখনও পর্যন্ত মুক্তিপন বিনিময় কি দিতে হবে তা জানায়নি।

    অপরদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা  লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল  আরেফিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তারা তথ্য যাচাই ও বিশেষ নজরদার শুরু করেছেন।

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    এবিএনএ,মোংলা :সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সুন্দরবনে একযোগে দুটি বিশেষ অভিযান—‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে সক্রিয় দস্যু চক্র দমনে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও জানান, বনাঞ্চলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দস্যুদের আস্তানা শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে নদীপথে টহলও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    এছাড়া ৫৯৯ রাউন্ড গুলি, ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি শিকারের ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ২৯ জন শিকারিকেও আটক করেছে বাহিনীটি।

    ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অপারেশন রিস্টোর পিস ও ম্যানগ্রোভ শিল্ডের মাধ্যমে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দস্যুতা দমন এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ জন

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট:  বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও বনদস্যুদের তৎপরতা পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। বনজীবী, বিশেষ করে জেলে ও মৌয়ালদের এখনও চাঁদাবাজি ও অপহরণের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।

    গত দেড় বছরে কোস্টগার্ডের পরিচালিত একাধিক অভিযানে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় সাতটি বনদস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে তাদের কবল থেকে মুক্তিপণের জন্য অপহৃত ৭৮ জন জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং প্রায় ১৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি। পাশাপাশি বনদস্যুদের কয়েকটি আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সুন্দরবনের বাইনতলা খালে পরিচালিত অভিযানে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য—মো. সোহাগ হাওলাদার ও বাবুল সানাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মোংলা কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ ‘বিজিসিএস স্বাধীন বাংলা’র কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকিব ইমরান জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে করিম-শরিফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, আসাবুর, ছোট জাহাঙ্গীর ও জোনাব বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি দস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে।

    এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড গত দেড় বছর ধরে টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নদী-খাল ও দুর্গম বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে হাত-পা বাঁধা জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে হাত-পা বাঁধা জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ১ জেলেকে উদ্ধার করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন ।

    মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনী খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিকে নৌকায় রেখে বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত জেলে মজিবর গাজী (৫০) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। জেলে মজিবর গাজী কাকড়া আহরনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন ।

    উদ্ধারকৃত জেলেকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    এবিএনএ,বাগেরহাট : দেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। আজ (১ এপ্রিল) ভোর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম, যা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।

    বন বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুন্দরবন থেকে মোট ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু এবং ৩০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে নির্ধারিত হয়েছে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা।

    এবার আগাম বৃষ্টির কারণে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে খলিসা, গরান, পশুর ও হারগোজাসহ বিভিন্ন গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। ফলে ওইসব এলাকায় মৌমাছির উপস্থিতি বেড়েছে এবং মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। তবে পূর্বাঞ্চলের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তুলনামূলক কম বৃষ্টি এবং কম গাছপালা থাকার কারণে সেখানে মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত মধু পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ওই অঞ্চলের মৌয়ালরা কয়েকদিন পর থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবেন।

    মৌসুম শুরুর আগেই মৌয়ালরা নৌকা মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন। দলবদ্ধভাবে বনে প্রবেশ করে তারা প্রথমে খলিসা, গরান ও পশুর গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। পরে পর্যায়ক্রমে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু আহরণ করা হবে।

    গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জ থেকে প্রায় ৬৫০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল। মৌয়ালদের মতে, বন বিভাগের অনুমতি, রাজস্ব ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিজনের প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে মধু বিক্রি করে তারা উল্লেখযোগ্য লাভ করতে সক্ষম হন।

    শরণখোলার মৌয়ালরা জানান, গত মৌসুমে তাদের প্রতিটি সদস্য প্রায় দুই মণ করে মধু পেয়েছিলেন, যা বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। এবারও তারা আশাবাদী, তবে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অপহরণের ঝুঁকি থাকায় তারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

    বন বিভাগ জানিয়েছে, মধু আহরণের জন্য মৌয়ালদের ১৪ দিনের পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৌমাছি তাড়াতে আগুন বা রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ, বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা, নদীতে বিষ প্রয়োগ না করা এবং বন্যপ্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকা। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

    বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার গাছে ফুলের আধিক্য থাকায় মধু উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মৌয়ালদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    তবে জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মৌসুমের পুরো সময়জুড়ে মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সুন্দরী ও গেওয়া গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।

    সব মিলিয়ে আশা ও শঙ্কার মধ্যেই শুরু হলো সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী মধু আহরণ মৌসুম। মৌয়ালদের চোখ এখন নিরাপদ ও সফল একটি মৌসুমের দিকে।

  • সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। ‘আল আমিন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র দস্যু তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অপহৃত জেলে মিজান শেখ (৪০) মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজ্জাক শেখের ছেলে।

    মিজানের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই আল আমিন শেখ জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি (পাস) নিয়ে তারা গত ১৪ মার্চ সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মাছ ও কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। ১৬ মার্চ রাতে বনাঞ্চলের একটি খালে অবস্থানকালে হঠাৎ করে দস্যুরা তাদের ঘিরে ফেলে।

    এ সময় দস্যুরা মিজান শেখকে জোরপূর্বক নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে থাকা আল আমিন শেখকে নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি বাড়িতে গিয়ে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের খবর দেন।

    অপহরণের পরপরই বনদস্যুরা মিজানকে মুক্তি দিতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় মিজানের বড় ভাই হুমায়ন শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ঋণ করে জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েছিল আমার ভাই। এখন একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চাপ—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।”

    তবে মোংলা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মহরম জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় কর্মরত জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।