Tag: বঙ্গোপসাগর

  • বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় লঘুচাপ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা

    বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় লঘুচাপ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা

    এবিএনএ: দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শনিবার রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে দক্ষিণপশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    বর্তমানে মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    প্রথম দিনের পূর্বাভাস

    ১৬ মে সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।

    দ্বিতীয় দিনের পরিস্থিতি

    ১৭ মে দেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। রংপুর ও ঢাকার কিছু এলাকাতেও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

    তৃতীয় দিনের পূর্বাভাস

    ১৮ মে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগেও বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

    চতুর্থ দিনের আবহাওয়া

    ১৯ মে রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস

    ২০ মে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে কয়েকটি অঞ্চলে। এ সময় দেশের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও স্থানীয়ভাবে ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

  • চারদিন সাগরে ভেসে ছিল ট্রলার—অবশেষে ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল নৌবাহিনী

    চারদিন সাগরে ভেসে ছিল ট্রলার—অবশেষে ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল নৌবাহিনী

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরের গভীর সাগরে বিপদে পড়া ১৫ জন জেলেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ইঞ্জিন বিকল হয়ে চারদিন ধরে ভাসতে থাকা একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ বিকেলে নিয়মিত টহল চলাকালে সেন্টমার্টিন লাইট হাউসের পশ্চিমে প্রায় ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে ট্রলারটিকে অসহায় অবস্থায় ভাসতে দেখা যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌবাহিনীর সদস্যরা জেলেদের উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, ২৭ মার্চ ট্রলারটির ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জেলেরা দিকভ্রান্ত হয়ে গভীর সাগরে ভেসে থাকতে বাধ্য হন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকে থাকার ফলে তাদের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তোলে।

    উদ্ধারের পর নৌবাহিনী তাদের সেন্টমার্টিনে অবস্থিত ফরওয়ার্ড বেইজে নিয়ে যায়। সেখানে জেলেদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

    বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সবাই সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে জেলেদের সুরক্ষা ও ব্লু ইকোনমির উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ, মো.শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দস্যুরা বেপরোয়া হওয়ায় জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে।

    পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সেমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জেলেকে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন, হরিদাস বিশ্বাস (৫০),গোপাল বিশ্বাস (৪৫),রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস(৩৫),তুষার বিশ্বাস(৪০),মনিরুল বিশ্বাস (৪৮), ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। এদের বাড়ী খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
    এ ছাড়া সোমবার দিবাগত রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমনজাহাঙ্গীর বাহিনী হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোলের ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। অপহৃত জেলেরা হচ্ছে, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস,শিবপদ বিশ্বাস,রশিদ সরদার,প্রকাশ বিশ্বাস,ইয়াসিন মোড়ল,শিমুল,রুপ কুমার বিশ্বাস,গণেশ বিশ্বাস,উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এ সকল জেলেদের বাড়ী পাইকগাছা,কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে । দস্যুদের দমন করা না গেলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন বলে কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে শক্তি প্রদর্শন: ভারত–রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    বঙ্গোপসাগরে শক্তি প্রদর্শন: ভারত–রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে ভারত ও রাশিয়া। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহড়ার নাম ‘মিলান ২০২৬ নাভাল এক্সারসাইজ’, যেখানে দুই দেশের নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রুশ নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিটের অন্তর্ভুক্ত একাধিক যুদ্ধজাহাজ এই মহড়ায় অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে বিশাল ও অত্যাধুনিক ফ্রিগেট মার্শাল শাপোশনিকভ, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন ধ্বংসে সক্ষম গাইডেড অস্ত্র বহনে পারদর্শী।

    রাশিয়ান মেরিটাইম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে নিয়মিত টহলের দায়িত্বে থাকা শাপোশনিকভ ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুদ্ধজাহাজটি ওমানের মাস্কাট বন্দর অতিক্রম করেছে।

    বঙ্গোপসাগরে মহড়া শেষে জাহাজটি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিশাখাপত্তম বন্দরের দিকে যাত্রা করবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি সেখানে পৌঁছাবে।

    উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে এই যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার কথা তিন মাস আগেই ঘোষণা করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক ঘোষণায় দেশটির নৌবাহিনীর ভাইস চিফ অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়ন এই মহড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া ভারত–রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, সেই সঙ্গে সাগরে নিম্নচাপ—কী বলছে আবহাওয়া অফিস?

    শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, সেই সঙ্গে সাগরে নিম্নচাপ—কী বলছে আবহাওয়া অফিস?

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টির তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্তমানে দেশের ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র শীতপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থানরত একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি আগামী দিনে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। তবে এই মুহূর্তে দেশের কোনো সমুদ্রবন্দর বা উপকূলীয় এলাকার জন্য সতর্কসংকেত জারি করা হয়নি।

    আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • বঙ্গোপসাগরের মোহনায় উত্তেজনা: দুই নৌকাসহ ৯ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

    বঙ্গোপসাগরের মোহনায় উত্তেজনা: দুই নৌকাসহ ৯ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হয়েছেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ৯ জন বাংলাদেশি জেলে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মাছ ধরার নৌকাও জব্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহপরীর দ্বীপ থেকে চারটি মাছ ধরার নৌকা সাগরে গিয়েছিল। মাছ শিকার শেষে ঘাটে ফেরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিলে দুটি নৌকা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকি দুটি নৌকা আটক হয়।

    আটক হওয়া নৌকাগুলোর মালিক শাহপরীর দ্বীপের ডাংগর পাড়ার বাসিন্দা রাশেদ ও মো. ফারুক। অপহৃত জেলেদের সংখ্যা মোট ৯ জন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় নৌঘাট সংশ্লিষ্টরা।

    শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া নৌঘাটের সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, “সকালে আমাদের ঘাটের নৌকাগুলো সাগর থেকে ফিরছিল। হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দেয়। এতে দুইটি নৌকা ও ৯ জন জেলে তাদের হাতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

    এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “দুটি নৌকাসহ ৯ জন জেলেকে ধরে নেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, গত প্রায় দশ মাসে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী সাগর এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে বিজিবির মধ্যস্থতায় প্রায় ২০০ জন জেলেকে বিভিন্ন সময়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ১৫০ জন জেলে তাদের হাতে আটক রয়েছেন। এ কারণে উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেক জেলে।

  • ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন ঐক্যের নতুন যাত্রায়— এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজ আমরা ঐক্যের সুরে যাত্রা শুরু করেছি, সেই সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ইউনূস বলেন, “আজ সমস্ত জাতি একত্রিত হয়েছে। এমন ঘটনা অতীতে চিন্তাও করা যায়নি।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় পা রাখলাম। এখন সময় এসেছে এমন একটি সমাজ গড়ার, যাকে পৃথিবী ঈর্ষার চোখে দেখবে। এই ঐক্যই আমাদের ভবিষ্যতের শক্তি।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস বলেন, “মানুষ যেন মনে রাখে, এই সনদে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। নিজেদের নির্বাচন নিজেরাই করবো— বাইরের কাউকে এসে ধাক্কা দিতে হবে না।”

    ঐকমত্য থেকে ঐক্যে: পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঐকমত্য কমিশন গঠন ছিল এক সময়ের স্বপ্ন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। “যখন আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো দুই-একটি বিষয়ে একমত হবো। কিন্তু আজ দেখছি, সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে একই লক্ষ্য ঠিক করেছে— এটি এক অনন্য অর্জন।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি আমাদের সংবিধান, সরকার পরিচালনা ও সমাজ গঠনের ধারায় পরিবর্তন আনবে।”

    বঙ্গোপসাগর ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

    অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের সম্পদ। আমরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও মহেশখালী একত্রে নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে বিশ্বের বহু জাহাজ আমাদের বন্দরে নোঙর ফেলবে। নেপাল, ভূটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত আমাদের অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি হবে।”

    আন্দোলনের স্মৃতিচারণা ও তরুণদের ভূমিকা

    জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই আজকের পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন। জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।”

    তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “এই দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। তারা যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশকে কেউ থামাতে পারবে না।”

    আলী রীয়াজের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক স্বপ্নের কথা

    অনুষ্ঠানে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের অনেক স্রোত আছে, কিন্তু মোহনা একটি— গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। জুলাই সনদ সেই স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ।”

    তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও ঐক্যের যাত্রা যেন থেমে না যায়।”


    জুলাই জাতীয় সনদ শুধু একটি কাগজ নয়— এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা। ঐক্যের সুরে নির্বাচন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এখন নতুন বাংলাদেশের পথচলার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ঘনীভূত হওয়ার আভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ঘনীভূত হওয়ার আভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত

    এবিএনএ: উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার প্রবণতা বাড়বে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও রাজশাহীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বহু স্থানে এবং রংপুর, ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।

    শনিবার ও রবিবারও দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কৃষি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে।

  • বঙ্গোপসাগরে সুষ্পষ্ট লঘুচাপ, ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

    বঙ্গোপসাগরে সুষ্পষ্ট লঘুচাপ, ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

    এবিএনএ:  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে সুষ্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে দেশের ছয়টি বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যত্রও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও সক্রিয় হয়েছে। এটি বর্তমানে উত্তর অন্ধ্র-দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলের নিকটে অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায়ও দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের আটটি বিভাগেই বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

    অন্যদিকে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • দেড় ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে পরপর চার ভূমিকম্প, কাঁপল আন্দামান উপকূল!

    দেড় ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে পরপর চার ভূমিকম্প, কাঁপল আন্দামান উপকূল!

    এবিএনএ:  বঙ্গোপসাগরে এক রাতেই চারবার কেঁপে উঠল সমুদ্রতল। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর চারটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার কেন্দ্র ছিল আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারের কাছাকাছি অঞ্চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রতলের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্রা ছিল ৫।

    এরপর একই এলাকায় আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়— যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫, ৪.৯ ও ৪.৬। সবগুলো ভূমিকম্প ঘটেছে রাত ৯টা ৪৫ থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে।

    ভূমিকম্পগুলো বেশ গভীর হওয়ায় স্থলভাগে তেমন প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

    ইউএসজিএস নিশ্চিত করেছে, এই ভূমিকম্পগুলোর ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে কম্পনের অর্থ হতে পারে সাবডাকশন জোনে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সক্রিয়তা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে।

    বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের তাই এখনই সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।