Tag: প্রধানমন্ত্রী

  • স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা—ভোরেই শুরু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

    স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা—ভোরেই শুরু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ভোরেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে তিনি সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীতে ফেরার পথে সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে সম্মান জানাবেন তিনি।

    এরপর দিনের আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় উদযাপন আরও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, দিনব্যাপী কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বিশেষ করে কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষসহ ফেনী ও হবিগঞ্জের দুর্ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রোববার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ঈদের আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা জাতির জন্য গভীর বেদনার। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। রেলক্রসিং, সেতু ও সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বার্তায় উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া ও কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন।

    আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এই কমিটিগুলো গঠন করেছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এছাড়াও ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

  • জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    এবিএনএ: রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বসহ হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

    ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা জাতীয় ঈদগাহে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করে।

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সরকারি আমলা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদের নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত অযুখানা, চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষভাবে নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও অযুর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

  • ঈদের চাঁদ উঠতেই প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা: সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান

    ঈদের চাঁদ উঠতেই প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা: সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশবাসীকে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রচারিত ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঈদ মোবারক। প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম।” তিনি উল্লেখ করেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর পবিত্র মাহে রমজান বিদায় নিয়েছে, যা মানুষকে ত্যাগ, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার বার্তা। এই উৎসব যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সে আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারে ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাক—এই কামনা সবার। রমজানের শিক্ষা ধারণ করে সবাই যেন একে অপরের পাশে দাঁড়ায় এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়, সেটিই হওয়া উচিত ঈদের মূল বার্তা।

    বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

  • হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি:সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি:সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে ।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

    একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি। ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।

    তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

    বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।

    এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি।

     

  • জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ঘোষণা: সীমান্ত বাহিনী হবে আধুনিক ও শক্ত ভিতের—প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

    জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ঘোষণা: সীমান্ত বাহিনী হবে আধুনিক ও শক্ত ভিতের—প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে আরও সুসংহত করা হবে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পেশাগত উৎকর্ষ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত সদস্যদের মাধ্যমেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সেনা দিবস–২০২৬ উপলক্ষে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি মাহে রমজানের এই সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বিশেষভাবে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনায় শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর সন্তানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে শোকের প্রতীক। সময় পেরোলেও সেই দিনের ক্ষত শুকায়নি। শহীদদের স্মৃতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষণ করা জাতীয় দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি ইতিহাসে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণে রাখতে সরকার উদ্যোগ নেবে।

    সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শেকড় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে প্রোথিত—এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরা সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্ত বাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাংগঠনিক সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেন। বাহিনীকে সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়।

    তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তা কাঠামো আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

    শহীদ পরিবারের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্র পাশে থাকবে। শেষাংশে তিনি প্রার্থনা করেন—আল্লাহ যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তি দেন এবং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।

  • ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

    ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

    এবিএনএ: ইউক্রেনের সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো। ৩৯ বছর বয়সী এই নারী নেত্রী দেশটির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়েই প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।

    বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ডেনিস স্যামিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি ২০২০ সাল থেকে এই পদে ছিলেন।

    সুভরিদেঙ্কো এর আগে প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তিতে সফলতা অর্জন করেন, যা ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও মজবুত করে।

    দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সুভরিদেঙ্কো জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।

    তিনি বলেন, “আমাদের সরকার এমন একটি ইউক্রেন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে শক্তিশালী হবে। আমার লক্ষ্য হলো এমন পরিবর্তন আনা, যা সাধারণ মানুষের জীবনেই প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধ আমাদের এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ দেয় না। তাই আমাদের কাজ করতে হবে দ্রুত ও অটলভাবে।”

    ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রদবদলকে অনেকেই দেখছেন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকদের মত।