Tag: বঙ্গোপসাগর

  • উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে টানা ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে মাছ ধরার শত শত ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন নিরাপদ খালে। মোংলা, কচিখালী, কটকা, সুপতি ও দুবলা এলাকা থেকে শুরু করে শরণখোলা এবং রাজৈর উপকূলেও দেখা গেছে ট্রলারভর্তি খাল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। ফলে সমুদ্রজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ংকর ঢেউ ও ঝড়ো বাতাস। এরই প্রেক্ষিতে মোংলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, উত্তাল সমুদ্রের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

    বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অসংখ্য ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে ঠাঁই নিয়েছে। যেহেতু ১ জুন থেকে সুন্দরবনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই এই ট্রলারগুলোর উপর কড়া নজরদারি চলছে। কেউ আশ্রয়ের অজুহাতে মাছ ধরতে গেলে, তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা হবে।”

    মোংলা বন্দরে টানা বৃষ্টির কারণে পণ্য ওঠানামাও ব্যাহত হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সাতটি জাহাজে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েকদিনেও সাগরে ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোতেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • উত্তাল বঙ্গোপসাগর: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা, উপকূলজুড়ে শঙ্কা

    উত্তাল বঙ্গোপসাগর: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা, উপকূলজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার রাতে প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এই অবস্থায় উল্লিখিত জেলার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা অবলম্বনের সময়, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।

  • টেকসই সমুদ্রনীতি গড়তে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    টেকসই সমুদ্রনীতি গড়তে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতা আনার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

    বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে হাইড্রোগ্রাফি দিবস উদযাপন অব্যাহত থাকায় তিনি আনন্দিত। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Seabed Mapping: Enabling Ocean Action’ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং বাস্তবভিত্তিক।

    ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের ভূমিকা অপরিসীম। শুধু বাংলাদেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও এই সাগরের ওপর নির্ভরশীল।

    বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সঠিক, হালনাগাদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য অপরিহার্য।

    তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের, যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমার জরিপ, চার্ট তৈরিতে এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে।

    জাতিসংঘ সমুদ্র আইন অনুযায়ী মহীসোপান নির্ধারণ ও সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও এই বিভাগের অবদান উল্লেখযোগ্য।

    ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, শুধু নিরাপত্তা নয়, এই বিভাগ ভবিষ্যতে বন্দর উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    তিনি হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে নেওয়া সকল উদ্যোগের সফলতা কামনা করেন এবং সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

  • বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুমি বায়ু। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঘন বজ্রমেঘ, যা উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার, ২০ জুন, আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরজুড়ে বায়ুচাপের তারতম্য ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর ফলে বজ্রমেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এর প্রভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে যেন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামুদ্রিক ঝুঁকি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তাই উপকূলীয় জনপদ ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ২৩-২৮ মে’র মধ্যে আঘাত হানতে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’, উপকূলে বিপদের আশঙ্কা

    এবিএনএ:  বঙ্গোপসাগরে চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের খ্যাতনামা আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ। তার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মে থেকে ২৮ মে’র মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড়টির সৃষ্টি হতে পারে এবং এর নাম হতে পারে ‘শক্তি’।

    রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য শেয়ার করে পলাশ জানান, সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত নাম ‘শক্তি’ পাবে। তিনি বলেন, ২৪ থেকে ২৬ মে’র মধ্যে ঝড়টি ভারতের ওড়িশা উপকূল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।

    তবে তার মতে, ঝড়ের মূল আঘাত পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের ওপর পড়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

    এর আগে, বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানায়, ১৬ থেকে ১৮ মে’র মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি সার্কুলেশন তৈরি হতে পারে, যা ধাপে ধাপে শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপ পরবর্তীতে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

    যদি ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়, তবে ঝড়ো হাওয়া, অতিভারী বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারে উপকূলীয় জেলা জনপদ।

    আবহাওয়াবিদরা উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং যথাসময়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।