Tag: প্রশাসন

  • নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে অন্তত তিনজন উপদেষ্টা নির্বাচন পেছানোর নানা কৌশলে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরেকজন উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল পরিস্থিতিনির্ভর; তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা রেখে সময় পার করেছেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই গোষ্ঠীর কৌশলের অংশ হিসেবে মব সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল।

    শুরুর দিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। পরে সংস্কারের বিস্তৃত প্রস্তাব সামনে এলে দ্রুত ভোটের পথ থেকে তিনি সরে আসেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে—এই সংস্কার-আলোচনার আড়ালে ক্ষমতার সময় বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ ছিল, যেখানে তিন উপদেষ্টার চাপ বড় ভূমিকা রাখে।

    উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল, দ্রুত ভোট হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে এবং অপ্রত্যাশিত শক্তি সুবিধা নিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তির পেছনে ছিল নিজেদের প্রভাব দীর্ঘায়িত করা এবং নির্দিষ্ট শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কৌশল। জনচাপ ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার চাপও সিদ্ধান্ত বদলে প্রভাব ফেলে।

    পর্দার আড়ালে নিয়মিত বৈঠক, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে উপদেষ্টাদের প্রভাব একসময় এতটাই বেড়ে যায় যে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। লন্ডনে হওয়া বৈঠককে কেন্দ্র করে নির্বাচনমুখী হওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও তা ভেস্তে দিতে নানা মহলের তৎপরতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে।

    দেশের ভেতর থেকেও নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই—এমন চাপ আসতে থাকে। তবু নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা থামে না। প্রশাসনিক শৈথিল্য ও সহিংসতার ঘটনায় সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ কয়েকটি ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে রহস্যের কথাও উঠে আসে।

    রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুরু থেকেই নির্বাচনমুখী অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সেনাবাহিনী সতর্ক ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নানা আলামত দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে—উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিদেশ সফরে গিয়ে কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন, জনমত জরিপ প্রভাবিত করার চেষ্টাও হয়েছে।

    নির্বাচনের দিনেও নির্দিষ্ট আসনের দিকে নজর ছিল একটি গোষ্ঠীর। তবে ফলাফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে তারা। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচন বিলম্বের পেছনে কেবল প্রশাসনিক অজুহাত নয়, ছিল ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ ও পর্দার আড়ালের রাজনীতি।

  • দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টারের নিয়োগ হঠাৎ বাতিল: ফয়সাল মাহমুদের চুক্তি ছেঁটে দিল সরকার

    দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টারের নিয়োগ হঠাৎ বাতিল: ফয়সাল মাহমুদের চুক্তি ছেঁটে দিল সরকার

    এবিএনএ: ভারতের নয়াদিল্লি-তে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার।

    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

    সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দুই বছরের মেয়াদে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টার পদে যোগ দেন ফয়সাল মাহমুদ। সে হিসেবে আগামী ২৩ নভেম্বর তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    হঠাৎ করে চুক্তির অবশিষ্ট সময় বাতিলের সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

  • প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    এবিএনএ: দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গুরুতর শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে জনগণের কাছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. তাহেরের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার একযোগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা প্রস্তুত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো দেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।

    জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিরোধিতা তারা করেন না। তবে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে জামায়াত আমিরের ক্ষেত্রেও একই আচরণ প্রত্যাশিত। তা না হলে প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈষম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে কমিশন দায় এড়াতে পারবে না। এতে নির্বাচনী মাঠের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।

    ডা. তাহের জানান, এসব উদ্বেগ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। তবে তার আশপাশের কিছু উপদেষ্টা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

    এদিকে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত নেতা জানান, প্রধান উপদেষ্টা মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১৫ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    প্রধান অতিথি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

    জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন—ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানান তিনি। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)।যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

    জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যেতে পারবেন না।

    পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও অর্থ বিভাগ থেকে বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মকর্তা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হলো, যাতে নির্বাচনকালীন সময় বিদেশ ভ্রমণ সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    দপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং একাধিক কর্মকর্তা একই সময়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, যা সরকারের পূর্বনির্ধারিত নীতির পরিপন্থী। এ কারণে এবার বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যেন অতি প্রয়োজন ছাড়া কোনো বিদেশ সফরের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো না হয়।

    নতুন পরিপত্রের অনুলিপি সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং উপদেষ্টাদের একান্ত সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছিল। এসব নির্দেশনায় বলা হয়, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, সচিবের অনুমতি ছাড়া আমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না এবং বিদেশ সফরের আগে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।

    সরকারি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • এই মাসেই বিএনপির ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা

    এই মাসেই বিএনপির ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপে। দলটি চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করবে বলে জানা গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি আলাদা জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, যার ভিত্তিতে বেশিরভাগ আসনে একক প্রার্থী নির্ধারিত হয়েছে।

    তবে শতাধিক আসনে এখনো অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গ্রুপিং থাকায় সেখানে সমঝোতা গঠনের চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রার্থীদের ডেকে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।


    গোপনীয় প্রার্থী চূড়ান্ত প্রক্রিয়া

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা প্রস্তাব দিয়েছেন, মাঠে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে গ্রিন সিগন্যাল বা ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হচ্ছে একক প্রার্থীদের। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এ তথ্য না জানায় মাঠ পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ।

    দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে।


    ইসি’র সঙ্গে বৈঠক আজ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। দলের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকায় অনেক জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা স্থান পাচ্ছেন। এ বিষয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আজ বুধবার বিএনপি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবে।

    বিএনপি দাবি করেছে, ভোটের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।


    প্রশাসনে ‘জামায়াতীকরণ’ নিয়ে উদ্বেগ

    বৈঠকে নেতারা প্রশাসনে সাম্প্রতিক রদবদল ও নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এই উদ্বেগের বিষয়টি জানাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে।


    বিএনপির লক্ষ্য: নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন

    দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে দূরে থাকায় আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসতে পারে। সে কারণে বিএনপি মাঠে সংগঠিত শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে তারা নির্বাচনকেন্দ্রিক শক্ত অবস্থান নিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

  • ডিসি-ইউএনও আর থাকছে না: প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন

    ডিসি-ইউএনও আর থাকছে না: প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদের নাম পরিবর্তনসহ ১০টি বড় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গত জুলাইয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়, এবং এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামো ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস’ (এসইএস) গঠন করা হচ্ছে। এতে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত সব পদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারের দক্ষ কর্মকর্তারা এসইএসে যোগ দিতে পারবেন।

    সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নতুন পদবি হবে ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কমিশনার’, আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদবি পরিবর্তন হয়ে হবে ‘উপজেলা কমিশনার’। এসব পদবি পরিবর্তনের কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।

    নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এসইএসে উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে পরের বছরে পুনরায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে, তবে পরপর দুইবার ব্যর্থ হলে আর পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। সফল প্রার্থীদের মেধা অনুযায়ী পদায়ন করা হবে, এবং একবার এসইএসে প্রবেশ করলে আগের সার্ভিসে ফেরত যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

    এসইএস গঠন হলে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর সদস্য হবেন। এছাড়া সচিব ও মুখ্য সচিব নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি।

    সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)’ পদের নামও বদলে হবে ‘অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ভূমি ব্যবস্থাপনা)’। এ ছাড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে দুই শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।

    এতে আশা করা হচ্ছে, নতুন কাঠামো প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে, কর্মকর্তাদের মধ্যে মেধাভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিত করবে এবং সেবামুখী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখবে।

  • খাগড়াছড়িতে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ নিহত, সেনা-পুলিশসহ বহু আহত

    খাগড়াছড়িতে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ নিহত, সেনা-পুলিশসহ বহু আহত

    এবিএনএ:  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় ভয়াবহ সহিংসতায় তিনজন পাহাড়ি প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় মেজরসহ অন্তত ১৩ সেনাসদস্য এবং থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয়ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আগে এই সংঘর্ষ ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানানো হয়েছে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, অবরোধের সমর্থনে রামসু বাজার এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দিয়ে পিকেটিং চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে উত্তেজনা বাড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    অবরোধকারীরা বাজারের সরকারি অফিস, দোকান ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত সম্পত্তিও পুড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রামসু বাজারের আশপাশের এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রশাসনের অবস্থান

    গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে ১৪৪ ধারা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসন জানায়, সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে পরিস্থিতি শান্ত করার।

    সহিংসতার পেছনের ঘটনা

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ২৪ সেপ্টেম্বর তিনজনকে আসামি করে মামলা হয় এবং পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে।

    অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি ডাকা হয়। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অবরোধকে কেন্দ্র করে শহরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়, যেখানে অন্তত ২৫ জন আহত হন। এর পরই প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে বিজিবি মোতায়েন করে।

    খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি পাহাড়ি জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

  • রাজধানীতে গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম শহীদ খান, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় অভিযুক্ত

    রাজধানীতে গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম শহীদ খান, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় অভিযুক্ত

    এবিএনএ: সাবেক সিনিয়র সচিব এবং এক সময়ের প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আবু আলম শহীদ খানকে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে আটক করা হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে আবু আলম শহীদ খানসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।

    উল্লেখ্য, আবু আলম শহীদ খান ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পর তিনি অবসর নেন।

    তবে কী কারণে এই মামলায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বা গ্রেপ্তারের পেছনের নির্দিষ্ট কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এবিএনএ:  দলে একের পর এক অনিয়ম, সহিংসতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের কারণে চাপে পড়েছে বিএনপি। বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবার দলটি শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী এবং অপকর্মে যুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩ সালের পর থেকে যারা দলে এসেছেন এবং রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    সম্প্রতি পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে এক ভাঙারির ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলীয় ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় দায় চাপিয়ে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।

    ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    দলটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০০ জন বিএনপির, যাদের ৮০০ জন বহিষ্কৃত, ৭০০ জনকে নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের আরও প্রায় ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের প্রতি অভিযোগ

    বিএনপি অভিযোগ করেছে, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেমন, পাবনার সুজানগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বিএনপির নেতারা নিজ উদ্যোগে অভিযোগ করেন।

    নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    বহিষ্কার করেও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

    দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, অভিযোগ যাচাই ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ দ্রুতই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসছেন। খুলনায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন বহিষ্কৃত, তবুও সক্রিয় ছিলেন দলীয় কর্মসূচিতে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না।