Tag: পারমাণবিক কর্মসূচি

  • ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কার্যকর ছাড় নেই যা আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

    তিনি দাবি করেন, ইরান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত শর্তগুলো কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এমনকি ‘বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনা’ করার মতো কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো অবস্থান দেয়নি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ছাড় পেতে হলে ইরানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

  • ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    এবিএনএ: ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির জনগণ চলমান সংকট অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া এমন সব উদ্যোগ নেবে যাতে ইরান ও গোটা অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে।

    এছাড়া বিরোধ কমানোর অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাবও পুনরায় উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

    বৈঠকে পুতিন জানান, তিনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া ও ইরান ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান।

    বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি মস্কোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

  • ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি না আসায় চুক্তিহীনভাবে বৈঠক শেষ হয়।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বৈঠক রাতভর চলার পর রোববার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মূল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য কাটেনি। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি তোলে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। এই দুই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইরানকে জানানো হয়।

    তবে ইরানি প্রতিনিধিরা এসব শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাল্টা দাবি জানান, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও জোর দেন তারা।

    দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া তারা এই পদক্ষেপ নেবে না।

    বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা। পারমাণবিক ইস্যু দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক থেকে কোনো সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের কাছে পর্যাপ্ত নাও থাকতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে—সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সহজ হবে না। তবুও মার্কিন প্রশাসন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা বিমান হামলার কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র দ্রুত কমে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্যদের এক বন্ধদ্বার বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কিছু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে আসছে যে, ইরান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো আলোচনার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

    বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    তবে তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এই ইস্যুতে গত এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত জুনে, যখন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ইরানের সরকারি দপ্তর, সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। বোমা হামলার প্রথম দিন একটি স্কুলে আঘাত হানলে ১৬৮ জন কিশোরীর মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ডানপন্থী নেতাদের সম্মেলন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকান সামিট’-এ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অভিযানে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের নৌ ও বিমান সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগেও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চললেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো শেষ পর্যন্ত তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণের দিকেই অগ্রসর হতে পারে।

  • ইরানের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল যুদ্ধবহর, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইরানের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল যুদ্ধবহর, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান যদি নতুন করে হামলা এড়াতে চায়, তাহলে দ্রুত আলোচনায় এসে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

    ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে আরও কঠোর ও ভয়াবহ।

    তার ভাষায়, “একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর এখন ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এর নেতৃত্বে থাকা বহরটি ভেনেজুয়েলায় পাঠানো ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ রণতরীর নেতৃত্বাধীন নৌবহরের চেয়েও বড়।”

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত এবং পরিস্থিতি দাবি করলে দ্রুত ও মারাত্মক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।

    উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, তখনকার অভিযানে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি এবারও আলোচনায় না আসে, তাহলে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ। সময় প্রায় শেষ। সমাধানের সুযোগ এখনও আছে, কিন্তু দেরি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

    এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • ইরানের হুঁশিয়ারি: আবার নিষেধাজ্ঞা এলে ইউরোপের ভূমিকাই থাকবে না!

    ইরানের হুঁশিয়ারি: আবার নিষেধাজ্ঞা এলে ইউরোপের ভূমিকাই থাকবে না!

    এবিএনএ:  পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে ইরান এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা যদি পুনর্বহাল করা হয়, তবে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনার দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে।

    শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা শুরু করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইরান এখনও পর্যালোচনা করছে। আলোচনার সময়, স্থান, কাঠামো ও সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, আলোচনার পরিধি থাকবে কেবলমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আস্থা অর্জন, কোনোভাবেই সামরিক সক্ষমতা আলোচনায় আসবে না।

    গত জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রতি গভীর অনাস্থা প্রকাশ করে তেহরান, এবং ঘোষণা দেয় সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার।

    আরাগচি জানান, এখন থেকে আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে ‘নতুন কাঠামোতে’। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি আইএইএ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শন করতে চায়, তবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব হবে না।

    তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা ঝুঁকি বিবেচনায় শুধু ইরানেরই নয়, আইএইএর পরিদর্শকদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। সুরক্ষার দিক বিবেচনায় প্রতিটি পরিদর্শনের জন্য আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আরাগচি বলেন, ‘আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় দেব না। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটে, তবে তাদের আর কোনো অংশীদারিত্ব থাকবে না ইরানের পারমাণবিক ভবিষ্যতে।’

  • ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    এবিএনএ:  ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ এখন থেকে ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যেখানে দখলদার ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বা সহযোগিতাকে ‘পৃথিবীতে দুর্নীতির’ শামিল বলা হয়েছে।

    আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যারা ইসরায়েলকে সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, তাদের ‘কঠিনতম শাস্তি’ পেতে হবে।

    শুধু তাই নয়, স্টারলিংকসহ অনুমোদনবিহীন ইন্টারনেট সরঞ্জাম যেমন— রাউটার, রিসিভার ইত্যাদি বিক্রি, ব্যবহার বা মালিকানাকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দশটির বেশি সরঞ্জাম আমদানি বা তৈরি করলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানকে স্বাগত জানিয়ে পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    ইরান জানায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ইসরায়েল এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্দেহ পোষণ করছে যে, তেহরান পরোক্ষভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে।

    এদিকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের ডিফেন্স নিউজ পোর্টাল ডেফা প্রেস জানিয়েছে, এতে ইসরায়েলের অন্তত ৩১ হাজার ভবন ও ৪ হাজার যানবাহন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ইরানি হামলা ইসরায়েলের উপর “ব্যাপক ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি” ডেকে এনেছে।

  • ইসরায়েলের গোপন বার্তা ইরানে: যুদ্ধ শেষের পথে কি শান্তির সম্ভাবনা?

    ইসরায়েলের গোপন বার্তা ইরানে: যুদ্ধ শেষের পথে কি শান্তির সম্ভাবনা?

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান সঙ্ঘাতের অবসান চায় ইসরায়েল। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি গোপন বার্তা পাঠিয়েছে। সেই বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ইসরায়েল বর্তমান সামরিক অভিযান থামাতে প্রস্তুত।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালচ্যানেল-১২–এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শিরোনামের সামরিক অভিযানে ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দমন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

    যুক্তরাষ্ট্র আরব দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করে, তবে ইসরায়েল হামলা বন্ধে আগ্রহী।

    ইসরায়েলি এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “এই যুদ্ধ থামানো ইসরায়েলের পক্ষে এখনই সম্ভব। সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পদক্ষেপের ওপর।” তিনি বলেন, পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি হলে ইসরায়েল এ অভিযান বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইসরায়েলের সামনে দুইটি পথ খোলা—
    ১. একতরফাভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে হামলা থামানো।
    ২. যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো।

    তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ না করলে, ইসরায়েল আরও বড় পরিসরের জবাবি হামলায় যেতে প্রস্তুত। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানায়, ইসরায়েল তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে— যদি ইরান থামাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন হামলার মাত্রা আরও বাড়বে।

    নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিই যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণ ইরানকে আবারও আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনবে— এই আশাই করছে তেলআবিব।

    তবে ইরান ফের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে, ইসরায়েলও ফেরত যাবে তাদের আগ্রাসী অবস্থানে।

    রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি। আমরা চাই না দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, তবে ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”