Tag: পাকিস্তান

  • ভারতের নতুন আইন: বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-পাকিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের বিশেষ সুবিধা

    ভারতের নতুন আইন: বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-পাকিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের বিশেষ সুবিধা

    এবিএনএ:  ভারত সরকার প্রতিবেশী তিন দেশ—বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পাসপোর্ট বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করা এসব শরণার্থী এখন দেশটিতে শাস্তির ভয়ে ভীত না হয়ে অবস্থান করতে পারবেন।

    সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট-২০২৫ অনুযায়ী, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তারা সিএএ’র (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) আওতায় আবেদন করতে পারবেন। এর আগে এই সুযোগ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমিত ছিল।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করলেও নির্যাতিত অমুসলিম সংখ্যালঘুরা ফেরত পাঠানো হবে না। তবে যারা বৈধ নথি ছাড়াই অন্য কারণে ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো বা নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

    এছাড়া নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের কিছু নাগরিককেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যদি পাকিস্তান, চীন, ম্যাকাও বা হংকং হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন, তবে সেই সুবিধা পাবেন না। আইন ভঙ্গকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে ধাপে ধাপে জরিমানা দিতে হবে। বিশেষত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি ভিসাধারী এবং তিব্বতি ও মঙ্গোলিয়ার বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও এর আওতায় পড়বেন।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ আইন পাস করে, যাতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। তবে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের ক্ষেত্রে এই আইনে বিশেষ ছাড় রয়েছে।

  • পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন ইমরান খান, মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন ইমরান খান, মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান কারাগারে থাকলেও একটি বড় মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন। সেনা স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে লাহোর হাইকোর্টে জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর ইমরান খান সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।

    ২০২৩ সালের মে মাসে সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। অভিযোগ ওঠে, ইমরান খানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা এ হামলা চালায়। এ ঘটনার পর একাধিক মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।

    সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, যদি অন্য কোনো মামলা বা আটকাদেশ না থাকে তবে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে দুর্নীতির মামলায় তিনি এখনো অভিযুক্ত থাকায় তাৎক্ষণিক মুক্তি পাচ্ছেন না।

    ৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর ক্ষমতায় বসেন শেহবাজ শরীফ। সেই থেকে ইমরান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে।

    শুধু ইমরান খানই নন, পিটিআইয়ের অনেক নেতাই রাজনৈতিক মামলার জালে আটকা পড়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেফতার করা হলে দেশজুড়ে তার সমর্থকরা সহিংস বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সেনাবাহিনীকে দায়ী করে তারা রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদরদপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালান এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেন।

    বর্তমানে জামিনের সিদ্ধান্ত ইমরান খানের জন্য আংশিক স্বস্তি হলেও দুর্নীতির মামলার কারণে তার মুক্তি এখনও অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।

  • পাকিস্তানের হুমকির জবাবে ভারতের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা

    পাকিস্তানের হুমকির জবাবে ভারতের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারমাণবিক হুমকির জবাবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করল ভারত। দেশটি বুধবার ওড়িশার চান্দিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি-৫ এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইলটি পরীক্ষার মাধ্যমে সব কার্যক্ষম ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূর্ণভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    অগ্নি-৫ মিসাইলটি তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (ডিআরডিও)। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলটি প্রায় ১.৫ টনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। হালকা উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য।

    এই মিসাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এমআইআরভি (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle) প্রযুক্তি। এর ফলে একটি মিসাইল থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়, যা কৌশলগত দিক থেকে ভারতের সামরিক শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করতে অগ্নি-৫ এ ব্যবহার করা হয়েছে রিং লেজার জাইরোস্কোপ-ভিত্তিক ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (RLG-INS) এবং মাইক্রো-ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (MINGS)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের নিজস্ব ন্যাভিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ও আমেরিকার জিপিএস।

    তিন ধাপের কঠিন জ্বালানি চালিত প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত এই মিসাইল একটি ক্যানিস্টারাইজড প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ফলে এটি সহজে সংরক্ষণযোগ্য এবং দ্রুত অপারেশনাল মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির প্রকাশ্যে বলেন, ভারত যদি ভবিষ্যতের যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন নেতাও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই হুমকির জবাব দিতে এবং নিজেদের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই ভারত অগ্নি-৫ মিসাইলের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে।

  • পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

    পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

    এবিএনএ: মিরপুরে আয়োজিত দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, জয়ের পথটা সহজ হবে। কিন্তু সেই সহজ লক্ষ্যও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ফাহিম আশরাফের একক প্রতিরোধে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৮ রানের জয় পায় লাল-সবুজ বাহিনী এবং এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

    মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হয় মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে শোক জানিয়ে। একাদশে ছিল দুটি পরিবর্তন—নাঈম শেখ সুযোগ পান তানজিদ তামিমের পরিবর্তে, জাকের আলী ফিরেন দলে। কিন্তু শুরুটা হতাশাজনক ছিল ব্যাটিংয়ে। লিটন দাস, হৃদয়, ইমন কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ২৫ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

    তবে শেখ মেহেদি ও জাকের আলীর ৫৩ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। মেহেদি ২৫ বলে ৩৩ রান করেন, আর জাকের শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও ১টি চার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৩ রান।

    জবাবে পাকিস্তান ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শুরুতেই। মাত্র ১৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের আগুনঝরা স্পেলে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ৭ উইকেটে ৪৭ রানে পরিণত হয় সফরকারীরা।

    তবে পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ একাই লড়াই চালিয়ে যান। আব্বাস আফ্রিদিকে নিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়েন। ফাহিম ৩২ বলে ৫১ রান করে রিশাদের বলে বোল্ড হন। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। প্রথম বলেই মুস্তাফিজ চার খেয়ে চাপে পড়লেও পরের বলেই উইকেট তুলে নিয়ে জয় এনে দেন বাংলাদেশকে।

    বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ৩ উইকেট, তানজিম ও মেহেদি ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন জাকের আলী।

  • ভূমিকম্পের সুযোগে করাচির কারাগার থেকে ২ শতাধিক কয়েদির পালানো, আতঙ্কে প্রশাসন

    ভূমিকম্পের সুযোগে করাচির কারাগার থেকে ২ শতাধিক কয়েদির পালানো, আতঙ্কে প্রশাসন

    এবিএনএ :

    পাকিস্তানের করাচিতে একাধিক ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সোমবার রাতে শহরের মালির কারাগার থেকে পালিয়েছে ২১৩ জন কয়েদি। ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েদিদের নিরাপদ স্থানে সরানোর সময় কারারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কয়েদিরা।

    পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, রবিবার সকাল থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত করাচি ও আশপাশের এলাকায় মোট ১৬ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় কারাগারের ভেতরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা শিথিলতার সুযোগে পালিয়ে যায় শতাধিক কয়েদি।

    কারা সূত্র বলছে, মূলত ৪ ও ৫ নম্বর সার্কেলের কয়েদিরা এই পরিকল্পিত পলায়নের সঙ্গে যুক্ত। সংঘর্ষের সময় এক কয়েদি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং গুরুতর আহত হন একজন কারারক্ষী।

    মালির কারাগারের সুপারিন্টেনডেন্ট আরশাদ শাহ বলেন, “পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।”

    এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮০ জন পলাতককে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৩৩ জনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে অংশ নিচ্ছে পুলিশ, রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কর্পস, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট ও র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্স।

    দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পগুলোর উৎস ছিল ভূমির অগভীর স্তরে, যার কারণে কম্পনগুলো বেশ শক্তিশালী অনুভূত হয়েছে।

    সাম্প্রতিক এই ঘটনা পাকিস্তানের কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    এবিএনএ: 

    কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর নতুন করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত পাকিস্তান। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং সৈন্যরা তাদের পূর্ববর্তী শান্তিকালীন অবস্থানে ফিরে যাবে।

    পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টানা চার দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ৭০ জন। নয়াদিল্লি হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

    এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষিত আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ফলে সীমান্তে ড্রোন, বিমান, কামান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ হয় এবং বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের মধ্যেই সব সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে।”

    ভারতের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানায়, কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘেঁষা অঞ্চলসহ সীমান্ত এলাকার অতিরিক্ত সেনা কমানো নিয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

  • পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মোদির জোরালো ভাষণ: “সন্ত্রাস দমন না করে ভারতকে আক্রমণ করেছে তারা”

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মোদির জোরালো ভাষণ: “সন্ত্রাস দমন না করে ভারতকে আক্রমণ করেছে তারা”

    এবিএনএ:  যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যেখানে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর যখন ভারত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছিল, তখন পাকিস্তান সহযোগিতার বদলে আক্রমণ করেছে।

    মোদি জানান, মে ভোরে ভারতের সেনাবাহিনী নির্ভুলভাবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায়। মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈয়বার এবং বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মোহাম্মদের সদর দপ্তরে এই হামলা চালানো হয়। তিনি এসব ঘাঁটিকে ‘সন্ত্রাসের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ওই অভিযানে ১০০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা পাকিস্তানে আশ্রয়ে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল, তাদের অনেকেই এই আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে। এতে পাকিস্তানে হতাশা এবং ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেই আতঙ্ক থেকেই তারা আরও একটি ভুল পদক্ষেপ নেয়—ভারতে সরাসরি হামলা চালায়।

    মোদি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ভারতের স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ভারতের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজেই আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। মোদি বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী পাকিস্তানের আসল চেহারা দেখে ফেলেছে।

  • ঐশ্বরিয়াকে এক রাতের জন্য ১০ কোটি টাকায় আমন্ত্রণ: পাকিস্তানে রহস্যঘেরা অতিথি হওয়ার গল্প

    ঐশ্বরিয়াকে এক রাতের জন্য ১০ কোটি টাকায় আমন্ত্রণ: পাকিস্তানে রহস্যঘেরা অতিথি হওয়ার গল্প

    এবিএনএ:  বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের রূপ, স্টাইল অভিনয় নিয়ে আলোচনা কখনো থেমে থাকেনি। এক সময় মডেলিং অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবেও উপস্থিত হতেন তিনি, যেখান থেকে আয় করতেন মোটা অঙ্কের টাকা।

    সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তার পাকিস্তান সফর। শোনা যায়, সে সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির একটি ব্যক্তিগত আয়োজনে অংশ নেন ঐশ্বরিয়া। তিনি ছিলেন ঐশ্বরিয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত এবং নিজ উদ্যোগে অভিনেত্রীকে সেই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানান।

    ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঐশ্বরিয়ার সেই এক রাতের উপস্থিতির জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। যদিও এই দাবির কোনো প্রামাণ্য তথ্য আজও প্রকাশ পায়নি, এবং নিয়ে ঐশ্বরিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে এই খবর একসময় ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেই গণমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলে। অনেকেই একে গুজব বললেও, আবার অনেকে বলছেন এটি তারকা-ভক্ত সংযোগের এক চূড়ান্ত উদাহরণ।

    বর্তমানে ঐশ্বরিয়া বেছে বেছে কাজ করেন এবং জনসম্মুখে খুব একটা দেখা যায় না। তবে পুরনো এই ঘটনা আজও ইন্টারনেটে মাঝে মধ্যেই উঠে আসে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

  • কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    এবিএনএ:  কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার জেরে সীমান্তে শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন, যার মধ্যে পাকিস্তানে প্রাণ গেছে ২৬ জনের এবং ভারতে ১৫ জনের।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের চালানো বিমান হামলায় পাকিস্তানের ছয়টি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। তিনি জানান, “ভারতের বর্বরোচিত হামলা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”

    এই হামলার জবাবে বুধবার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং মেন্ধার এলাকায় পাকিস্তান চালায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, ঘটনায় ভারতে মারা গেছেন ১৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং আহত হয়েছেন ৪৩ জন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সারা রাত ধরে গোলার শব্দে আতঙ্কে ঘুমাতে পারেননি তারা। পুঞ্চের একজন স্থানীয় সাংবাদিক জামরুদ মুঘল জানান, “রাতভর বড় বড় বিস্ফোরণ হচ্ছিল। মানুষ ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। হাসপাতাল এখন আহত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ।”

    গোলার আঘাতে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দু’দেশের সেনারা প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

    এই ঘটনাগুলি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কাশ্মীর ইস্যুকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের উত্তপ্ত সম্পর্কের দিকে।