Tag: প্রশাসন

  • জাওয়াদ নির্ঝরের পোস্ট ঘিরে মৌলভীবাজার এসপিকে দায়িত্ব ছাড়তে নির্দেশ

    জাওয়াদ নির্ঝরের পোস্ট ঘিরে মৌলভীবাজার এসপিকে দায়িত্ব ছাড়তে নির্দেশ

    এবিএনএ: মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে অবিলম্বে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তাকে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্মারকে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

    স্মারক অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব দ্রুত হস্তান্তর শেষে আগামী ১৬ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এসপি রিয়াজুল ইসলামকে।

    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

    প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, কয়েক কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ না করায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    পোস্টে আরও বলা হয়, গত ৫ মে ১২ জেলার পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলির ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একজন এসপির বদলিকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

                                https://www.facebook.com/search/top?q=jawad%20nirjhor

    জাওয়াদ নির্ঝরের অভিযোগ অনুযায়ী, আড়াই কোটি টাকার সমঝোতার ভিত্তিতে রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি একটি আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে আংশিক অর্থ পরিশোধ করলেও বাকি অর্থ নিয়ে টালবাহানা করছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া পোস্টে রিয়াজুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়। সেখানে তাকে বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আজীবন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়েও এখনো সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

  • প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    এবিএনএ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে সচিবালয়ে নিয়োজিত এবং বিভিন্ন অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা পেশাগত অদক্ষতার অভিযোগে চিহ্নিত সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    বদলির আওতায় থাকা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সচিবালয়ের বিভিন্ন গেটের নিরাপত্তাকর্মী, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন

    শুধু জনবল পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের উদ্যোগ। সচিবালয়ের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় বসানো হবে এআই-ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তি।

    নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অস্ত্র ও মাদক শনাক্তকরণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    নতুন পদায়নে গুরুত্ব পাচ্ছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স

    সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা যাচাই বা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও গোপন নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    বদলি ঘিরে চলছে তদবির

    বদলির তালিকা প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। কেউ কেউ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে আগের দায়িত্বে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

    বিশেষজ্ঞদের মত কী?

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর রোটেশন বা বদলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নিরাপত্তা চর্চা।

    তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র সময় বিবেচনায় গণহারে বদলি না করে প্রতিটি সদস্যের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় দক্ষ ও নিরপেক্ষ সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    দর্শনার্থী পাসেও আসছে নতুন নিয়ম

    সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে দর্শনার্থী পাস ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য পাস ইস্যু করা হবে এবং প্রয়োজন শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সচিবালয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

  • যোগদানের এক সপ্তাহেই প্রত্যাহার মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল, কারণ নিয়ে তোলপাড়

    যোগদানের এক সপ্তাহেই প্রত্যাহার মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল, কারণ নিয়ে তোলপাড়

    এবিএনএ: মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাতদিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়েছে মো. রিয়াজুল ইসলামকে। শুক্রবার (১৫ মে) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, রিয়াজুল ইসলামকে আগামী ১৬ মে’র মধ্যে দায়িত্বভার জেলার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে হবে।

    তবে হঠাৎ এই প্রত্যাহারের পেছনের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

    অভিযোগ ঘিরে আলোচনা

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অভিযোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, আড়াই কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে রিয়াজুল ইসলাম মৌলভীবাজারের এসপি পদে বদলি হয়েছেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ প্রকাশ হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

    এর মধ্যেই তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

    আগেও প্রত্যাহার করা হয় দুই এসপি

    এর আগে একইভাবে ফেনী ও পঞ্চগড় জেলার দুই পুলিশ সুপারকেও প্রত্যাহার করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর।

    প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান এবং পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

    ক্রমাগত কয়েকজন জেলা পুলিশ প্রধানকে প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে রিয়াজুল ইসলামের নিয়োগ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত বদলিগুলোর একটি। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তার প্রত্যাহার প্রশাসনিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

  • নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশজুড়ে নদ-নদীর তীর ও প্লাবনভূমি দখল করে রাখা ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ২১ হাজার ৯৮২ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মন্ত্রী জানান, দখলদারদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর দখল উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের পরিকল্পনা হাতে পেলেই ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

    সংসদে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্য

    কুমিল্লা-৪ আসনের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, নদী দখল রোধ এবং দূষণ প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং কমিশনকে নদীগুলোর আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও নতুন করে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে সারাদেশে ২১ হাজার ৯৮২ জন দখলদার শনাক্ত হয়েছে।

    উচ্ছেদে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

    সরকার জানিয়েছে, নদী দখল উচ্ছেদে বেশ কয়েকটি বাধা রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সরাসরি উচ্ছেদ পরিচালনার ক্ষমতা না থাকায় অভিযান পরিচালনা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো রেকর্ড অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সেখানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    এছাড়া বিভিন্ন দখল সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকে। লোকবল ও বাজেট সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংসদে জানানো হয়।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক নদী আদালত গঠন, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া জায়গা পুনর্দখল ঠেকাতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়।

  • বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ—এ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত পোদ্দার (কানু) প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান নামে ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, মৃতের মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানেই তিনি অবস্থান করছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে মরদেহ উত্তর আমবাড়ি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, মৃত ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই মুসলিম রীতিতে কবরস্থানে দাফন করতে হবে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে প্রশাসন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সব কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের দাবি যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সে কারণে দাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    এবিএনএ: বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও প্রাণীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও মর্মাহত। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদ-উল-হাসান সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বাগেরহাটে চাঞ্চল্য: খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর নিহত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

    বাগেরহাটে চাঞ্চল্য: খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর নিহত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে এক কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি দিঘির প্রধান ঘাট এলাকা থেকে কুকুরটিকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

    অনলাইনে অনেকেই দাবি করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলা হয়েছে। আবার কেউ অভিযোগ তোলেন, কুমিরকে নিয়মিতভাবে প্রাণী খাওয়ানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিও পর্যবেক্ষণে এসব দাবির সত্যতা মেলেনি।

    জানা গেছে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং ঘটনার আগে কয়েকজন মানুষকে কামড় দেয়। পরে নিজেই ঘাটের দিকে গিয়ে পানিতে নামে। এ সময় কুমিরটি সুযোগ বুঝে আক্রমণ চালায়।

    ঘটনার সময় সেখানে অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, কুকুরটি প্রথমে তাকে কামড় দেয় এবং পরে আশপাশে থাকা লোকজনের দিকে তেড়ে যায়। পরে পানিতে নামার পর কুমিরটি তাকে ধরে ফেলে। কিছু সময় পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়। এছাড়া তার কয়েকটি মুরগিও মেরে ফেলে।

    স্থানীয়দের মতে, কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পাড়ায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ফলে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

    মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কুকুরটিকে কেউ বেঁধে পানিতে ফেলেছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুমিরকে কখনোই কুকুর খাওয়ানো হয় না এবং কুসংস্কার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রস্তুত ১৩টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের বিল অনুমোদনের মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের পথ খুলেছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে আলোচনা শেষে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

    সকালের অধিবেশনে যেসব বিল পাস হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    বিকেলের অধিবেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ আইন, ২০২৬’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ এবং ‘পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলী) আইন, ২০২৬’।

    একই দিনে দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি বিল অনুমোদন পায়। এগুলো হলো ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    সংসদে একদিনে এতগুলো বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো, বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • জ্বালানি খাতে কড়া নজরদারি: দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বসছে ট্যাগ অফিসার

    জ্বালানি খাতে কড়া নজরদারি: দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বসছে ট্যাগ অফিসার

    এবিএনএ: দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এবার দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সিদ্ধান্ত

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাম্পগুলোতে সরাসরি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মনোনীত করবেন। উপজেলা পর্যায়ে এই দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, যারা তাদের আওতাধীন প্রতিটি পাম্পের জন্য একজন করে কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন।

    দায়িত্ব ও কার্যক্রম

    নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন। তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে পেট্রোল পাম্পগুলোর কার্যক্রম তদারকি করা এবং প্রতিদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করা।

    সরকারের লক্ষ্য

    সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আসবে এবং অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি খাতকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

    পরবর্তী নির্দেশনা

    সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে দ্রুত ট্যাগ অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন করে তাদের তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • দুদকে নতুন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসাইন

    দুদকে নতুন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসাইন

    এবিএনএ: বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দায়িত্ব পেলেন বিচার বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (Anti-Corruption Commission) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে Mohammad Ali Hossain-কে।

    সোমবার (৯ মার্চ) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে Ministry of Public Administration। সরকারি ওই আদেশে বলা হয়েছে, আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনকে দুদকের মহাপরিচালক (লিগ্যাল) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার চাকরি সাময়িকভাবে Cabinet Division-এ ন্যস্ত করা হয়েছে।

    দুদকের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা, মামলা সংক্রান্ত পরামর্শ ও দুর্নীতি বিরোধী তদন্তের আইনি দিক তদারকিতে মহাপরিচালক (লিগ্যাল) পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    প্রশাসন সূত্র বলছে, বিচার বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং আইন বিষয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর তিনি কমিশনের আইনি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।